পথেই হবে যে পথ চেনা

লিখেছেন শবনম সুরিতা।

 


মঞ্চের আলো জ্বলতেই দেখা গেল কালো জামা পরা কিছু মানুষ সারি সারি দাঁড়িয়ে। হাতে ধরা নোটেশান। তাদের সামনে পাতা চেয়ারে বসে আছেন একগুচ্ছ যন্ত্রশিল্পী। কারো কাঁধে বেহালা, সামনে দাঁড় করানো চেলো বা হার্প। দর্শকের দিকে পেছন ফিরে আছেন লিকলিকে কাঠি হাতে এক স্যুটপরিহিত ব্যক্তি। ওই কাঠির নাচনেই গলার পর্দা কাঁপবে, চেলো বাজবে এবার। পুরো বিষয়টা ঘটছে এলব ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার মঞ্চে।

এলব ফিলহারমোনি, জার্মানির হামবুর্গ শহরের অন্যতম আকর্ষণ। বিশ্বখ্যাত এই সঙ্গীতগৃহে ঢোকার অনুমতি পান তেমন মানুষের সংখ্যা যদিও খুব একটা বেশি নয়। আকাশছোঁয়া প্রবেশমূল্যের সাথে সাথে এলব ফিলহারমোনিকের পরিবেশনা শুনতে ঝালিয়ে নিতে হয় ক্ষমতার সাথে সম্পর্কও। ক্ষমতাশালী বন্ধু ও ভারী পকেট থাকলে আপনার সঙ্গীতচর্চার জগৎ থেকে এলবকে দূরে সরিয়ে রাখে এমন ক্ষমতা কারো নেই।
কিছুদিন আগে জুলাই মাসে এলব ফিলহারমোনির হলঘর ভরে উঠেছিল এমনই বেশ কিছু ভারী পকেটওয়ালাদের ভিড়ে। সঙ্গীত কতটা বোঝেন তারা সে বিষয়ে ধারনা না থাকলেও, ক্ষমতার দৌড়ে সারা পৃথিবীর ৯৯% মানুষ তাদের ট্যাঁকের গোলাম। গোলাম না হয়েই বা কী উপায় ছিল এতদিন। অন্তত এমনটাই ভেবে এসেছিলাম আমরা সবাই। এমনটাই আমাদের বোঝানো হয়েছিল।

কিন্ত এমনটা হলো না। বেহালা বাজল। সম্রাট নিরো নীরবে দেখলেন।


বর্তমান সময়ের রাজনীতির, অর্থনীতির দিক নির্ধারণ করবার কথা ছিল জার্মানির হামবুর্গ শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বসেরা ২০টি দেশের ‘জি২০’ নামক মিটিঙে। কথা ছিল সারা বিশ্বকে ভাবিয়ে তোলে এমন সব বিষয়ে আলোচনা হবে, যেমন দারিদ্র্য, নারীমুক্তি, উন্নয়ন, শরণার্থী সমস্যা ইত্যাদি। ফি বছর অন্তত একবার একত্রিত হন বিশ্বের প্রথম সারীর কুড়িটি অর্থনীতির নেতৃবৃন্দ। ২০১৭ সালে দ্বাদশ জি২০ সম্মেলন আয়োজিত হয় উত্তর জার্মানির বন্দরশহর, হামবুর্গে, যেখানে উপস্থিতি ঘোষণা করেন চীনের শি জিনপিং, ভারতের নরেন্দ্র মোদী থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমুখেরা এবং সম্মেলনসংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ একদম অন্য মাত্রা ধারণ করে। বিগত বছরিগুলিতে যতবারই জি২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, প্রায় প্রতিবারই সংগঠিত হয়েছে এর বিপরীতে নানা রকমের প্রতিবাদ্দ কর্মসূচী। এর কারনেই হয়ত চীনে আয়োজিত ২০১৬’র জি২০ সম্মেলনে অন্যতম আলোচ্য বিষয় ধার্য হয় বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা বিশ্বায়নবিরোধী আন্দোলনগুলিও। কিন্ত এবারের সম্মেলনের সামনে বিক্ষোভের মাত্রা ছিল একদম ভিন্ন। ছোট, সীমিত অঙ্গনের মধ্যে বাঁধা না থেকে হামবুর্গ শহরে এসে জমতে থাকেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিবাদী স্বর। পরিবেশবিরোধী ব্যবসা, বিভিন্ন দেশের খনিজ সম্পত্তির আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সাথে সাথে উঠে আসতে থাকে আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে জমে থাকা একপেশে উদারতার ক্ষোভ। শুধু তাই নয়, নয়া উদারনীতির ফলস্বরূপ যে অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্র এত বছর ধরে গরীব বা মাঝারি শ্রেণীর অর্থনীতিগুলির বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে, হামবুর্গ এর সাথে যুক্ত করে দেয় বিশ্বব্যাপী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা দক্ষিণপন্থা, বর্ণবাদকেও। রাস্তায় নামা লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদী গান, কবিতা, শরীর, শ্লোগান ট্রাম্প-মোদী-এরদোয়ান-জিনপিং ব্রিগেডের শেখানো ‘উন্নয়ন’কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।

জুলাই মাসের হামবুর্গ চায়নি দেয়ালতোলা ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই মাটিতে নামুক, যেখানে শতাধিক হিটলার-বিরোধী যোদ্ধারা সসম্মানে শায়িত। এঙ্গেলা মার্কেল যতই গলাগলি করুন না কেন, হামবুর্গের মানুষ এরদোয়ান থেকে মোদী, সৌদী আরবের বাদশা থেকে শি জিনপিং- কারো দাদাগিরি মাথা পেতে মেনে নেয়নি। তারা শান্তি চায়- মানুষে, দেশে। তারা সৌহার্দ্য চায়- মানবতার সাথে প্রকৃতির। তারা মুক্তি চায়- নারীর, ক্ষমতাচ্যুতের।

দশ লক্ষ জনসংখ্যার শহর হামবুর্গ সেদিন প্রতি মুহুর্তে কেঁপে কেঁপে উঠছিল দু’লক্ষ মানুষের সমবেত প্রশ্নের উচ্চারণে। আর কিছু না হোক, জুলাই মাসের হামবুর্গ অন্তত এটা প্রমাণ করতে পেরেছে যে, মানুষের সংগঠিত বিরুদ্ধশক্তিরা আসলে সঠিক প্রশ্নের সম্মুখে এখনও কতটা ভীত, ঠুনকো।

হামবুর্গ তার ইতিহাসের মান রেখেছে।


জার্মানদের নিয়ে অ-জার্মানরা সাধারণত বেশ হাসাহাসিই করে থাকে। সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সাথে আড্ডা দেবার জন্যেও যে জাতি কমপক্ষে তিন মাস আগে থেকে দিনক্ষণ দেখে রাখে, তাকে নিয়ে চিরকালের লেটমাস্টার বাঙালিরও হাসি পায়। এমনই এক নিয়ম মেনে চলা, ঘড়ির কাঁটার সাথে নিঃশ্বাস মিলিয়ে চলা একটি ছেলে। ধরা যাক তার নাম ইয়ান। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্র, দিনের শেষে একটি পাবে কাজ করে। অন্যান্য ২৩-২৪ বছরের ছেলেমেয়েদের মত ইয়ানের জীবনও নিয়ম মেনে পড়াশোনা, আড্ডা-ফুর্তি যুগিয়ে যায়। একটাই তফাৎ, চারপাশে ক্ষয়ে যেতে থাকা পৃথিবী নিয়ে ইয়ান আর দশটা ছেলেমেয়ের চেয়ে কিঞ্চিৎ বেশি ভাবিত এবং সে কারণেই ইয়ান ভেগান জীবনালম্বী। ইয়ানের সাথে রয়েছে আনা। গ্রীসের একটি ছোট্ট শহর অ্যাটিকি থেকে ইতিহাস পড়তে এসেছে জার্মানিতে সে। স্কুলপড়ুয়া আনা’র জীবনের বেশীর ভাগ অংশ জুড়েই ছিল দারিদ্র, হতাশা। আবার দিন শেষে সেই হতাশা পেরোনোর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়া। একদিন সকালে ঘুম ভেঙে আনা আবিষ্কার করে বাড়ির দেওয়ালে তার মা কী যেন আঁকছে। ঠাহর করে পড়ল আনা, দেওয়ালে লেখা ‘অক্সি’ কথ্য গ্রীকভাষায় যার অর্থ ‘না’। কাকে ‘না’ বলছিল সেদিন তার মা? বা ধরা যাক ভারতবর্ষের ছাত্র আহমদের কথা। নিছক পড়াশোনার খাতিরে দেশ ছাড়া আহমদ আজ দেশে ফিরতে ভয় পায়। আশৈশব বেড়ে ওঠার শহরটাকে আহমদের আজকাল বড্ড অচেনা ঠেকে। পাড়ার যে কাকুটি আগে ডেকে পুজোর খিচুড়ি দিত, আজ সেই তার বুড়ো মা-বাবাকে তাদের ভাড়ার ফ্যাট থেকে উৎখাত করতে দুবার ভাবেনা। সেই কাকুর ৪ বছরের মেয়ে আহমদকে আড়ালে পাকিস্তানি বলে ডাকে। দেশের খনিজ পদার্থ ও উন্নয়নপ্রকল্প নিয়ে গবেষণা করতে আসা আহমদ ভাবে, তার নাগরিকত্বের কোথায় ফাঁকি, পাসপোর্টের কোথায় দেশপ্রেমের স্ট্যাম্প মারা। ২০১৭’র জুলাই মাসে আনা, ইয়ানের সাথে হামবুর্গের রাস্তার প্রতিবাদ সমাবেশে দেখা হয় আহমদের। কথায় কথায় উঠে আসে জি২০’র আলাপ। মজার বিষয়, ইয়ান ধর্ম-যুদ্ধ নিয়ে ভাবিত নয়, আনা প্রবল মাংসপ্রেমী এবং আহমদের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা অর্থনীতি বিষয়ক জ্ঞান খুবই সীমিত অথচ তাদের নিজস্ব দৈনন্দিন হতাশা, প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে একই পথে নেমেছে তারা। তিনজনেই হেসে ওঠে, হাঁটতে থাকে।

অতি পরিচিত হামবুর্গ শহরকে রাতারাতি পাল্টাতে দেখছে তারা। শৌখিন কাঁচের দেওয়াল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে তাজা রঙ, তাতে লেখা- “They are 1%, We are 99%!” কারো বাড়ির বারান্দায় কাপড় মেলার দড়ি থেকে ঝুলছে অঙ্গীকার “Our World is Not for Sale!” যে শহর গতকাল অবধি ছিল আদ্যোপান্ত কাঁটায় কাঁটায় ঘড়ি মেলাবার মত নিয়মিত, নিয়ন্ত্রিত, আজ সেখানে চারদিক জুড়ে শুধু প্রশ্ন, মুক্তি। ইয়ানের সবুজ পৃথিবীর স্বপ্নের সাথে একাকার হয়ে গেছে আনা’র হেরে যাওয়া দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিচ্ছবি। একদিকে দেশপ্রেমের প্রমাণ ও অন্যদিকে দেশের খনিজ সম্পদ, পরিবেশকে বেচে দেওয়ার মত জাতীয়তাবাদ(!) আহমদের মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে একটি মিছিল। সামনে ধরা লাল ব্যানার, তাতে লেখা, “Krieg beginnt hier”, অর্থাৎ যুদ্ধ(বিপ্লব) এখান থেকেই শুরু।

গ্রীসের আনা, জার্মানির ইয়ান আর ভারতের আহমদ মিছিলে মিশে গেল। মিছিলে ওদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছে মেক্সিকোর আলবের্তা, যে তার ট্যাক্সের টাকায় ট্রাম্পকে কোন বৈষম্যের দেওয়াল গড়তে দেবেনা বলে পথে নেমেছে। তার ঠিক পেছনে আছে বাংলাদেশের আয়েশা, যার মা দিনে ১৮ ঘন্টা একটি বিদেশী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। আয়েশা চায় না তার মায়ের মত আরো হাজার হাজার মানুষের শোষণ হোক মার্কিন-ইউরোপীয় কোম্পানিগুলির হাতে। আনা চায় গ্রীসের অর্থনৈতিক মুক্তি, জি২০’র নেতাদের দাসত্ব থেকে মুক্তি। ইয়ান চায় পরিবেশ বিনাশকারী রাজনীতির হোতা জি২০’র নেতৃবৃন্দের জবাবদিহিতা। আহমদ নিজের দেশজ সম্পদ বিদেশী বাজারে বিক্রি হোক, তা চায় না। দেশবাসীর পরিবেশগত বিপদের বদলে তার নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠুক, আহমদ চায় না। মিছিলে হাঁটা মানুষগুলি না বুঝলেও অপরদিকে থাকা পুলিশ বুঝেছে যে ওই মিছিলটার এখন আর কোন রাষ্ট্র নেই, প্রশ্ন আছে। ওদের ঠেকাবার মত জোরালো অস্ত্র তাদের হাতে নেই মোটেও। জলকামান, টিয়ার গ্যাস, বন্দুকের রাবার গুলি- কিছুতেই দমছে না প্রশ্ন, শ্লোগান। পুলিশের ওপরওয়ালারা ভুলে গেছে এই মিছিলের কোনো বাজার নেই। ওদের বেচা যায় না।


এলব ফিলহারমোনির আশেপাশের অঞ্চলে বজ্রকঠিন পুলিশ প্রহরা। মাছিরও উপায় নেই সেই চক্রব্যূহ ভেদ করে দর্শকাসনে বসা ট্রাম্প-মোদীর কানের পাশে ভোঁ ভোঁ করে। মিছিল-মিটিং-মারামারি যা হচ্ছে সবই এল্ব ফিলহারমোনির মনোরম সঙ্গীতসন্ধ্যা থেকে বেশ অনেকটাই দূরে। ফিলহারমোনির থেকে খানিকটা এগোলেই মহাত্মা গান্ধী ব্র্যুকে (ব্রীজ), যার ওপারে বাজার, বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ। হামবুর্গ বিশ্বের অন্যতম কেতাদুরস্ত শহর, সমুদ্রের পাশে রংবেরঙের হরেক ক্যাফে। এমনই এক ক্যাফের বাইরে আচমকা একদল ছাইমাখা মানুষ ভিড় করলেন। কারো ছেঁড়া জুতো, তো কেউ পিঠের বোঝার ভারে নত। আপাদমস্তক রঙহীন কতগুলি বিবর্ণ মানুষ রাস্তার মাঝখানে ঠায় দাঁড়িয়ে পড়লেন। কিছু বুঝতে না পেরে এক পথচারী পাশের ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়টা কী? “আহা, বুঝলেন না? ক্যাপিটালিজম! জি২০! বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ২০টি দেশের যৌথ ফলাফল সারা বিশ্বের অগণিত জরাজীর্ণ, বিবর্ণ মানুষ, মানবজাতি!”

কে কতটা বুঝল জানিনা, কিন্ত আশ্চর্য বিষয়, আস্ত রাস্তা জুড়ে কেউ কোথাও এতটুকুও নড়ছে না। নড়তে পারছে না হয়ত। ছাইমাখা মানুষগুলির দৃষ্টির মতই প্রখর, ভাবলেশহীন থমথমে পরিবেশ। আশেপাশের সবকিছু স্তব্ধ হয়ে আছে। আর দূর থেকে ভেসে আসছে এলব ফিলহারমোনির ভেতর থেকে বেহালার সুর। আর কতগুলি দৃঢ় নিঃশ্বাসের আওয়াজ। প্রশ্নকর্তা ব্যক্তি দেখলেন ছাইমাখা মানুষগুলি জ্যান্ত! শ্বাসপ্রশ্বাসের জোরে তাদের বুক ওঠানামা করছে শুধু।
মাছির ভোঁ ভোঁ, মিছিলের কলতান সেই মূহুর্তে হামবুর্গে অবস্থিত বিশ্ব নেতাবর্গের কানে না পৌঁছলেও, সেদিনের নৈশব্দ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা শহরের প্রতিটা কোণে। আর এই নৈশব্দ হেরে যাওয়া নয়, ঝড়ের আগের প্রস্তুতিমাত্র।
অনেক দিন আগে পড়া এক ভারতীয় লেখিকার ক’টা লাইন মনে পড়ে যায় প্রশ্নকর্তা পথচারীর,
“Another world is not only possible, she is on her way. On a quiet day, I can hear her breathing.”
ভবিষ্যতের নিঃশ্বাস শুনতে শুনতে সেই পথচারী হাঁটতে থাকেন।

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

One Response to পথেই হবে যে পথ চেনা

  1. Joydeep samaddar বলেছেন:

    Just awesome tui satti Ekta osadharon moner Manus Na hole ebhabhe golpo Lekha ba bola jai Na khub khub bhalo thakis re

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s