আজগুবি নয়

ভূমিকা
আমাদের জন্ম থেকেই, কিংবা বলা ভালো, জন্মের আগে, অনেক আগে থেকেই আমরা ভাগ হয়ে গেছি। আমাদের দেশটা ভাগ হয়ে গেছে। ধর্মের বিভাজিকা রেখা আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকাকে ভাগ করে দেয় নানান খোপে। ভারতবর্ষ নামের এই দেশের কোনো এক ক্লাসরুমে আট বছরের শিশু তার সহপাঠীকে বলে, “তোদের দেশ তো পাকিস্তান।” এই আট বছরের শিশু আর তার সহপাঠী যে সমাজে বড় হয়ে উঠছে, উঠবে, সে সমাজ তাকে শিখিয়ে দেবে ধর্ম ছাড়াও বেঁচে থাকার মানে, শেখাবে ‘আমার দেশ’ বলেও আসলে কিছু হয় না – এইটুকুই তো চাওয়া। তার বদলে তারা দেখবে ষোলো বছরের কিশোর জুনায়েদ খুন হয়ে যাচ্ছে ট্রেনের কামরায়। দেখবে ফ্রিজের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে রাষ্ট্রের চোখ। রাষ্ট্রের চোখ টিফিন বাক্সতে, পোষাকে, সিলেবাসে, পরীক্ষার খাতায়, গানে, সিনেমায়, নাটকে। দেখবে একের পর এক তৈরি হচ্ছে ধূপগুড়ি, বাদুড়িয়া, পুরুলিয়া, চন্দননগর…
বাদুড়িয়া  (লিখেছেন সায়ন্তন সেন)
গত দেড়-দু’বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের একের-পর-এক শহর-গ্রাম-মফস্বলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটে চলেছে। এর মধ্যে কয়েকটি নিছকই উত্তেজনায় সীমাবদ্ধ না থেকে, বড়োসড়ো চেহারা নিয়েছে– যার সাম্প্রতিকতম নিদর্শন দেগঙ্গা, বাদুড়িয়া। বসিরহাট সাবডিভিশন।
ঘটনাটা একটু সহজ করে বুঝে দেখা যাক। এগারো ক্লাসের ছাত্র, শৌভিক সরকার, যার বয়স সতেরো বছর, নিবাস বাদুড়িয়া থানার মাগুরখালি গ্রামে, দোসরা জুলাই, রোব্বার, দু’হাজার সতেরো, ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট করে। আল্লা আর নবীর সঙ্গম দৃশ্য। শৌভিক সরকার, জানতে বাকি নেই, হিন্দু সংহতির কাছের মানুষ। তার ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয় অঞ্চলের স্থানীয় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। কিন্তু প্রামাণ্য সূত্রে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা খোদ কবুল করছেন, পুলিশ এসে তাদের ডিসপার্স করে দেয়। তারপর বাইরে থেকে আসা কিছু অচেনা মুখ, যারা ঠিক বাংলাভাষী নন, যারা বলেন মূলত হিন্দিতে আর ভাঙা-ভাঙা বাংলায়, শুরু করে ভাঙচুর। আগুন লাগান পুলিশের গাড়িতে।
ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে শৌভিক সরকার। ছ’তারিখ রাত নটা পঁয়ত্রিশে গীতা এস. কাপুর, বি জে পি মহিলা মোর্চার সহ-সভাপতি, এবং নরেন্দ্র মোদী যে হাতেগোণা কয়েকজনকে ট্যুইটারে ফলো করেন, তাঁদের একজন, “Souvik’s parents. Attacked with no fault of their’s. But they do not fall under the  #NotInMyName narrative. #HinduLivesMatter” লিখে একটি ছবি ট্যুইট করেন। ছবিটি নকল। দু’হাজার ষোলতে ধূলাগড় রায়টের সময় ঐ একই ছবি হিন্দু পরিবারের উপর আক্রমণের দৃষ্টান্ত হিসেবে ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। উল্লেখ থাক, ছবিটি আসলে বাংলাদেশের। বাংলাদেশে একটি হিন্দু পরিবারের উপরে আক্রমণের।
বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে, এ ধরণের মিথ্যা প্রচার চলতে থাকে ক্রমাগত। পাঁচই জুলাই, রাত নটা নাগাদ জনৈক ভবতোষ চ্যাটার্জি ফেসবুকে এক মহিলার শ্লীলতাহানীর ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখা হয়, “শান্তির পুত্র দের হাতে চলছে হিন্দু নারীর বস্ত্রহরণ।। স্হান (স্থান) বাদুড়িয়া”। ঐ ছবিটিই আবার বিজেপি, হরিয়ানার রাজ্য কার্যনির্বাহী সদস্য ভিজেতা মালিক শেয়ার করেন ইন্সটাগ্রামে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুসমাজের বিপন্নতার নজির হিসেবে। প্রমাণ হতে সময় লাগেনি, ছবিটি নকল। দু’হাজার চোদ্দ সালে তৈরি ‘অওরত খিলোনা নেহি’ নামক একটা ভোজপুরি সিনেমার দৃশ্য। প্রমাণ হলেই বা কী! ঘৃণা যা ছড়াবার ছড়িয়ে গেছে। ভবতোষ বাবু ছবিটি পুনরায় শেয়ার করেন। যদিও ভিজেতা মালিক ডিলিট করেন তাঁর ইন্সটাগ্রাম পোস্ট।
হিন্দু সংহতির নেতা তপন ঘোষের একের পর এক উস্কানিমূলক ফেসবুক পোস্ট করতে থাকেন। আপাত ভাবে, এখান থেকেই গল্পটা শুরু। জুলাই পাঁচ, দুপুর তিনটে বেজে পনেরো মিনিটে, এই তপন ঘোষ ফেসবুকে লেখেন– ফিরে এসেছে স্থিতাবস্থা। সাতজন দাঙ্গাবাজের মৃত্যুর বিনিময়েই নাকি শান্তি ফিরেছে বাদুড়িয়া সহ উপদ্রুত অঞ্চলে। এই তপন ঘোষই আবার ভোটের আগে  অঞ্চলের তৃণমূলীদের বলেন হিন্দু সংহতিতে যোগ দিতে, কেননা, তিনি মমতা ব্যানার্জিকে দশে সাত নম্বর দেন; তিনি “আপনাদের এবং দিদির পক্ষে”।
মনে রাখা দরকার, যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের জমিতে ফসল ফলিয়েছে হিন্দু সংহতি, বি জে পি, তা তৈরি হয়ে জামাত-ই-ইসলামি আর তৃণমূলের যৌথ প্রচেষ্টায়। শেখ হাসিনার সরকার ফেলতে, ববি হাকিমের হাত দিয়ে সারদায় প্রতারিত মানুষের টাকা পৌঁছেছিল জামাতের হাতে, আর তারই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাংলাদেশ থেকে তাড়া খেয়ে আসা জামাত গোষ্ঠী অঞ্চলে প্রচার করেছে তৃণমূলের হয়ে। তাই সাংবাদিক সম্মেলনে, দাঙ্গা-পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ওসব নিছক ‘ল অ্যান্ড অর্ডার’-এর সমস্যা। বলেছেন, ‘যাঁরা গোলমাল করছেন, তাঁদের অনেক প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছে”।
একদিকে জামাতের, আরেকদিকে হিন্দু সংহতি পরিকল্পনা মাফিক উত্তরোত্তর স্পষ্ট করেছে মেরুকরণ, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে বেড়েছে পারস্পরিক বিভেদ, সন্দেহ, অবিশ্বাস। বাদুড়িয়া কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বি জে পি, আর এস এস, হিন্দু সংহতি, বজরঙ দলের বিভিন্ন নেতা প্রায়শই ফেসবুকে যে সংবাদপত্রের রিপোর্ট পোস্ট করে থাকেন, সেই ‘দৈনিক যুগশঙ্খ’-এ, বাদুড়িয়ায় আগুন লাগার কয়েকদিন আগেই উঠে এসেছিল বাদুড়িয়ার নাম। ঈদের দিন বাদুড়িয়ায় পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো হয়েছে– এই তথ্য পরিবেশিত হয় ঈদের পরের দিন। যদিও, সাথে যে ছবিটি ছাপা হয়েছিল, সুকৌশলে তা দূর থেকে এমন ভাবেই তোলা, যাতে বোঝার উপায় থাকে না, সেটি পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা নাকি বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত সবুজ রঙের ত্রিকোণ নিশান। সংবাদপত্রে প্রকাশের পর এ খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরে নিমেষেই। আবার বলছি, এটা আগুন লাগার কয়েকদিন আগের ঘটনা।
এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই যে বাদুড়িয়া টার্গেট ছিল আগে থেকেই। ছিল তৈরি চিত্রনাট্য। বাদুড়িয়াকে গড়ে তোলা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে, ঘটিয়ে তোলা হয়েছে পরিকল্পনামাফিক। সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের স্বার্থে, মানুষে-মানুষে বিভেদ রচনার স্বার্থে। আসলে আমরা বাদুড়িয়া দেখিনি, আসলে, আমাদের বাদুড়িয়া দেখানো হয়েছে। অথচ অন্য আরেক বাদুড়িয়াও তো দেখেছি আমরা। চিত্রনাট্যহীন সত্যি বাদুড়িয়া।
ফজলুল হক আর কার্তিক ঘোষের বাদুড়িয়া। তাঁদের সন্তানদের বাদুড়িয়া। ফজলুল আর কার্তিক, দুজনেই মুরগির মাংসের ব্যবসা করেন। কী আশ্চর্য সমাপতন, কোনো চিত্রনাট্য ছাড়াই দু’জনেই দোকান বন্ধ করে ঘরে ফেরার পথে ঝামেলার মধ্যে পড়েন। ফজলুল হক আহত হন পুলিশের ছোঁড়া সেলে। আর কার্তিক ঘোষকে আক্রমণ করে একদল দাঙ্গাবাজ, যারা ধর্মে মুসলিম। মাথায় কোপ মেরে তাঁকে ছুঁড়ে ফেলা হয় পানাপুকুরে। বাবার চিকিত্সার সূত্রেই কার্তিক বাবুর ছেলে খোঁজ পেয়ে যান ফজলুল হকেরও। তারপর একই অ্যাম্বুলেন্সে কার্তিক আর ফজলুল আসেন আর জি করে, চিকিত্সার জন্য। দু’হাতে দু’জনের স্যালাইনের বোতল ধরে  রাখেন টানা কার্তিক ঘোষের ছেলে। ফজলুলের কোনো আত্মীয় তখন আসতে পারেননি। দায়িত্ব নিয়ে তাই কার্তিক বাবুর ছেলেই তাঁকে ভর্তি করেন ই এন টি বিভাগে। কার্তিক বাঁচেননি। বেঁচে গেছেন ফজলুল হক। এও আরেক বাদুড়িয়ার গল্প। পরিকল্পিত হিংসা, ঘৃণা, দ্বেষের পাশে, দাউদাউ আগুন আর ধ্বংসস্তূপের পাশে আলগোছে জেগে থাকে এই বাদুড়িয়া।
পুরুলিয়া  (লিখেছেন শুভময় মুখার্জি)
১০ই জুন, ২০১৭; সকালে বেরিয়েছি টুকটাক কাজে। পাড়াতে দেখি একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকান। পুলিশের ভ্যান চোখে পড়ল একটা। ইতস্তত জটলা কয়েকজনের। কিছু বুঝে উঠবার আগেই পাড়ার এক দোকানদার আমায় আটকে পাঠিয়ে দিল বাড়ি। বলল, শহরে হিন্দু-মুসলমান “রায়ট” লেগেছে। হতভম্ব বাড়ি ফিরে এলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, আমাদের এই শহর পুরুলিয়া, যা নাকি “শান্তির শহর” নামে পরিচিত, সেখানে রায়ট! অসহায় লাগছিল খুব। আতঙ্কিত লাগছিল। ভয় করছিল বেশ খানিকটা।
ছোট্ট শহর পুরুলিয়া; ঠিক শহর নয়, কার্যত আধা মফস্সল৷ আমি থাকি নীলকুঠিডাঙায়৷ নাম শুনেই ইতিহাস বোঝা যায়৷ পুরুলিয়া স্টেশনে নেমে পায়ে হেঁটে পাঁচ-সাত মিনিটে নীলকুঠিডাঙা৷ পূর্ব-পশ্চিম বরাবর সোজা রাস্তা৷ এস সি সিন্‌হা রোড৷ একটু এগিয়ে বাঁদিকে চলে যাবে পুরানো পুলিশ লাইন৷ সাইকেলের চাকা কয়েক পাক ঘুরতে না ঘুরতেই এ রাস্তা আানায় পৌঁছে দেবে কসাইমহল্লায়৷ এক্কেবারে মসজিদের সামনে৷ হিন্দু অধ্যুষিত পুরুলিয়া শহরের সবচেয়ে বড়ো দুটো পাড়ার একটা৷ এাপাড়ার ৯৫% মানুষই ধর্মে মুসলমান৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড লাগোয়া পুরুলিয়ায় বাঙালি-মুসলমানের সংখ্যা নিতান্তই কম৷ এই তথ্যটুকু ময়নাতদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে৷ যাইহোক, প্রথম যে মেইন রোডটা যেটা স্টেশন থেকে নীলকুঠিডাঙা হয়ে আসছিল, আমরা তাকে ছেড়ে বাঁদিকে ঢুকে গেলেও, রাস্তাটা সোজা গেছে৷ সোজা গিয়ে মানভূম স্পোটিং এ্যাসোসিয়েশনের বড়ো মাঠের বাউণ্ডারি ধাক্কা খেয়েছে৷ ওদিকে কসাই মহল্লা থেকে আসা বড়ো রাস্তা একটা মিশেছে৷ সেই রাস্তা এবার দক্ষিন থেকে চলে গেছে উত্তরের দিকে৷ স্টেডিয়ামকে বাঁ হাতে রেখে সামনে হাটের মোড়৷ বাঁদিকে রাস্তা গেছে জেলখানা মোড়, তামলি পাড়া, জেলা স্কুল মোড় থেকে বাঁদিকে টাটা রোড ধরে দুলমি, নডিহা, জামসেদপুর আর ডানদিকে পুরুলিয়া বাসস্ট্যাণ্ডে৷ হাটের মোড় থেকে ডানদিকের রাস্তা গেছে ডাক্তার ডাঙার মুখের সামনে দিয়ে বড়ো মসজিদ গোড়া, কাপড় গলি, ট্যাক্সি স্ট্যাণ্ড মোড় থেকে ডানদিকে চকবাজার, বাঁদিকে পুরুলিয়া বাসস্ট্যাণ্ড হয়ে ভাটবাঁধ, আর সোজা দশের বাঁধের মোড়, গাড়িখানা, আমলা পাড়া, অলঙ্গিডাঙ্গা৷ এসবেরই মাঝে এই ট্যাক্সিস্টাণ্ড মোড়ে দাঁড়ালে উত্তর-পশ্চিম থেকে বেশ হাওয়া আসে সাহেব বাঁধকে ছুঁয়ে৷ যদিও হাওয়া খাওয়ার ফুরসত নেই আমাদের৷ আমরা শহরের শরীরের একটা এবড়োখেবড়ো ধারনা দিতে চাইলাম যাতে পুরো অপরেশনটা বুঝতে খানিক সুবিধে হয়৷ আর কথাটা নেহাত জিওগ্রাফির না, ডেমোগ্রাফির৷ পুরুলিয়া শহরের জনবিন্যাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যাই বেশি৷ তাদের বেশিরভাগটাই বাঙালি৷ কাপড়গলি, চকবাজার আর তারও পাশের মধ্যবাজারে মাড়োয়াড়ি ও গুজরাটি মানুষের বাস৷ আর শহরজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিহারী জাতিসত্বার প্রতিনিধিদের সংখ্যা নেহাত কম নয়৷ শহরে শুধু কসাই মহল্লা, ডাক্তারডাঙার মতো পাড়া বৈ মহল্লাগুলিতেই নয়— সব পাড়াতেই ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ থাকেন৷ আর ওই ভাটবাঁধের দিকে শহরের প্রান্তে খ্রিস্ট ধর্মালম্বী বহু মানুষ রয়েছেন৷ এঁদের মধ্যে বাঙালি এবং মূলত বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাধান্যই বেশি যারা খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহন করেছিলেন ইতিহাসের কোনও বাঁক-মোড়ে৷ এরাঁ সকলে, আমরা সকলে মিলে গায়ে গায়ে লাগিয়েই থেকেছি এতদিন৷ স্বাভাবিক সরলতায়৷

কিন্তু, আমাদের এই একসাথে থাকার মধ্যেও, একটু ভালো করে লক্ষ করলেই বোঝার কথা, এই জটিল জনবিন্যাসে অগ্নিসংযোগ বড়ো কঠিন কাজ নয়৷ হয়তো একারণেই পুরুলিয়া শকুনের নজরে অনেকদিন ধরেই৷ যেবার বাবরি মসজিদ ভাঙতে আডবানির রথ গেলো অযোধ্যায়, সেবার রথ ঢুকতে চেয়েছিলো পাণ্ডব বর্জিত এই ভূভাগে৷ কিংবা শেষ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদির যে রথযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো সংঘের সদর দপ্তরে বসে সেই যাত্রাপথের সূচনার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিলো পুরুলিয়াকেই৷ এ জেলা, নির্দিষ্ট করে এই শহর টার্গেট হয়তো অনেকদিনের৷ তবে গত প্রায় দেড় বছরটা সত্যিই আস্তে আস্তে অথবা খুব দ্রুত পাল্টে যাওয়ার সময়৷ শান্ত নিরুপদ্রব পুরুলিয়ার মানুষ ধর্মপালনে অনাগ্রহী এমন দাবি কেউ করবে না৷ কিন্তু এখানে যে ধর্ম নিতে বিসেতর মাতামাতি, একথাও কেউ বলতে পারবে না৷ বিগত আঠারো-কুড়ি মাসে বাড়ির চৌকাঠের বাইরে ধর্মের বহর যেন বেড়ে উঠতে থাকে৷

শহরজুড়ে ধর্মীয় পরিচয়ের নিরিখে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে একটি সাধারণ পরিচিতির ঘেরাটোপে আটকে রাখার চেষ্টা৷

অর্থাৎ একটা দীর্ঘ সময় ধরে পুরুলিয়াজুড়ে একটা “আমরা” বানানোর কাজ চলছিলো৷”আমরা” যখন তৈরি হচ্ছিলো, নিজের নিয়মেই নির্মিত হচ্ছিলো “ওরা”-ও৷ ওরা মানে মুসলমান৷ ওরা মানে উর্দু জবান৷ মাথায় ফেজ টুপি৷ ওরা মানেই যুগপৎ ‘কাটা’ এবং ‘কট্টর’৷ ওরা মানে আফজল গুরু৷ কাশ্মীর, জঙ্গী৷ ওরা মানে মিরজাফর, পাকিস্তানের লোক৷ ওরা থাকে শহরের দক্ষিন দিক ঘেঁষে, কসাই মহল্লায়৷ আর এখানে বর্ডার, এই যে মেইন রোড থেকে বাঁদিকে ঢুকে গেছে যে পুরানো পুলিশ লাইন৷ পাশের পাড়ার মসজিদে রাতবিরেতে সার্জিকাল স্ট্রাইকের জন্য এরচেয়ে ভালো জায়গা আর কোথায়ই বা পাওয়া যায়? তাই এদিকটায় বাইকের টহল যেন বেশিই! আর কী সমাপতন “বজরঙ দল” দাপুটে নেতার বাড়িও এই পুরানো পুলিশ লাইনেই৷ কসাই মহল্লা ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই৷ আক্ষরিক অর্থেই ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে৷

কসাই মহল্লার কেউ কেউ দাবি করছেন, সে রাতে ঢিল ছোঁড়া হয়েছিলো মসজিদে৷ এদিকে কারও দাবি, সেরাতে মসজিদের দিক থেকে কিছু লোক এসে ভাঙচুর করেছিলো, আগুনও নাকি লাগিয়েছিলো বজরঙ দলের নেতার বাড়িতে৷ কেউ কেউ আবার বলছেন, ঢিল তো আদিতম হিংসার উপকরণ, একুশ শতকে আছে ফেসবুক৷ মসজিদের মাথায় বজরঙবলীর ছবি পোষ্ট করেই পুরানো পুলিশ লাইনের সেই দাপুটে নেতা মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে৷ পাল্টা দাবি, এর কয়েক দিন আগেই চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সময় জনৈক মুসলমান যুবকের ভারতবিরোধী এক অশালীন পোষ্ট থেকেই ঝামেলার সূত্রপাত৷ এর প্রতিক্রিয়াতেই দেশভক্তরা (যারা সকলেই শ্রীরামেরও ভক্ত) প্রতিবাদ করেন৷ থানায় অভিযোগ  করেন৷ তারপর নিজেরাই সে যুবককে খুঁজে বের করে মেরে নাক মুখ ফাটিয়ে দেয় সহজাত দেশাত্ববোধে৷ দেশের পুলিশ-প্রশাসনের ওপর আস্থা তাদের নেই৷ আইন তাই নিজেদেরই হাতে তুলে নিয়েই ক্ষান্ত নয় তারা, শহরজুড়ে মিছল বোরোয়৷ বিকেলবেলা ট্যাক্সিস্ট্যাণ্ড মোড়ে সভা করে যান খড়গপুরের বিধায়ক বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ৷ তার ট্রেন সন্ধেবেলা পুরুলিয়া স্টেশন ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘন্টাখানেকের মধ্যে বজরঙ দলের নেতার ফেসবুক পোষ্ট৷ তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় মুসলমানদের থানা ঘেরাও৷ নিশুতি রাতে শহরের এখানে ওখানে জটলা৷ গুজব৷ পাল্টা গুজব৷ পুরুলিয়া, এই পুরুলিয়া শহরেও, দাঙ্গা! Riot!

নীলকুঠি ডাঙা – পুরানো পুলিশ লাইন – কসাই মহল্লা অর্থাৎ শহরের খানিক দক্ষিণ দিক ঘেঁষে যে উত্তেজনা শুরু হয়েছিলো, মেইন রোড ধরে মধ্য ও উত্তরের দিকে যেতে তার সময় লাগেনি৷ স্টেডিয়ামকে বাঁ হাতে রেখে হাটের মোড় – আগুন জ্বলে সকালে সেখানে৷ বাঁদিকে জেলা স্কুল মোড়ে নাকি মার্ডার হয়েছে একজন! ডানদিকে ট্যাক্সিস্ট্যাণ্ডের মোড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে গেছেন স্বয়ং দিলীপ ঘোষ, আগের দিনই৷ থানার সামনে ও চকবাজার এলাকা গতরাতে মুসলমানদের বিক্ষোভের সময় থেকেই গরম৷ এখানে রাস্তার মাঝে, দিবালোকে, আগুন জ্বলতে থাকে৷ আর থাকে খানিক দূরে পুরুলিয়া বাসস্ট্যাণ্ড৷ তছনছ করা হয় সেখানে৷ পুরুলিয়ার এই দাঙ্গায় সফ্ট টার্গেট হয়ে যান বাসস্ট্যাণ্ড চকবাজার হাটের মোড়ের নীরিহ, গরিব ফল বিক্রেতারা যারা প্রায় সকলেই ধর্মে মুসলমান৷ সমস্ত ঠেলা উল্টে দেওয়া হয়৷ ক্ষতিগ্রস্ত হন টোটো চালকেরা, যারা অধিকাংশই ক’দিন আগেও রিক্সা চালাতেন৷ শহরে টোটো আমদানির পর রিক্সা থেকে উঠে গেছেন নতুন এই যানে৷ ভাঙচুর হয় গাড়ি৷ দোকানপাটও৷ যা হওয়া উচিৎ ছিলো না, তাই তাই হয় পুরুলিয়া শহরে৷

তারপর ১৪৪ কিংবা কার্ফু, গুজবগুলো ভ্যানিশ হয় আস্তে আস্তে৷ একটু একটু করে থিতিয়ে যায় পরিস্থিতি৷ অবশ্যই, আপাতভাবে৷ পথে ঘাটে আমাদের পাশে পাশে চলে আতঙ্ক, শহরের দুটো প্রধান মোড়ে দাউদাউ জ্বলে স্মৃতি, একটা মোড়ে মার্ডারের গুজব এখনও তাড়া করে আমাদের৷ তবু আমরা মানিয়ে নিচ্ছি আপাত শান্ত আবহাওয়ায়৷
চন্দননগর  (লিখেছেন ঐকতান দাশগুপ্ত)
“আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু” – সুমনের গানের এই লাইন আর বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী – গোটা দেশে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালানোর যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশের সরকার, তার থেকে বাদ পরেনি আমার জন্মস্থান চন্দননগর। হাওড়া থেকে ৩৩ কিলোমিটার, অর্থাৎ, ৫০ মিনিটের রেলপথ। গঙ্গার পশ্চিমে অবস্থিত চন্দননগর মূলত আবাসিক শহর হিসেবে পরিচিত। শহরের অতীত বলতে দাগ কাটার মতন কোনো ঘটনা নেই। স্বাধীনতার আগে গোটা ভারতবর্ষ ইংরেজদের অধীনে থাকলেও চন্দননগর ছিল ফরাসী উপনিবেশ। শহরের বেশ কিছু মানুষ আজও গর্ব করে বলে ফেলেন, “আমরা তো ফরাসীদের অধীনে ছিলাম”। জগদ্ধাত্রী পুজো, আলোক শিল্প আর জলভরা সন্দেশ – এই তিনটে হল বাইরের জগতের কাছে এই শহরের আইডেন্ট‌িফিকেশান মার্ক। তবে সম্প্রতি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা/দাঙ্গার ম্যাপ-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে চন্দননগর।
উর্দিবাজার, চুনাগলি, লালদীঘির ধার, পাদ্রিপাড়া, গোন্দলপাড়া – শহরের এই অঞ্চলগুলি হল হিন্দু-মুসলমান-খ্রিষ্টান সহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এবং বিশেষত সমাজের আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা শ্রমজীবী মানুষের বাসস্থান। ঈদ, বড়দিন, দুর্গা পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো – যে কোনো অনুষ্ঠানেই সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের স্বেচ্ছায় উৎসাহিত অংশগ্রহণ থাকত। হিন্দু, মুসলমান, বা যে কোনো ধর্মের মানুষই হতে পারতেন ঈদ উদযাপন কমিটি বা বারোয়ারির সম্পাদক/সভাপতি। কিন্তু এখন বাধ সেধেছে কিছু ঘটনা।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সাল থেকে, অর্থাৎ কেন্দ্রে বি জে পি ক্ষমতাসীন হওয়ার ঠিক এক বছর আগে। ২০১৩ সালে শহরের মানুষ প্রথম প্রত্যক্ষ করল রামনবমীর মিছিল, যা অতীতে কখনো ঘটে নি। ২০১৩ থেকে ২০১৬, টানা ৪ বছরের যে মহড়া, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল ১৬-র দুর্গাপুজোর বিসর্জন বা মহরমের মিছিলে। ১১-ই অক্টোবর। দুর্গা ভাসানের দিন। পরের দিন-ই মহরমের শোভাযাত্রা। অর্থাৎ, ১১ তারিখ প্রাক্‌-মহরম শোভাযাত্রার প্রস্তুতিপর্বও বটে। এমন ঘটনা বিরল নয়। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে বা চাঁদের অবস্থান অনুযায়ী ঈদ ও ভাসান একই দিনে থাকলেও শহরের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে অতীতে তা কখনো বিচলিত করেনি। যেমন ১৯৯৭। যেমন, গুজরাট দাঙ্গার সময়ে, অর্থাৎ ২০০২। উভয় সম্প্রদায়ের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিঘ্নিত হতে পারে – এমন কোনো উস্কানি ছিল না কখনো। হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী বিসর্জনের পাট সন্ধ্যে ৬-টার মধ্যে গুটিয়ে ফেলতে হবে। তা উপেক্ষা করেই ১১ তারিখ রাত ৯-টা পর্যন্ত চলে ভাসান। আমাদের সুপ্ত-সাম্প্রদায়িক প্রশাসনও এ ব্যাপারে মুখে কুলূপ এঁটে ছিলেন। প্রাক্‌-মহরম শোভাযাত্রা এবং বিসর্জন মুখোমুখি হওয়ায় কিছুটা উত্তেজনা তৈরী হলেও তা বেশিদূর গড়ায় নি যদিও। ওই দিন রাতে শহরের উর্দিবাজার এলাকায় মদ্যপ কিছু যুবক “মজলি” নামক একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে খাবার খেয়ে পয়সা না দিয়ে দোকানের কাঁচ ভেঙে দেয়। এই জুলুমবাজির পর, ওই মদ্যপেরা (যাদের মধ্যে ছিলো কিছু দাগী আসামী) লালদীঘির ধার সংলগ্ন হরিজন পল্লী এলাকায় মধ্যরাতে আরো কিছু দোকান ভাঙচুর করে। মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি এই এলাকায়। বলে রাখা জরুরি, যে যুবকেরা এই ভাঙচুরে ছিল শামিল, তারা সন্ধ্যেবেলা প্রাক্‌-মহরম শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিল। মিছিলে হাঁটা এবং অতঃপর ভাঙচুর, এই দুটি ঘটনাই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি, এবং, পরের দিন মহরমের শোভাযাত্রা বন্ধ করা। দুর্ভাগ্যজনক যে তাতে সফলও হয়েছিলো দাঙ্গাবাজরা। এরপরেই গুজব ছড়িয়ে গেলো – অন্য সম্প্রদায় নাকি প্রাক্‌-মহরম শোভাযাত্রায় দোকান ভাঙচুর করেছে। ১২ তারিখ সকালবেলা ওই ঘটনা জানাজানি হতেই শহরে উত্তেজনা ছড়ায়। সেদিন সকালেই এস ডি ও সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে মহরমের শোভাযাত্রা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। জি টি রোড সংলগ্ন লক্ষীগঞ্জ বাজার থেকে তালডাঙা (চন্দননগর ও চুঁচুড়া-র সংযোগস্থল) অব্দি বেশ কিছু দোকান ভাঙচুর ও লুঠপাট হয়। বেছে বেছে মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষগুলির দোকানেই চলে ভাঙচুর। “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি, রাস্তায় কাঁচের টুকরো, অটো-রিক্সা-টোটো ভাঙচুর, টায়ার পোড়ানো – তাণ্ডব চলে প্রায় রাত ৮টা পর্যন্ত।

৯-ই অক্টোবর অর্থাৎ অষ্টমীর রাতে চন্দননগর স্ট্র‍্যান্ড রোডে ১০-১২ জন মোটরবাইক আরোহী, উন্মত্ত ও মদ্যপ অবস্থায় “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি দিয়ে বিশেষ ধর্ম সম্প্রদায় সম্পর্কে বিভিন্ন উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। ১২ তারিখ সকালে হরিজন পল্লী এলাকায় দলিত সম্প্রদায়ের হিন্দুদের সাথে মুসলমান সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের যে সংঘাত ঘটে তার মূলে ছিল উচ্চ বর্ণের হিন্দু বড়োলোকদের উস্কানি। এর পরে লক্ষীগঞ্জ বাজারের প্রত্যহ যে সব্জি বিক্রেতা, তাদের বসতে বাধা দেওয়া হয় কারণ তারা মুসলমান। যথারীতি ১৪ এবং ১৫ তারিখেও একই ঘটনা ঘটে।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য পুলিশ উভয় সম্প্রদায়ের প্রায় পঁচিশ জনকে গ্রেপ্তার করে। তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলী জেলার সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত সহ বেশ কিছু তৃণমূল নেতা প্রশাসনের নির্দেশ লঙ্ঘন করেই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষদের মহরমের শোকযাত্রা বের করার জন্য চাপ দিতে থাকে, এবং এও বলতে বলা হয় যে সেই সিদ্ধান্ত একান্তভাবেই তাদের নিজস্ব। এই মর্মে একটি লিখিত বয়ান দেওয়ার জন্যও তাদের চাপ দেওয়া হয়।

তৃণমূল এবং বিজেপির সাম্প্রদায়িকতার যে বিষ ছড়ানোর রাজনীতি, তারই সাক্ষী থাকল চশ্দননগর। ২০১৬-র এই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটলো গত ১৮ই জুন, ২০১৭। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা ও বাদানুবাদ। যা পরে হাতাহাতিতে পরিণত হয়। তবে স্থানিয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কিছু মানুষের প্রচেষ্টায় ঘটনাটি বড়ো আকার ধারণ করে নি।

শ্যামাপ্রসাদের হাত ধরে যে “বিষবৃক্ষ” বাংলার মাটিতে চাষ করতে পারেনি অতীতে তারাই বর্তমানে চাষের অনুকূল পরিবেশ পেয়ে মাথাচাড়া দিতে সক্ষম হচ্ছে। আপাতত গোটা রাজ্যে, চন্দননগরে, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রনে এলেও “ছাই চাপা আগুন” কোথাও একটা যেন থেকে যাচ্ছে। যে আগুন “ওরা – আমরা”-র বিভাজনের এই পথকেই প্রশস্ত করছে।

আসুন, সকলে সমস্বরে এই ঘৃণ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে চিৎকার করে বলে উঠি – “রুখে দাও ধর্ম নিয়ে রাজনীতি এই দেশটা জুড়ে, লালনের কসম তোমার স্বদেশ যাচ্ছে পুড়ে।”

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s