“Annihilation of Caste”: বৈষম্যের প্রতিকার

লিখেছেন বীথিকা সাহানা

Annihilation of Caste এর প্রস্তাবটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। প্রস্তাবটি জাত-পাত তোড়ক মন্ডলের লাহোর অধিবেশনে পাঠ করার জন্য আম্বেদকর তৈরি করেছিলেন। জাত-পাত নির্মূল করার সপক্ষে অমোঘ সব গবেষণালব্ধ যুক্তি এবং এই বৈষম্যের সমাধানই ছিল গোটা প্রস্তাবটির মূল বিষয়।

annihilation.jpg

১৯৩৬ সাল থেকে ৮০ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু দলিতদের সামাজিক অবস্থান প্রায় বদলায়নি বললেই চলে। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রস্তাবটির গুরুত্ব বেড়েছে। সময় এসেছে এই পুরনো অথচ মূল্যবান প্রস্তাবটিকে সামনে রেখে আমাদের সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থান গুলিকে আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়ার। আম্বেদকর প্রস্তাবটি শুরু করেছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের দলিত শোষণের একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে। ২০১৬ সালেও এই ছবিটা খুব বেশি বদলেছে কি?

Social networking সাইটে ব্যক্তিগত ছবি upload, Prisma D.P ইত্যাদির মাঝেও নিশ্চয় আপনার চোখে পড়েছে একটি পোস্ট, যেখানে Dalit Boy/Girl এবং BramhinBoy/ Girlএর তুলনামূলক সার্চ রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে।

Pokemon Go বা Subway Surfers খেলার মাঝে আপনি নিশ্চয় এই data গুলিও পড়ে দেখেন, যেমন, প্রতি ১৮ মিনিটে একজন দলিত হিংসার শিকার হয়। প্রতি সপ্তাহে ৬ জন দলিত অপহৃত হয়; ৩ জন দলিত নারী প্রতিদিন ধর্ষিতা হয়; প্রতিদিন ২৭ জন দলিত নানাভাবে হিংসার শিকার হয় (http:/www.ncdhr.org.in)। এছাড়াও  Vikash Pathak , G. Sampathএর রিপোর্ট অনুযায়ী , দলিতদের প্রতি হিংসায় এগিয়ে ইউ.পি, বিহার, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ইত্যাদি রাজ্যগুলি।

আপনার চোখে না পড়লেও, আপনি দেখতে না চাইলেও রোহিত ভেমুলাদের হত্যা বন্ধ থাকে না।

এই পরিস্থিতেই ২০১৬ সালে আম্বেদকরের যুক্তিসম্মত সমাধান গুলিকে আমরা আরেকবার পড়ে নিতে চেয়েছি। এক ধর্মের আওতায় এনে সমস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার মিথ্যা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আসল স্বরূপটিকে চিনে নিতে হবে আমাদেরই। বেদ, পুরাণ, মনুস্মৃতি, সদাচার থেকে তিনি নানান উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন হিন্দুধর্ম আসলে মানুষের মধ্যে জাতি, বর্ণ, খাদ্যাভাস(নিরামিষ নাকি আমিষ, গরু অথবা শুকর) ছোঁয়াছুঁয়ির নামে প্রকট বৈষম্যকেই প্রশ্রয় দিয়েছে মাত্র।শূদ্রদের থেকে শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে ; দেবতা রামেরা বারবার শম্বুকদের হত্যা করেছেন। শূদ্রদের জন্য শুধু রয়েছে অপমান, বঞ্চণা, শোষণ। বর্ণ ও জাতিভেদ ব্যবস্থার নীচের তলায় রাখা হয়েছে শুদ্রদের, রাখা হয়েছে প্রতিমূহুর্তে অপমানে, লাঞ্ছনায়, শোষণে, অত্যাচারে মাটিতে মিশিয়ে দেবার জন্য। আচ্ছা তাহলে কি চারবর্ণের মধ্যে উপরের তিনবর্ণ একে অপরের সঙ্গে খুব মিলেমিশে থাকে? বেদে পুরাণে ব্রাহ্মণ আর ক্ষত্রিয়দের বিরোধের কাহিনিও তো ভরপুর। বিশ্বামিত্র অথবা পরশুরাম এর গল্প আমরা সবাই জানি।

তাহলে নিশ্চয়ই ব্রাহ্মণরা আর ব্রাহ্মণরা, ক্ষত্রিয়রা আর ক্ষত্রিয়রা মিলেমিশে থাকে? এ প্রসঙ্গে একটা প্রবাদ মনে পড়ছে –

              কালো বামুন, কটা শূদ্দুর, বেঁটে মোছলমান।

              ঘরজামাই, পুষ্যিপুত্র, পাঁচ বেটাই সমান।।

       -অর্থাৎ কী না এদের বিশ্বাস করতে নেই। কারণ, উত্তর ভারতের বা দক্ষিণভারতের ব্রাহ্মণ তো এক নয় ( 5.2, Annihilation Of Caste)। আর কালো বামুন ফর্সা শূদ্র কেন ভরসাযোগ্য নয়?

কারণ তারা pure blood নয়। মানে racism এবং খাঁটিত্ব, সংকীর্ণজাতীয়তাবাদ সব এক হয়ে গেল। যদিও এরা হিন্দু নামক এক বিরাট ধর্মের আওতাতেই পড়ছে। কিন্তু কোনো স্তরেই সমতা স্থাপনে এই ব্যবস্থা অপারগ।

আম্বেদকর এই গুরুতর সমস্যার সমাধানের পথও বলেছেন- এক, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিনাশ। দুই, নানা বর্ণ জাতি ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পারিক বৈবাহিক সম্পর্কের সূত্রপাত। ১৯৩৬ সালে বলা এই সমাধানের উল্টো দিকে রয়েছে শাসকদল পরিপুষ্ট সাম্প্রতিক ‘লাভ-জিহাদ’-এর ধারণা।

১৯৩৬ সালেও তার এই সমাধান মেনে নেয়নি জাত-পাত-তোড়ক মণ্ডল। এই ধর্মকে নির্মূল করার বক্তব্যেই তারা বেঁকে বসে। সভাপতি হিসেবে নিমন্ত্রিত আম্বেদকরকে বক্তব্য বদলানর পরামর্শ দেয়। কিন্তু আম্বেদকর কোনো পদের লোভে তাঁর বক্তব্য থেকে এক চুলও নড়েননি। তার বিশ্বাস ছিল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বা তার বৈষম্য নয়, সমাজ চালিত হবে liberty, equality, fraternity- র মন্ত্রে। ভ্রাতৃত্ববোধই আসলে গণতন্ত্র। তাঁর মতে “Democracy is not merely a form of government. It is primarily a mode of associated living, of conjoint communicated experience.”তাঁর প্রস্তাবের শেষ অংশে (26.4)-এ তিনি বলেন, স্বাধীনতা, স্বরাজ, ‘আজাদি’-র কথা। কারণ সামাজিক রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার মানুষের লড়াইটা সবার আগে নিজের সঙ্গে। মানুষ নিজের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন না হলে, নিজের প্রতি বঞ্চনাকে চিনে উঠতে না পারলে, এত হাজার হাজার বছর ধরে চাপিয়ে দেওয়া হিন্দুত্বের hegemony-কে অস্বীকার করে প্রতিবাদ করা, স্বাধীনতা চাওয়া/ ‘আজাদি কি মাঙ্গ’ তার পক্ষে সম্ভব হবে না; তার দাসত্বের শৃঙ্খল ক্রমশই দৃঢ় হবে। প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দুধর্মের সঙ্গে আম্বেদকরের লড়াই আজীবন ধরে চলেছিল। এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে উনিশ শতকে যখন হিন্দুত্বপ্রধান জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়, ১৮৮৪ সালে বঙ্কিমচন্দ্র‘হিন্দুধর্ম’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। আদর্শহীনবাঙালি জাতির কাছে দেবতা কৃষ্ণকে তিনি নায়ক করে তুলতে চেয়েছিলেন। এই প্রবন্ধে তিনি বলেন- যদি কোনো ধার্মিক মহাভারতের কৃষ্ণের উপদেশ অনুযায়ী লোকহিতের জন্য মিথ্যা বলেন তাতে কোনো দোষ নেই। লোকহিতের জন্য বলা মিথ্যাও সত্য, আবার লোকের অনিষ্টকর সত্যও আসলে মিথ্যা।

সেই বছরেই সদ্য আদি ব্রাহ্মসমাজের সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ পাল্টা প্রবন্ধে এর প্রতিবাদ করেন- “ মনুষ্যত্বের যে বৃহত্তর আদর্শ আছে, তাহাকে যদি উপস্থিত আবশ্যকের অনুরোধে কোথাও কিছু সঙ্কীর্ণ করিয়া লও, তবে নিশ্চয়ই এখন হউক, আর বিলম্বে হউক, তাহার বিশুদ্ধতা সম্পুর্ণ নষ্ট হইয়া যাবে…। উদ্দেশ্য যতই বৃহৎ হউক না কেন, তাহা অপেক্ষা বৃহত্তর উদ্দেশ্য আছে।বৃহৎ উদ্দেশ্য সাধন করিতে গিয়া বৃহত্তর উদ্দেশ্যধ্বংস হইয়া যায় যে !…সমস্ত জাতিকে মিথ্যাচারণ করিতে শিখাইলে আজিকার মত একটা সুবিধার সুযোগ হইল কিন্তু তাহাকে যদি দৃঢ় সত্যানুরাগ শিখাইতে তাহা হইলে সে যে চিরদিনের মত মানুষ হইতে পারিত? …কোনোখানেই মিথ্যা সত্য হয় না। শ্রদ্ধাস্পদ বঙ্কিমবাবু বলিলেও হয় না। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বলিলেও হয় না”। ( “সমাজ”, ‘একটি পূরাতন কথা’, রবীন্দ্র রচনাবলী খণ্ড ৩০ বিশ্বভারতী, ১৪০৪)।

প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যমূলক ধর্মের বরণ করে, মানুষে মানুষে বিভেদ মেটানোর মিথ্যা আশা, বছরের পর বছর ধরে শোষিত, বঞ্চিত, অবহেলিত মানুষের দাসত্বকেই আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপনি বলবেন, তাহলে বর্তমান সংরক্ষণ ব্যাবস্থার ও তো একটা সমাধান দরকার? হ্যাঁ সমাধান আমরাই করতে পারি। আমরা সমস্ত সামাজিক অনুষ্ঠানে আচারে শুধুমাত্র ব্রাহ্মণত্বের কারণে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মান দেওয়া বন্ধ করতে পারি। আমাদের বন্ধ করতে হবে, ব্রাহ্মণ ভোজনে নৈবেদ্য আর কাঙালি ভোজনে পাতলা খিঁচুড়ি ঢেলে দেওয়ার অভ্যেস। আর আমরাই সরকারি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় যদি একবার সুবিধা নিয়ে থাকি তার পরবর্তী প্রজন্ম সেটা নিতে আস্বীকার করতে পারি (খুব সচেতন ভাবেই আমরা- ওরা বলছি না)। হাজার বছরের অভ্যেসটা বদলাতে স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের বেশি খাটতে হবে। সংরক্ষণ তো এই সেদিনকার ব্যবস্থা। প্রতিটা Gen, SC, ST নিয়ে post share করার আগে নিজের পরিবারের, পাড়ার বর্ণবৈষম্যমূলক অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করতে হবে। এইভাবে একদিন তর্কটা সমানে সমানে হবে যে কে বেশি সংরক্ষিত। তাই না?

সব ঘেঁটে যাচ্ছে। আরে দাঁড়ান দাঁড়ান ! ধর্ম-জাতিভেদ-বর্ণভেদ সব এক নাকি ? এর সঙ্গে racism বা খাঁটিত্ব, জাতীয়তাবাদের সম্পর্কই বা কোথায় ? কিছু চটকদার কথা বলে আসলে পরিচিতি পেতে চাইছেন? ‘হিন্দুধর্ম’ এতো খারাপ নাকি? অনেক ভাল কথাও তো আছে ?  ‘যথার্থ হিন্দুধর্ম’-এরকম বৈষম্য, শোষণে বিশ্বাসী একদমই নয়। ধর্ম ছাড়া অন্য বিকল্প কই ? সমাজ ধর্মবিশ্বাস ছাড়া চলতে পারে না, সম্ভব নাকি ?

স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নগুলো আপনার মনে আসতেই পারে, কিন্তু আপনি একা নন। আপনার শুনে ভাল লাগবে জাত-পাত তোড়ক মণ্ডলের যুক্তিগুলোও ছিল একইরকম। বঙ্কিমচন্দ্রও‘হিন্দুধর্ম’ প্রবন্ধে এই কথাগুলিই বলেছেন। আর গান্ধিজিও  ‘হরিজন’ পত্রিকায় Dr. Ambedkar’s Indictment 1 এবং ২ প্রবন্ধে একই প্রশ্ন তুলছিলেন। বিশ্বাস করতে বলছি না, পড়ে দেখুন।

আম্বেদকর গান্ধিজির প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তরও দিয়েছিলেন। সত্যিই তো গোটা ধর্মের সব কথাগুলিই তো খারাপ নয় কিছু কিছু ভালো কথাও আছে।  কিন্তু যে ভ্রাতৃত্ব, মৈত্রী, সমতার কথা শাস্ত্রের কোথাও কোথাও বলা আছে তা তো মানবিকতার আদর্শ। মানবধর্মই বড় কথা কোনো আচার, সংস্কার-কুসংস্কারনিষ্ঠ ধর্মের প্রয়োজন সত্যিই আছে কী? আর যতদিন প্রতি সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণের গুরুত্ব,তার ব্রাহ্মণত্বের কারণে থাকছে ততদিন পর্যন্ত সমাজে দলিতদের প্রতি অপমানের, অন্যায়ের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কারণ নিষ্ঠুরতায় অন্যকে ধ্বংস করা আর উদারতার ‘ভান’, দুটোই ভয়ঙ্কর। যখন সেই উদারতায় ‘অপর’-কে দয়া করার মনোভাব লুকিয়ে আছে নিজেকে ক্ষমতাশালী, প্রধান ভাবার মধ্য দিয়ে।

গান্ধিজি বৃত্তিনির্ভর বর্ণ ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। আম্বেদকর উত্তরে (5.3-6.1)বলেছিলেন – “To a slave his master may be better or worse. But there cannot be a good master.” তাই প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দুধর্মের নির্মূলকরণেই একমাত্র পথ।অরুন্ধতী রায়, Annihilation of Caste এর ভূমিকা লেখেন ২০১৪ সালে “The Doctor and the Saint” নামে। সেখানে গান্ধিজী আর আম্বেদকরের মতামতের তর্কটির বিশদে বর্ণনা আছে।

আমরা এ প্রসঙ্গে বরং আরেকবার রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ করব- গান্ধিজি বিহারের ভূমিকম্পের জন্য সেখানকার নিরপরাধ, দরিদ্র মানুষকে দায়ী করেছিলেন। তার প্রতিবাদ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ যার সঙ্গে বঙ্কিমের বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা আগে উল্লিখিত প্রবন্ধটির অনেকাংশে মিল পাবো। তিনি মহাত্মাকে লিখেছিলেন, সাময়িক লোকহিতের জন্য একজন সাধারণের নায়ক, পথপ্রদর্শক হিসেবে গান্ধিজির এরকম অবৈজ্ঞানিক মিথ্যা বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, উদ্দেশ্য যতই মহৎ হোক ব্যক্তির দৃষ্টিতে।

আমরা এতক্ষণ দলিতদের নিয়ে কথা বলেছি; ‘দলিত’ শব্দের উৎপত্তি মনে করা হয় বুদ্ধদেব ব্যবহৃত পালি ‘দলিদ্দ’ শব্দ থেকে। SamyuttaNikayaএবং AnguttaraNaikaya-তে আমরা ‘দরিদ্র’ বলতে ‘দলিদ্দ’ এবং ধনী বোঝাতে ‘গহপতি’ শব্দটি পাই। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ আসলে ‘দলিত’ সমাজের অন্তর্ভুক্ত। তাই দলিত প্রশ্নে বা দরিদ্র প্রশ্নে আমাদের জাতিভেদ, বর্ণভেদ-প্রভাবিত সামাজিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক অবস্থানকে মিলিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।সামজিকভেদাভেদ থেকে ‘আজাদি’ এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এই দুটোই নিম্নবর্গের মানুষের ক্ষেত্রে একই সঙ্গে কাম্য।

আম্বেদকর পরবর্তীকালে বৌদ্ধধর্মের আদর্শকে গ্রহণ করেন। কারণ তিনি মনে করতেন মুসলমানদের মধ্যে সিয়া, সুন্নি ,শেখ, সৈয়দ প্রভেদ; শিখদের মধ্যে জাঠ, রোডা, মাজবি, রামদাসি ইত্যাদির প্রভেদ এতো প্রকট নয়।আম্বেদকরের Annihilation of Caste শুরু হয় বুদ্ধের একটি বাণী দিয়ে- “Know truth as truth and untruth as untruth”।

কিন্তু আমরা আম্বেদকরের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত  হতে পারি না। বৌদ্ধধর্মেও হীনযানী, মহাযানী, সহজযানী, তন্ত্র-মন্ত্রযানীদেরপরষ্পরের মধ্যে বিরোধ আছে।শিখ, ইসলাম ইত্যাদি ধর্মেও তাই। পৃথিবীতে এমন কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নেই যার মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। সুতরাং বৈষম্য দূরীকরণে একক ধর্মের আওতা আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যা স্বর্গ। সেই রামরাজ্য যেখানে শম্বুক,বালিকে হত্যা করা হয় বিনা অপরাধে, সীতাদের আত্মহত্যা করতে হয়। জাতি-বর্ণ-লিঙ্গ বৈষম্য-এর সমাধান কোনো ধর্ম করতে পারে না। তাই আমরা সবিনয়ে প্রস্তাব করছি Annihilation Of Religion,( প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম অর্থে)। আর যা মানুষকে ধারণ করে রাখে তা হোক মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ। সকল শ্রেণীর নারী-পুরুষের সমতার স্বীকৃতি। কিন্তু এর জন্য এখন অনেকটা পথ পেরোতে হবে এ কথা সত্যি। কারণ, আমরা এমন একটা সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে নিজস্ব খাদ্যাভাস, মতামত প্রকাশ, জীবন-যাপনেই নেমে আসছে অবাঞ্ছিত ফতোয়া। সবার আগে সবাই মিলে এই চোখ রাঙানির বিরোধিতা করা, রাষ্ট্রের সন্ত্রাসকে রুখে দেওয়ার লড়াইটা সবচেয়ে জরুরি।

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

One Response to “Annihilation of Caste”: বৈষম্যের প্রতিকার

  1. পিংব্যাকঃ জুলাই-অগাস্ট ‘১৬ |

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s