যোগ বিয়োগের কাটাকুটি

‘ইতিহাস’ শব্দটা কানে এলেই, চোখে ভেসে ওঠে এইচ.এস বিল্ডিং-এর অফুরন্ত ক্লাসঘরটার কথা। আমাদের দিকে পিছন ঘুরে ব্ল্যাকবোর্ডে ঘ্যাঁসঘ্যাঁস করে কীসব লিখে চলেছেন মৃত্যুঞ্জয়বাবু! আর পেছনের বেঞ্চে, একদম পেছনের বেঞ্চে ডেস্কের তলায় হাত ঢুকিয়ে খৈনি বানাচ্ছে অরিজিৎ। পাশে আমি। মুখে হাত চাপা দিয়ে কথা বলে যাচ্ছি, তো বলেই যাচ্ছি! অনর্গল। অরি হাসছে, গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে। অরি’র কপালে ফুটে উঠছে দুশ্চিন্তার রেখা। ভুরুতে ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে হাসি। ‘ইতিহাস’ শব্দটা শুনলেই ওই ভুরু আর কপালের রেখা কিংবা ঢাউস ওই ক্লাসঘরের কথাই মনে আসে আমার। আর মনে আসে, মনে পড়ে সংযোগের জন্য সে কী ব্যাকুলতা! আকুপাকু লাগতো! কিন্তু এসব তো বলা যাবে না এখন। এইখানে এসব আবোলতাবোল লিখলে চলবে কেন? গুরুগম্ভীর এক বিষয় নিয়ে গাম্ভীর্যপূর্ণ বাতেলা দেওয়া উচিৎ, নিশ্চয়। দেখেননি ‘ইতিহাস’ নিয়ে যখনই আলোচনা, তর্ক, বিতর্ক, চর্চা প্রভৃতি হয়, তখন সকলেই সকলকে আড়চোখে দেখেন কেমন? জ্ঞানচর্চার যুগপৎ জটিল ও দুর্ভেদ্য বলয়ের ভেতরে শুধু কিছু সাল খেলা করে, খেলা করে এমন কিছু পরিভাষা –সাধারণ মানুষ যা থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন বোধ করতে বাধ্য হন। ইদানিং তো আমাদের চারপাশে এজাতীয় চর্চা কয়েকগুন বেড়ে গেছে। বেড়ে যাওয়াই উচিৎ। ভীষণ যুদ্ধে লেগেছে দুই দলে। অবশ্যই অসম যুদ্ধ। এক দলের হাতে তর্ক, প্রশ্নচিহ্ন, যুক্তি, প্রতিযুক্তি। প্রসঙ্গত এসবই বিভিন্ন তাত্ত্বিক পরিভাষায় মোড়া। আর অন্য দলের হাতে এর চাইতে অনেক শক্তিশালী হাতিয়ার… আবেগ, স্মৃতি, ধর্ম আর পুরাণ। এবং এসবই প্রচণ্ড আটপৌরে। স্বভাবতই সমাজের বেশিরভাগ মানুষ, নদীর জলের মতো সরল ভাষায় যারা কথা কয় –‘ইতিহাস’ বিষয়ে ‘বিশেষজ্ঞ’ নয় যারা –দ্বিতীয় দলটি অনায়াসে তাদেরকে নিজেদের দলে টেনে নিতে পারে। আর কার্যক্ষেত্রে যারা সাধারণ মানুষেরই পক্ষে, যুক্তি-তর্ক-রিজনের পক্ষে তারাই ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হতে থাকে ‘আম আদমি’র থেকে। একাকী হতে থাকে তারা নিজেরই মুদ্রাদোষে, এ বড়ো ট্র্যাজেডি!

এটুকু পড়েই পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, সমস্যাটা কোথায়। আমার মতো, আশৈশব-আকৈশোর ইতিহাস ক্লাসের অমনোযোগী ছাত্রদের পক্ষে ইতিহাস নিয়ে লিখতে যাওয়ার বিপদ কোথায়। ক্রমাগত এ গলি-ও গলি ঘুরতে ঘুরতে, এ লেখাও হয়তো গিয়ে পড়বে কানাগলিতেই! হয়তো এটুকু পড়েই  উঠে পড়বেন আপনিও! কথায় কথায় আমিই বা কোথায় গিয়ে পড়বো জানি না। তাই প্রথমেই তর্কে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টাটুকু বিসর্জন দেওয়া যাক। আসুন, আমরা নাহয় মেনে নিই, পুরাণই আমাদের ইতিহাস। আসুন আমরা নাহয় খানিক ঘুরে আসি পুরাণেরই শাখায় শাখায়…

যর্জুবেদীয় বৃহদারণ্যক উপনিষদ  জানাচ্ছেন, সৃষ্টির আগে কেউ কোথাও নেই। আছেন শুধু হিরণ্যগর্ভ। তিনি কে? তিনি তেমন কেউই নন। তিনি অহং (ego)। আত্মাও হতে পারেন। যাই হোন না কেন, তিনি একা। একদম একা। আর কেউ নেই। কিচ্ছু নেই। সৃষ্টিও নেই। সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে শুধু সেই অহং, মানে ‘আমি’ আছে। একা। বিলকুল একা। এই ‘আমি’ হঠাৎ নিজের একটি ‘দ্বিতীয় আত্মা’ দাবি করে বসলেন। কেন? উপনিষদ জানাচ্ছেন, একাকী সে নৈব নৈব রেমে! সোজা বাংলায়, একা একা সে খেলতে পারছিলো না। তাই ‘আমি’ দ্বিতীয় আরেকটি আত্মা চাইলেন। অহং চাইলেন অপর-কে। এখানেই একটা গণ্ডগোলের প্রশ্ন আছে। চাইলেন তো বুঝলাম, কিন্তু কার কাছে চাইলেন? ‘আমি’ তো একা! আর তো কেউই নেই! ‘আমি’ আসলে ‘আমি’র কাছেই চাইলেন। দ্বিতীয়ম্ঐচ্ছৎ । এবং ‘আমি’ নিজের মধ্যে থেকেই একটি অন্য ‘আমি’কে বের করলেন। চলে এলো – দ্বিতীয় আত্মা। আর যেই মাত্র না এলো, ভয় শুরু হলো ‘আমি’র। ‘আমি’কে গ্রাস করলো আতঙ্ক। কীসের ভয়? কীসের আতঙ্ক? এই যে দ্বিতীয় আত্মাটি যদি আমায় গিলে খেয়ে নেয়! যদি আমায় ঢেকে দেয়! যদি জানে মেরে ফেলে! মোদ্দা কথা, এইখান থেকে শুরু হয়ে গেলো, ‘আমি’র ‘আমিত্ব’ হারিয়ে ফেলার ভয়। অবলুপ্তির ভয়, মুছে যাওয়ার আশঙ্কা। আজকাল যাকে আমরা ‘মৃত্যুভয়’ বলে থাকি।

তাহলে গোটা ব্যাপারটা কী দাঁড়ালো? যখন কিছুই ছিলো না, ছিলো শুধু অহং। এই অহং ব্যতীত প্রথম যা জন্ম নিলো তা আর কিছুই নয়, নিখাদ অপর-এর সাথে সংযোগ স্থাপনের ইচ্ছে। আকুলতা। আমার কৈশোরের ইতিহাস ক্লাসের স্মৃতিও তো আদতে এই আকুলতারই স্মৃতি! আমাদের ‘ইতিহাস’-এর শুরুয়াতটাও অপরের সাথে, অন্যের সাথে সংযুক্ত হতে চাইবারই ইতিহাস নয় কি?

পুরো ব্যাপারটাকেই আজগুবি, আবোলতাবোল বলে উড়িয়ে দিতে পারেন যে কেউ। বিশেষত তারা, যারা পুরাণকে ‘ইতিহাস’ বলে চালানোর চেষ্টাটাকে নিছক গাঁজাখুরি মনে করেন। পুরাণেরও যে বস্তুগত ভিত্তি আছে, একথাই মানতে চান না যারা। তারা কী বলতে পারেন? ওসব হিরণ্যগর্ভ-টর্ভ নয়, ইতিহাসের কথা ঊঠলেই তারা হয়তো আলতামিরা কিংবা হরপ্পার দেওয়ালের দিকে তর্জনি তুলবেন। কী আঁকা, কী লেখা আছে পড়তে পারছো? পড়তে না পারার তো কথা নয়। স্পষ্ট হরফে ওখানে লেখা রয়েছে একজন মানুষের সাথে অপর মানুষের যোগাযোগ তৈরির আপ্রাণ চেষ্টার কথা। লেখা আছে সংযোগের আকুলতা। এই আকুলতা, এই তাগিদ থেকেই মানুষ বানিয়ে নিয়েছে নিজস্ব ভাষা। স্রেফ জগতকে জানবার জন্য নয়, জগতের সাথে একাত্ম হওয়ার তাগিদেই ভাষা সৃষ্টি। ঋকবেদের দশম সূক্তে বাক্‌ বা ভাষা নিয়ে এরকমের অনেক কথাই শোনা যাবে। শোনা যাবে, ভাষার পেছনে ক্রিয়াশীল অপরের সাথে মিলিত হওয়ার তাগিদের কথা। এসবই পুরাণসম্মত কথা, বিজ্ঞানসম্মত নয়। দারুন বস্তুবাদীরা তো আর এভাবে দেখবেন না ব্যাপারটাকে। কীভাবে দেখবেন তাঁরা? “Language is as old as consciousness, language is practical, real consciousness that exists for other men as well, and only therefore does it also exist for me; language, like consciousness, only arises from the need, the necessity of intercourse with other men.”… দি জার্মান ইডিওলজি  নামের বইতে বলছেন কার্ল মার্কস, ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস। ভাববাদই বলুন আর বস্তুবাদই বলুন, ব্যাখ্যা যতই আলাদা হোক, মোদ্দা কথাটা মিলে যাচ্ছে না কি? অপর মানুষের সাথে যুক্ত হতে চাওয়া –এটাই ভাষার আঁতের কথা। কিন্তু শুধুই কি যোগ? মানব সভ্যতার ইতিহাস হলো সেই চাকা যা অবিরাম গড়িয়ে চলেছে; ভাষা নির্মাণ সেই চাকায় প্রথম ঠেলা দিলো। ভাষা নির্মাণ –যা কিনা মানুষকে সংযুক্ত করলো অপরাপর মানুষের সাথে। আবার ভাষাই মানুষকে আলাদা করলো অন্য অন্য সমস্ত প্রাণীদের থেকে। প্রকৃতির থেকে। ভাষা আবিষ্কার একদিনে হয়নি নিশ্চয়। নিশ্চয় তা ছিলো বহু শতাব্দীর মনীষীর কাজ। ভাষার নির্মিতিকে সভ্যতার যাত্রারম্ভ চিহ্নিত করলে, বলতেই হবে, সভ্যতার ইতিহাস মানুষের সাথে মানুষের যুক্ত হতে চাইবার ইতিহাস। তবে ভুলে যাওয়া যাবে না, এ ইতিহাস এক অর্থে বিয়োগ হয়ে যাওয়ারও ইতিহাস। বৃহদারণ্যক উপনিষদের গল্পটায় ফিরে গেলে দেখবো, অহং-এর কাছে ‘যুক্ত হওয়ার তাগিদ’ আসার পর পরই এসে পৌঁছেছিলো ‘মুছে যাওয়ার ভয়’।  যোগ এলেই বিয়োগ এসে পড়লো। এ যেন বস্তু আর তার ছায়া! আমাদের ইতিহাস যোগ আর বিয়োগ চিহ্নের অবিরাম দ্বন্দ্বের ইতিহাস।

যোগ-বিয়োগের এই কাটাকুটি আমাদের ক্লাসঘরেও চলতো অবিরাম। অরিজিতের সাথে গল্পের চক্করে কখন যেন ছিঁড়ে যেতাম মৃত্যুঞ্জয়বাবুর পাঠ থেকে। সামনের বেঞ্চে বসা বন্ধুদের ক্লাসনোটস্‌ থেকে। যে ভাষা আমাদের যুক্ত করেছে অন্যান্য মানুষের সাথে, সেই ভাষাই কি কম বিয়োগ করেছে? মুখের ভাষায় পৃথিবীতে কত দেওয়াল উঠেছে মানুষে মানুষে। আমি যাকে বলেছি ‘জন্নত’, তাকেই আপনি নাম দিয়েছেন ‘স্বর্গপুরি’। আর ওই একটা জায়গাতে যাওয়ার জন্যই আমি বসিয়েছি আপনার পিঠে ছুরি, আপনি আমার মায়ের পেট থেকে ত্রিশূল শীর্ষে বিঁধে এনেছেন আমারই ভ্রূণ। টেবিলে ম্যাপ ফেলে বাবুরা ভাগ করে নিয়েছিলো এই দেশ, ওই দেশ। তারপর চৌকো আফ্রিকায় চামড়ার রঙে যত গণহত্যার ইতিহাস রচিত হয়েছে, জানি, ভাষার বিভেদে তার চেয়ে কম চাবুকের দাগ জমেনি। বিশ্বজুড়েই ঔপনিবেশিক শাসন চালানোর জন্য যে হাতিয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে শাসকের হাতে, ‘ভাষা’ তার অন্যতম। আর কলোনির মানুষ কখনো শিখেছে শাসকের ভাষাকে ঘৃণা করতে, তো কখনো নতজানু হয়েছে সে ভাষার সামনে। কখনো বা শাসকের ভাষা কেড়ে নিয়ে পাল্টা চাবুক মেরেছে সেই ভাষাতেই। লাতিন আমেরিকানরা পুরস্কার হিসেবেই গ্রহণ করেছে স্প্যানিশ। তাকে আরও মাধুর্য দিয়েছে। ভারতে আমরা ব্রিটিশ শাসকের ভাষায় শিখেছি গর্ব, মোঘল শাসকের ভাষাকে শিখেছি ঘেন্না করতে। দিল্লীর দেওয়ালে উর্দু হরফ দেখেই গেরুয়া রঙ লেপে দিয়েছি। মুছে দিয়েছি। সংযুক্তির হাতিয়ার ভাষাই কখন এভাবেই বিচ্ছিন্নতার অস্ত্র হয়ে উঠেছে। উপনিষদ  থেকে হাঁটতে হাঁটতে এইখানে এসে, মনে পড়ে যেতে পারে ওল্ড টেস্টামেন্ট-এর গল্পটা। পৃথিবীর মানুষেরা একসাথে বানিয়ে নিচ্ছিলেন এক টাওয়ার –যা কিনা স্ট্রেট স্বর্গে চলে যাবে। সন্ত্রস্ত দেবতা তখন কী করবেন ভাবতে ভাবতে, মোক্ষম চালটি চাললেন। সৃষ্টি করলেন অসংখ্য ভাষা আর সেসব দান করলেন মানুষকে। যেই মাত্র দুনিয়ার মানুষদের যোগাযোগের চিহ্নগুলি পারস্পরিক বোধগম্যতার বাইরে চলে গেলো, সাথে সাথেই তারা আর একে অন্যকে মনের ভাব বোঝাতে পারলেন না। একসাথে কাজ করা আর সম্ভব হলো না। স্বর্গগামী সিঁড়িটিও আর তৈরি হলো না। হয়তো তাতে নিরাপদে ভগবান নিদ্রা গেলেন, সেটা আসল কথা নয়। মূল কথাটা হলো মানুষ ছিন্ন হলো মানুষের থেকে। যোগের সাথে বিয়োগচিহ্নের কাটাকুটি খেলা জমে উঠলো ক্রমাগত।

ইতিহাসের শুরু থেকেই, বিয়োগচিহ্ন রয়েছে। পুরাণ কিংবা ধর্মাশ্রিত গালগল্পকে ‘ইতিহাস’ ধরে নিলে, আদম-ইভের স্বর্গচ্যুতি থেকেই মানুষের বিচ্ছিন্নতার শুরু। বিচ্ছিন্নতা ছিলো বলেই গ্রীক দর্শন, এবং আমাদের কানের কাছে যাকে ‘সনাতন ভারতীয় সংস্কৃতি’ বলা হচ্ছে সেখানেও বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নটি চলে এসেছে বারেবারে। অতিদূর সমুদ্রের ‘পর হাল ভেঙে যে নাবিক হারিয়েছিলো দিশা, যোগের আকুলতার সাথে সাথে, তারও ছিলো বিয়োগের ব্যথা। বৃহদারণ্যক উপনিষদ আত্মার ইতিহাস যেখান থেকেই বলুন না কেন, মানুষের ইতিহাস শুরু হয়েছে সেইদিন যেদিন সে নিজের খাদ্য, পানীয়, বাসস্থান, বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন করেছে। মৌলিক চাহিদা মেটার সাথে সাথে তৈরি হয়েছে নতুন চাহিদা। মানে শুধু চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনীয় দ্রব্যই নয়, মানুষ নতুন নতুন চাহিদাও উৎপাদন করেছে। জীবনধারণের সাথে সাথে নতুন জীবনও উৎপাদন করেছে সে সন্তানের জন্ম দিয়ে। মানুষের ইতিহাস এখান থেকেই শুরু। তিন রকমের উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এভাবেই মানুষ তার ইতিহাস বানাতে শুরু করেছে। সেই ইতিহাসের প্রথম পাতা থেকেই বিচ্ছিন্নতা আছে। কিন্তু পুঁজিবাদ শুধু পরিমাণে নয়, গুণগতভাবেই সেই বিচ্ছিন্নতাকে বাড়িয়েছে। পুঁজিবাদে শ্রমিক তার শ্রম-এর মাধ্যমে শুধু পণ্য উৎপাদনই করে না। ঘন্টার হিসেবে সে তার শ্রম বিক্রি করে মালিকের কাছে। ফলে ‘শ্রম’ নিজেই একটি বিক্রয়যোগ্য ‘পণ্য’তে পরিণত হয়ে যায়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা শ্রমিককে তার শ্রমের দ্বারা তৈরি জগৎ থেকেই বিচ্ছিন্ন করে দেয়। শ্রমিকটিকে তার শ্রম থেকেও বিচ্ছিন্ন করে। বিয়োগচিহ্নের জোর ক্রমশ বাড়তেই থাকে পুঁজিবাদের কল্যাণে। পরতে, পরতে সময়ের সাথে নিজের পোষাক পাল্টে নেওয়া পুঁজিবাদ বিযুক্তির মাত্রা বাড়াতেই থাকে। আমরাও আরও বেশি মাইনাস হয়ে পড়েছি, হয়ে পড়ি দিন-প্রতিদিন। নিজেকে নিজের মতো গুছিয়ে নিতে নিতে আমরা তো বাসে-ট্রেনে-হেডফোনে আরও কত বিয়োগ হয়েছি। টুকরো হয়েছি আরও কত পরিচয়ে –জাতি, ভাষা, লিঙ্গ, যৌনতা, পেশা, বর্ণ, ধর্মের ফেরে। এই টুকরো হয়ে যাওয়ার, ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কিন্তু আজকের নয়। সভ্যতার ইতিহাসই আদতে, আসলে বিচ্ছিন্নতার ইতিহাস।

 …এটুকু বলে থেমে গেলে অপরাধ হবে। আমরা দেখেছি, আমাদের ইতিহাস যোগচিহ্ন খুঁজে ফেরার অনন্ত অভিযান। এযাবৎকাল পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাস অন্য, অপর, অপরাপর মানুষের সাথে সংযুক্ত হওয়ার মরিয়া প্রয়াস। বিয়োগচিহ্ন শাসিত প্রতিবেশে যোগের জন্য প্রাণপন যুদ্ধের নাম ‘ইতিহাস’। মানুষের ইতিহাস দীর্ঘজীবী হোক।


লেখাটি লিখেছেন র

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s