বলিউডের কাশ্মীর-চিত্রনঃ নৈ:শব্দের রাজনীতি

এক

বলিউডের কাশ্মীর-চিত্রন, হ্যাঁ, শিরোনামেই এই লেখার বিষয়-নির্দেশ দেওয়া আছে ।অহেতুক ভূমিকায় কাজ কী, সরাসরি সমস্যায় ঢোকা যাক বরং।মুস্কিল হয়েছে কি, সামগ্রিক ভাবে বলিউড, হাতে গোনা কিছু ব্যতিক্রমী কাজ বাদ দিলে, ভারতবর্ষের অন্তর্গত একটা ভূখণ্ড হিসাবে কাশ্মীরকে যেভাবে দেখেছে বা দেখিয়েছে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি একপেশে এবং একদেশদর্শী বলেই মনে হয় ।কাশ্মীরের মানুষ, তাদের বিঘ্নিত নিরাপত্তা ও উপদ্রুত জীবন নিয়ে একটা সময়পর্ব পর্যন্ত বলিউড-বৃত্তের বাইরেই থেকেছেন, সন্দেহ নেই।বলিউড নিশ্চয়ই উপহার দিয়েছে আমাদের, “কাশ্মীর কি কলি”-র মতো সিনেমা, যেখানে কিনা কাশ্মীর কেবল রোমান্টিক গানের সিকোয়েন্স স্যুট্ করবার আধারমাত্র বৈ আর কিচ্ছু না ।ডাল লেকে, শিকারার উপরের দৃশ্যে ‘ফেরান’ আর গয়না-শোভিত তীব্র যৌবনের শর্মিলা ঠাকুর –তার লাস্য, রূপ, যৌবনে ভারতীয় দর্শকের মাথায় গেঁথে দিয়েছেন কাশ্মীরের একটা সুদিং ইমেজ ।সুদীর্ঘ চিনারের সারি, সবুজ ঘাস-বিছানো মখমলের মতো বিস্তৃত প্রান্তর –যে অপার সৌন্দর্যে প্রকৃতি ঢেলে সাজিয়েছে কাশ্মীরকে, তাকে ব্যবহার করেই বলিউড  বারবার গদগদ রোমান্সের ডালি হাতে নিয়ে উপস্থিত হয়েছে নানা বর্ণচ্ছটায় ।কেবল শর্মিলার শরম-ভরা লাস্য না, আমরা কাশ্মীরের নিসর্গের সামনেও একইভাবে হতচকিত দাঁড়িয়েছি, বিস্মিত হয়েছি, ভেবেছি “তারিফ করুঁ কেয়া উসকি, জিসনে তুমহে বানায়া” ।কী পাব আমরা এই কাশ্মীরে? একই আবহকল্প (আর্কেটাইপ)-এ একই চরিত্ররা ফিরে ফিরে আসবে বারবার, কখনও নৌকাচালক, কখনও প্রদর্শক যাদের কোনো নিজস্ব জীবন নেই, কখনও ছিল না যেন, নেই কোনো চাহিদা-আকাঙ্ক্ষা-দাবি-দাওয়া কেবল সমতল থেকে আসা বিলাসী নিসর্গ-পিয়াসীকে খুশি করা ছাড়া ।কাশ্মীরের মানুষ, কাশ্মীরের জীবন, কাশ্মীরের সমস্যা নিয়ে এ এক কুহকী নৈঃশব্দ বলিউডের ।কুহকী, কিন্তু ব্যাখ্যাতীত নয় ।যদিও সে আলোচনা ভিন্ন গোত্রের ।এমনকি, সিনেমার গল্পকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটা ব্যস্ত শহুরে জীবনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে কিনা নায়ক-নায়িকা কাটাবে তাদের বাকি বিবাহিত জীবন, “অতঃপর তাহারা সুখে-শান্তিতে” ইত্যাদি…. ।তাহলে কাশ্মীর মানে দাঁড়াল তো এই। তাহলে কাশ্মীর মানে বলিউডের চোখে একটা “পিকচার পোস্টকার্ড”! অথচ, মজার ব্যপার, স্বাধীনতার পর থেকে কাশ্মীরের অবস্থান(কেবল ‘ভৌগলিক’ না)গত সমস্যা, তার ভারত-অন্তর্ভূক্তি, কাশ্মীরের মানুষের আইডেন্টিটির সমস্যা,তাদের লড়াই এবং দীর্ঘ ও বিচিত্র অপ্রেসনের ইতিহাস –যা চলে আসছে সেই মুঘল আমল থেকে, সে ব্যাপারে বলিউড সাত চড়েও রা-কারে না ।এই নৈঃশব্দের পেছনে যে অনুভবের রাজনীতি, তাও এ নিবন্ধে আলোচ্য নয় ।কিন্তু এটাই ঘটেছে এবং ঘটছেও –এটুকু যেন মনে রাখি, যেন মনে রাখতে ভুলে না যাই ।মনে রাখি একথাও,  একটা বড়ো অংশের সিনেমাতে কাশ্মীরের আত্মপরিচয়ের সাথে ইসলামকে সম্পূর্ণ মিলিয়ে দ্যাখার চেষ্টা হয়েছে ।অথচ ইতিহাস আমাদের এমন কোনো লিনিয়ার ব্যাখ্যা শেখায়নি ।কাশ্মীরে যে সংমিশ্রিত ও খোলামুখ উদার ধর্মীয় সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল তিলে তিলে, তা হিন্দু ও বৌদ্ধ-প্রভাব মুক্ত নয় ।জি. এস. ডি. সুফি’র প্রামাণ্য গবেষণা-গ্রন্থ ‘কাশির’ বা কাশ্মিরী পন্ডিত ও ঐতিহাসিক মহম্মদ বিন ফক্-এর লেখায় আমরা সেই সযত্ন-লালিত সংমিশ্রণের ইতিহাস পাই ।যা আসলে কাশ্মিরী ধর্মমতের অন্য-নিরপেক্ষ মৌলিকত্বেরই সাক্ষ্য বহন করে ।

Kashmir_Ki_Kali_1964_film_poster

দুই

বেশ তো চলছিল এভাবেই ।কিন্তু গোল বাঁধল, যখন কাশ্মীরের চিত্রকল্পের পূর্বোল্লিখিত ও বহুলচর্চিত ছক ভেঙে মণিরত্নম বেরিয়ে এলেন উনিশশো বিরানব্বই-তে, “রোজা”-য় ।রোজা, নিসর্গের আরাম থেকে টেনে হিঁচড়ে দর্শককে নিয়ে এল সেই উপদ্রুত উপত্যকায়, যেখানে নায়ক-নায়িকার পুষ্পবিলাস কেবল নেই, আছে স্বাধীনতার জন্য জান-কবুল সশস্ত্র লড়াই ।উনিশশো তিরানব্বই-এ, “জাতীয় সংহতি”-র জন্য “রোজা” অ্যাওয়ার্ড পেলে ভারতীয় সিনেমা-দর্শকদের চৈতন্যে কাশ্মীরের জ্বলন্ত সমস্যাগুলো ছাপ ফেলে যাওয়ার পরিসর তৈরি হয় ।কাশ্মীর সম্পর্কে এক বিকল্প পাঠ, নয়া ভাষ্যের জন্ম হয় এখানে ।সিনেমার নায়ক-নায়িকা অরবিন্দ স্বামী ও মধু, পরস্পর স্বামী স্ত্রী।তারা তামিলিয়ান, ভারতীয় উপমহাদেশের একেবারে দক্ষিণ থেকে উত্তরের তুষারাবৃত পর্বতমালায় তাদের পরিযানের গল্প মণিরত্নমের সিনেমা-ভাবনাকে একটা বিস্তৃতির স্তরে পৌঁছে দেয় । অরবিন্দ স্বামী, ভারতেরই ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির অধীনে কর্মরত, আর মধু, ‘স্বামী’র স্ত্রী, যথার্থ স্বামীপরায়ণা, সরল ও স্নিগ্ধ । কাশ্মীরের সম্মোহনী নিসর্গের কাছে তার অসহায় আত্মসমর্পনে খুঁজে পাওয়া যায় তারই মতো আরও অসংখ্য মুগ্ধদৃষ্টি দর্শককে ।কিন্তু এই সিনেমায় উঠে আসে কাশ্মীরের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার ছবি, তাকে কেবল সিনিক বিউটি’র সম্মোহনে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না আর, আখ্যানের শরীরে মিশে থাকছে কাশ্মীরে্র রাষ্ট্রীয় খবরদারির বিবরণ ।নিসর্গের মায়া-যবনিকা, যা এতদিন সত্যিকার কাশ্মীরের সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম স্তরগুলোকে ঢেকে রেখেছিল –তাকে ছিঁড়ে ফেলে ক্রমশ উর্দিধারী সশস্ত্র মিলিটারি, ট্যাঙ্ক, সবমিলিয়ে একটা অচিত্কৃত কাতরতা আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে শ্রীনগরের শহুরে জীবনযাত্রায় ।মিলিটারি’র বুটের ঠোক্করে আরোপিত (শ্মশানের?) শান্তির সাথে কাশ্মীরের আমজনতার অবদমিত, ছাই-চাপা-আগুনের মতো ক্রোধ আর ঘৃণার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এই দ্বন্দ্বের পারদ চড়তে চড়তে তা শেষ পর্যন্ত একটা অদৃশ্য নামহীন পরিচয়হীন নো-ম্যানস্-ল্যান্ডে নির্বাসন দ্যায় কাশ্মীরকে, বলা ভালো, কাশ্মীরের সাধারণ মানুষকে ।”রোজা” একইসঙ্গে দেখায় সন্ত্রাসবাদীদের হিংস্র চেহারা, যা ভারত(রাষ্ট্র)-এর দিকে কেবল ঘৃণা ছুঁড়ে দ্যায় ।এই সেই ব্যক্তি, যার জন্য অগণিত সাহসী সৈন্য ‘ভারতমাতা’-র নামে জান কুরবান করেছে, এভাবেই প্যারালালি জাতীয়তাবাদেরও নয়া ভাষ্য তৈরি হয়, যার সাথে ভীষণ প্রাসঙ্গিক ভাবে জড়িয়ে থাকে দেশ-জোড়া গৈরিক রাজনীতির ক্রমপ্রসারণ ।এও এক অর্থে কাশ্মীরে (ভারতের) রাষ্ট্রীয় খবরদারিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচ্ছন্ন চেষ্টা যেন বা, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার-অভিযানের পক্ষে জনমত তৈরি হওয়ার কনটেক্সটে যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ।অরবিন্দ স্বামীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জ্বলন্ত তেরঙ্গাকে বাঁচানোর, কিছুতেই পুড়ে যেতে না দেওয়ার যে আকুল চেষ্টা (এবং অবশ্যই আবহে হরিহরণের কন্ঠে “ভারত হামকো জান সে পেয়ারা হ্যায়”), তা ভারতের নিদ্রোথ্থিত জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে থেকে যায়,যে চেতনা ভারতবিরোধী ‘অশুভ’ শক্তির দ্বারা আক্রান্ত।এই শক্তিই অখণ্ড ভারতের জাতীয় সংহতিকে চ্যালেঞ্জ জানায় চোখে চোখ রেখে ।সুসি থারু, তেজস্বিনী নীরাঞ্জনা, প্রমুখের মতে রোজা মুসলিম ‘অপর'(একটা সচেতন রাজনৈতিক নির্মাণ)-এর মুখোমুখি দাঁড় করায় হিন্দু পুরুষতন্ত্রকে, যা ভীতিপ্রদ, অতঃপর ভারত রাষ্ট্রের অখন্ড অস্তিত্বের প্রশ্নকেই কার্যত চ্যালেঞ্জ করতে থাকে বারবার ।’রোজা’ পরিবারের নবদম্পতির প্রতি হুমকির নজিরকে ফোকাস করে । যৌথ পরিবারের থেকে বেরিয়ে আসে অণু পরিবার , যা এক দুর্লভ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে পায় , অন্যদিকে যৌথ পরিবারের লাভের লাভ কিছুই হয় না, এই যুক্তির আলোয় রাষ্ট্রের ইসলাম দমনের প্রকল্পকে বৈধতা দেওয়া যায় কি? পঙ্কজ কাপুরের আদর্শবাদী প্রগতিশীল মুসলিম চরিত্রটি অবশ্য ছোট পরিসরে রাষ্ট্রীয় দমননীতির জাঁতাকলে পিষতে থাকা আম কাশ্মীরিদের অবস্থাকে বুঝতে কতকটা সাহায্য করে।কিন্তু ইসলাম ধর্মের ভিত্তিগত ভাবাদর্শের ব্যাখ্যা এবং ‘আজাদি’র জন্য তার আকুতিকে খুঁজে ফেরা হয়, কাশ্মীরের ভিন্নমত পোষনের সংস্কৃতিকে ঘিরে যে আদর্শগত বিতর্ক তার পুরোভূমি গঠনের চেষ্টাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে, হিংস্রতার নিরর্থকতা সম্পর্কিত একটা পক্ষপাতদুষ্ট ধারণার চোরাগলিতে ঢুকে।একজন আদর্শবাদী মুসলিমের এই মুখ বন্ধ করে দেওয়া বৃহত্তর ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ’ ভারতে ইসলামের মুখ বন্ধ করে রাখার হেজিমনির সাথে মিলে যায় ।

Roja-movie.jpg

রোজার সময় থেকে “মিশন কাশ্মীর” , “ফানা” এবং “ইয়াহাঁ” প্রভৃতি সিনেমাগুলোতে কাশ্মীরের যে চিত্রকল্প দ্যাখা যায় তা মোটামুটি ভাবে বিভিন্ন যুগ্ম সত্তার তিক্তমধুর  দ্বন্দ্ব। যেমন শান্তি-হিংস্রতা , রাজ্য-রাজ্যবাসী , দুষ্কৃতি-সৈন্য ,কাশ্মীরী-ভারতীয় , মুসলিম-হিন্দু –সামগ্রিক ভাবে শুভাশুভের  দ্বন্দ্বের স্মৃতিকে উস্কে দ্যায় অথবা পুনর্ব্যক্ত করে। এই চিত্রকল্পে মূলতঃ এই সমস্যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে কাশ্মীরের মত এক শান্তিপূর্ণ ও মনোরম জায়গা , তার যুবসমাজ কিছু ভারতবিরোধী , প্রধানত পাকিস্তানিদের দ্বারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ার কারণে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এই একপেশে ব্যাখ্যান চলতে থাকে ।কাশ্মীরের মানুষের আটপৌরে জীবন-সংগ্রাম, সন্ত্রস্ত মুখচ্ছবি, প্রতিদিনের গোপন রক্তপাত আর নিভৃত শুশ্রূষার ছবি, সেই সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় খবরদারির প্রশ্নটিও কোনও অজ্ঞাত কারণে বলিউডের ভাবনাকল্পে অবহেলিত থেকে যায় ।

তিন

বিশাল ভরদ্বাজের “হ্যায়দর” (২০১৪) কাশ্মীরের সত্যিকার নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটা মূলধারার প্রয়াস , যা অংশত বশরত্ পীর-এর ‘কার্ফ্যু নাইট’ এর উপর ভিত্তি করে তৈরি, একইসঙ্গে শেক্সপিয়রের “হ্যামলেট” থেকেও অনুপ্রাণিত ।বহু-বিচিত্র পথে কাশ্মীরের সামান্যিকৃত মনোস্তত্ত্বকে দরদী নির্দেশক যেন কিছু বাহ্যিক উপসর্গের মধ্যে ধরতে  চেষ্টা করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সেই আশ্চর্য দৃশ্যকল্প, যেখানে নিজেরই বাড়ির বার-দুয়ারে দাঁড়িয়ে কোনো অজ্ঞাত আশঙ্কায় ভেতরে ঢুকতে পারছেন না জনৈক প্রৌঢ়, কিছু পরে বোঝা যায় প্রতিপদে মিলিটারির সন্দিগ্ধ নজরদারিতে তিনি এতই অভ্যস্ত যে চেকিং ছাড়া নিজের বাড়িতেও ‘ট্রেস-পাস’ করতে পারেন না। সন্তান-হারা মায়েদের করুণ আর্তি, অগণিত ‘আধিবিধবা’র হাহাকার আর রাষ্ট্রের লাগামছাড়া ঔদাসিন্য ও প্রতারণার ছবি টুকরো টুকরো দৃশ্যের কোলাজে গেঁথেছেন ভরদ্বাজ।আফস্পা (আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট)-র স্পর্ধিত দম্ভ আর অকথ্য অত্যাচারে বিধ্বস্ত কাশ্মীরি জনজীবন নিপুন ভাবে ধরা দিয়েছে বিশালের লেন্সে।কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় দমন-নীতিকে টিকিয়ে রেখে তার সুবিধাভোগ করবার লোকের অভাব নেই, ক্ষমতা-লিপ্সু সেই শ্রেণির প্রতিনিধি পুলিশ-চিফ আর হ্যায়দর্-এর কাকা (কে. কে. মেনন অভিনীত)।যদিও হ্যামলেটের পূর্বসূত্রকে ধরে এন্তেকাম আর ক্ষমার দ্বন্দ্বে জর্জরিত হ্যায়দর। ভ্রাতৃঘাতী কাকার সামনে এসে সে বন্দুক ফেলে দ্যায় ।তবু তার মুখে অমোঘ এই সংলাপ, “পুরে কাশ্মীর ক্যায়েদখানা হ্যায় মেরে দোস্ত” আমাদের ভাবতে বাধ্য করে, যতদিন এই অতিনিয়ন্ত্রিত, কেন্দ্রায়িত, ক্ষমতালোলুপ, করোটি-শোভিত সভ্যতায় যাপিত হবে আমাদের বাঁচা, ততদিন কি বারবার জন্মে ঠিক আর ভুলের সংশয়ে বিক্ষত হতে হতে অপচয়িত মৃত্যু বরণ করতে হবে না হ্যায়দর-কে?

Haider_cover

 হ্যায়দরের আগে , অনিরের ফিল্ম সিরিজে “আই অ্যাম” কাশ্মীরি পন্ডিতদের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ একটা সংবেদনশীল সিনেমা।

চার

যদিও উপরোক্ত এই গোটা আলোচনাটাই কাশ্মীরের মূলধারার বলিউডি রিপ্রেজেন্টেশনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ,তবু উল্লেখ থাকা উচিত সঞ্জয় কাক এর মত তথ্যচিত্র পরিচালকের কথাও যিনি “জশন-এ-আজাদি” বানিয়েছিলেন, যা আজাদির প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ধারণা, কাশ্মীরি সমাজ , এবং কাশ্মীরের দীর্ঘকালব্যাপী সমস্যাগুলোর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক সম্পর্কিত গভীর বিশ্লেষণ। কাক কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবসম্মত উপস্থাপনের জন্য শহিদদের মরদেহ নিয়ে শোভাযাত্রা এবং কাশ্মীরি জনসমাজের বৃহত্তর অংশের, জেকেএলএফ লিডার ইয়াসিন মালিক ,বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক , সেনাবাহিনীর প্রধান , হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের বাবা মা , ভ্রমণকারী এবং অনেকের ইন্টারভিউ দ্যাখান। ফিকশনের বাইরে এই বাস্তবচিত্রের মধ্যে দিয়ে উঠে আসে কাশ্মীরের উপদ্রুত, সন্ত্রস্ত, যন্ত্রণাক্লিষ্ট সমাজজীবনের আঁখো দেখি বিবরণ, পপুলার বলিউড যাকে নৈঃশব্দের অন্তরালে ঢেকে দিতে চেয়েছে বারবার ।

Jashne-azadi-poster.jpg


লেখাটি লিখেছেন শ্রেয়া দত্ত।

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s