রোহিথ ভেমুলার মৃত্যু ও ছাত্ররাজনীতির ‘নেগেটিভ হ্যাল্যুসিনেশন’

“If hallucination means seeing ghosts and apparitions, that is something that is not there, reverse hallucination means not seeing what is there.”

এই লেখাটা মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে মাথায় রেখে লেখা, যেখানে আমি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লেখাপড়া করেছি ও যেখানে আমার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ‘প্রথম সবকিছু’র অভিজ্ঞতা হয়েছে।  যে কথাগুলি লিখতে চলেছি সেগুলো আমার মত Reserved Category’র ছাত্র এবং Reserved Category’র শিক্ষকরা অনেকেই হয়তো ভ্বেবেছেন ও অনুভবও করেছেন। তাঁরা হয়তো ‘নিজেদের’ মধ্যে এগুলো নিয়ে কথাও বলেছেন। তাঁদের কাছে কথাগুলো খুব একটা নতুন না-ও লাগতে পারে। যাঁরা Reserved Category’র ছাত্র বা শিক্ষক নন, তাঁদের কাছে লেখাটা ‘পরিচয়ের রাজনীতি’র প্রজ্ঞাপন বলে মনে হতে পারে। কোনো মনে হওয়াকে আমি নাকচ করছি না। শুধু আশা করছি, এই মনে হওয়াগুলোকে খানিকক্ষনের জন্য দূরে সরিয়ে রেখে আমি যা লিখতে চলেছি সেটা পড়বেন।

      কয়েকদিন আগের কথা। চলতি বছরের ১৭ই জানুয়ারি, হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতা রোহিথ ভেমুলা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোহিথ একজ দলিত গবেষক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু আমাদের ‘সেক্যুলারাইজড্‌’ ব্রাহ্মণ্যবাদের আরো একটা প্রমাণ। কিন্তু রোহিথের জাতিগত আত্মপরিচয়ের সাথে জড়িয়ে আছে আরো একটা পরিচয়। তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ASA’র – যা মূলত দলিত ছাত্রদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক সংগঠন – সদস্য ছিলেন তিনি। সংগঠনের মূল কাজ ছিল ইউনিভার্সিটি স্পেসকে (যেখানে ‘সেক্যুলারাইজড্‌’ ব্রাহ্মণ্যবাদ বিরাজমান) একটু একটু করে পরিবর্তন করা। এই পরিবর্তনের একটা মূল পন্থা বা হাতিয়ার ডক্টর বি. আর. আম্বেদকরের চিন্তা ও দর্শন, রাজনীতি ও শিক্ষানীতি; সেই ডক্টর আম্বেদকর যাঁকে আমাদের স্কুলের পাঠ্যবই কেবলমাত্র সংবিধানের রচয়িতা হিসেবে চিনতে শিখিয়েছে। এইখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে এইখানে কিন্তু বাম ও ডান দুইদলের সরকার ও রাজনীতি একই কাজ করেছেন এবং একে অপরকে সাহা্য্য করেছেন এই অভিভূতকারী অজ্ঞতাকে বহাল রাখতে। মূলত এই  “manufactured ignorance” কে সরানোর কাজ  Ambedkar Students Association করেছে। এইচ সি ইউ ছাড়া ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে ছাত্ররা নিজে থেকে Ambedkar Study Circle বা  Ambedkarite Students union বানিয়েছেন যেখানে দলিত ছাত্ররা রীতিমতো সংগ্রাম করে আম্বেদকারকে পুনরুজ্জীবীত করছেন। রোহিথ ভেমুলা ও তার আর পাঁচজন বন্ধুদের এই কারণেই ইউনিভার্সিটি বর্জন করে, তাদেরকে কোনঠাসা করে, যাকে আম্বেদকার বলেছেন ‘excommunication’ (“exiting from the right to communicate”)।

      ASA-র কাজগুলির নানাবিধ উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন ইউনিভার্সিটিতে রিজারভেশন পলিশি ফলো করা হচ্ছে কিনা সেই নিয়ে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে চাপে ফেলা। বা আমাদের খাবার টেবিলে কি থাকবে ও কি থাকবে না এবং কেন, তার ইতিহাস কী, এই নিয়ে ছাত্রদেরকে সংগঠিত করা। এই জাতীয় চর্চা ও ঘটনাগুলির গুরুত্ব এই যে এগুলি আমাদের consciousness-এ এমন কিছু ধারণা (concepts) ইন্‌জেক্ট করে যেগুলি আমাদের  “self knowledge” কে দুর্বল করে, ডিস্টেবিলাইজ করে। আমরা নিজেদেরকে, নিজেদের পরিচয়, ধারণক্ষমতা, যোগ্যতা, নিজেদের প্রগতিশীল সত্ত্বা ও নিজেদের আধুনিকতাকে যেভাবে বুঝে এসেছি, তার মাপকাঠি যেভাবে বানিয়েছি সেগুলিকে আবার নতুন চোখে দেখার সম্ভবনা তৈরি করে। যেহেতু এই ধারণা/কন্সেপ্টগুলি আমাদের সত্ত্বার দৃঢ়ীকরণকে একটু নাড়িয়ে দেয়, আমরা এই ধারণাগুলো থেকে পালিয়ে যেতে পারলে যেন বেঁচে যাই। উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। যেমন দলিত ছাত্র সংগঠন ও দলিত কন্সাসনেস দীর্ঘদিন ধরে ‘মেরিট’ নামক ফেনোমেনা-কে প্রশ্ন করে এসেছে। তারা বলছেন, ‘মেরিট’ শুধুমাত্র প্রিভিলেজেরই প্রোডাক্ট নয়, ‘মেরিট’কে এমনভাবে কনস্ট্রাক্ট করা হয়েছে যে দলিত ছাত্ররা বাই ডিফল্ট unworthy হয়ে যায়। এইখানে প্রোডাক্টের সাথে প্রেজুডিসও কাজ করে।

            কয়েকটিমাত্র শব্দ কিন্তু বাংলায় অনেক মানে দাঁড়ায়। যেমন  “privilege”; commonsensical understanding-এ আমরা privilege-কে  economic sense-এই দেখি। তাই প্রিভিলেজের কথা উঠলেই দু’ধরণের আরগুমেন্ট আসে। ১। গরিব হলেও, ইচ্ছে থাকলে মানুষ সবকিছু অর্জন করতে পারে। যেহেতু কলকাতায় এক বৃহৎ সংখ্যক উচ্চ বর্ণের মানুষ পার্টিশানের কারণে কিছুটা dispossessed হয়েছিলেন, তারা বলেন যে তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়া সত্বেও তারা এই দুর্বলতা transcend করতে পেরেছেন। এবং তারা যদি পারেন তাহলে অন্যরা পারবেন না কেন? এইখানে যেটা ভুলে যাওয়া হয় সেটা হচ্ছে “cultural capital”-এর গল্প। Literacy এবং উচ্চশিক্ষা, convent education ও সরকারি বা private চাকরি, এগুলো কিন্তু পার্টিশানের পরেও উচ্চবর্ণ হিন্দুদের হাতেই ছিলো। এগুলো তাদের part of self-definition, যেগুলি unchallenged রয়ে গেছে অনেকদিন। Caste capital যে মূলত cultural capital সেটাই লক্ষ করা হয় না। দ্বিতীয় argument হলো কেন privileged বলেই তাদেরকে এক ধরনের ‘সাজা’ দেওয়া হচ্ছে? এটা যেন একধরনের “reverse casteism” যেখানে আগে যারা শাসিত হয়েছে এখন তারা শাসক হয়ে শাসন করছে। এবং তাই জন্য সমাজে বিভেদ, বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে বই কমছে না। এর জবাবে এটাই বলা যেতে পারে যে এই কথাগুলোর ভেতরে assumption রয়েছে যে university বা higher education-এ যেন তাদেরই অধিকার আছে যারা বংশানুক্রমে সেই অধিকার ভোগ করে এসেছে। যেহেতু তারা  meritorious, সেহেতু university তাদের, এবং শুধু তাদেরই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বর্ণভেদ আসলে কী? এই ভেদ আসলে তো যাদের লেখার অধিকার আছে ও যাদের লেখার অধিকার নেই তাদের মধ্যে ভেদ। Reservation এই বিভাজনকে দূর করার কাজ করছে। এবং এর সাথে রোহিথ ভেমুলার মতো কিছু ছাত্র তৈরি করছেন যারা এই অক্ষরজ্ঞানেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন না। বরং যেসকল প্রণালীর দ্বারা এই বিভেদকে সক্রিয় করা হয়, সেই প্রণালীগুলোর দিকে আঙুল ওঠাচ্ছেন। আমার মতে, reservation-কে ততক্ষণ পর্যন্ত punishment বা burden মনে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত upper caste student বা teacher-রা university space–কে নিজেদের জাতিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখবেন, যে এটি তাদের নিজেদের পরিচয়ের একটি অঙ্গ, নিজেদের সত্ত্বার একটি অংশ, নিজেদের শরীরের একটি অঙ্গ, যেটাকে কেটে বাদ দিতে হচ্ছে দলিত ছাত্র বা শিক্ষকদের। এখানে ভয় শুধু অঙ্গবিচ্ছেদের নয়, ভয় আছে একধরণের শুদ্ধতা ও পরিচ্ছনতা হারানোর। Reservation-এর ফলে ব্যক্তি যেন নিজের পরিচয় হারালো, (যে 70 per cent পেলো আর যে 60 per cent পেলো একই class-এ বসলো, যে শিক্ষক American university থেকে degree নিয়ে এলেন তার সহকর্মী একজন বাংলা medium-এ পড়া, দেশী university থেকে PhD করা Scheduled caste শিক্ষক)। শরীর যেন অপরিষ্কার হয়ে গেলো!!! উচ্চবর্ণ ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে reservation একধরনের identity crisis নিয়ে আসে। এবং তারজন্যই বোধহয় বারবার নিজেদের মধ্যে বা Dalit ছাত্রদের শুনিয়ে বলতে হয় যে কে কতোটা জানে, কে সত্যিই ভালো ছাত্র আর কে mediocre। এই identity crisis-এর জন্যই বোধহয় Jadavpur University-র Film Studies Department-এর এক professor roll call করার সময় এক ছাত্রের ‘মণ্ডল’ পদবি নিয়ে হাসাহাসি করেন, School of Women’s Studies –এর interview তে এক দলিত ছাত্রীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে তিনি S.C candidate এবং তাই তিনি PhD করে উঠতে পারবেন না। অথবা যখন এক প্রাক্তন ছাত্র তার বা তার বন্ধুর চাকরির খবর অধ্যাপিকাকে দিতে যান তখন সেই অধ্যাপিকা বলেন, “কিন্তু ও তো কোটাতে পেয়েছে!” এটা ভুলে যাওয়া হয় যে সেই ছাত্র কতটা struggle করে তার পড়াশুনা চালিয়েছে। এটা প্রশ্ন করা হয় না যে 2013 সালের আগে কোলকাতার university-গুলিতে কতোজন দলিত শিক্ষক ছিলেন এবং তাদের বর্তমান সংখ্যা কী? এটা নিয়ে ভাবাও হয় না যে একজন দলিত শিক্ষক university তে ঢোকেন সেটা আমাদের গণতন্ত্রের ছোট্ট সম্পাদন, আমাদের স্বাধীনতার একটা ছোট্ট প্রমান।

উচ্চবর্ণের এই মালিকানাসূচক ব্যবহার এবং সাথে সাথে তাদের  insecurity  থেকে উঠে আসা snide remarks, condescending gestures অনেকরকমভাবে দলিত ছাত্রদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। Resource মানে বইপত্র, fellowship-এর টাকা, পুঁজি হাতে আসলেও সেগুলো যেন হাতের বাইরেই থেকে যায়। এর পরে একধরনের নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, যাতে আমাকে কেউ না দেখতে পায়,  class-এ যেন আমার presence লোকজন জানতে না পারে সেই চেষ্টা চলতে থাকে। আমাকে কেউ class থেকে বের হয়ে যেতে বললো কি বললো না সেটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমি নিজেই নিজেকে বহিষ্কৃত করলুম, excommunicate করলুম। Miranda Fricker এই ধরনের “bound to fail” মনোভাবকে একধরনের “hermeneutical injustice” দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন[1]। তিনি বলেছেন যে hermeneutical injustice তখন হয়, যখন অন্যায়ের যারা শিকার তাদের কাছে, সেই অন্যায়কে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করার মতো  “concept” বা ধারণা থাকে না অথবা সেই ধারণা থেকে বঞ্চিত করা হয়। অর্থাৎ আমার কাছে এমন কোনো “concept” নেই যেটার দ্বারা আমিও ভাববো যে আমার merit আছে অথবা আমি এই seat টা deserve করি। সুতরাং আমিও এটা মেনে নিই যে আমার এখানে পড়াটা অনায্য। আমি একধরণের  burden, আমার অস্তিত্ব  superfluous.

      এইখানেই আম্বেদকারবাদী ছাত্র সংগঠন বা আম্বেদকারের লেখার গুরুত্ব আসে। আম্বেদকার, ফুলে, পেরিয়ার, কানচা ইলাইয়াহ, গোপাল গুরু এদের লেখা “merit”, “progress”, “privilege”, “education”, “justice”, “self”, “society”, “caste”, “castelessness”, “nation”, “nationality” এই concept গুলিকে ভাঙে এবং গড়ে। একটু যদি খেয়াল করে দেখি, তাহলে এদের লেখা কিন্তু সত্যি হাতে গোনা কয়েকজন পড়েছেন। এরা প্রায় সবাইই syllabus-এর বাইরে। আমাদের “self-knowledge” এবং “self-definition” গুলো ভাঙতে থাকে এদের লেখায় ও চিন্তায়। অন্যদিকে এই লেখাগুলোই আমার মতো দলিত ছাত্রকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে যেখানে দাঁড়িয়ে university space আর ভয়ের বা anxiety-র জায়গা থাকে না। এই জায়গাটায় আমারও অধিকার আছে, এটা দৃঢ়ভাবে ভাবতে পারি। এবং এই অধিকারের জন্য কথা বলার অধিকারও আমার আছে এটা নিজেকে বোঝাতে পারি।

    রোহিথের মৃত্যুর পরে হায়দ্রাবাদ ছাড়াও দিল্লী, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই এবং কোলকাতার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, educational institution-এ ছাত্ররা প্রতিবাদ করে। কোলকাতার কিছু খবরের কাগজে এই নিয়ে কিছু লেখা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে JNU তে পুলিশের প্রবেশ এবং ছাত্রদের অ্যারেস্ট এবং media-র কীর্তিকলাপে হঠাৎ করে রোহিথের সাথে যেটা হলো সেটা একটা “issue” হয়ে গেলো এবং JNU –এর ঘটনা পেলো দেশ এবং বিদেশের ছাত্র ও শিক্ষক সমাজের spontaneous সহযোগ। রোহিথকে ভোলা গেলো না পুরোপুরি তাই তার issue অনেক ঘটনার মধ্যে একটা হয়ে রইলো। যেহেতু JNU-তে ঘটা ঘটনা দেশ ও দেশের দম্ভকে স্পর্শ করলো এবং কে দেশপ্রেমী ও কে দেশদ্রোহী সেই নিয়ে তর্কে নেচে উঠলো media এবং নাগরিক সমাজ। চলে এলো “secular বনাম religious nationalism”র গল্প এবং সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন এটা প্রমান করতে যে সে-ই আসল Indian। এর মাঝখানে হারিয়ে গেলো secular ব্রাহ্মণ্যবাদ বা religious anti-caste movements এর ইতিহাস। এই ইতিহাসকে একটি article বর্ণনা করা সম্ভব নয় এবং আমি শুধু বলতে চাই যে রোহিথের মৃত্যুর কারণ যদি খুঁজতেই হয় তাহলে এই পুরোনো binary – গুলোকে ভেঙে ফেলতে হবে।

rohit

Photo courtesy ; Sahana, Amlan

Jadavpur University তে রোহিথকে নিয়ে কতগুলো পোস্টার পড়েছিলো জানি না। উত্তরটা বোধহয় খুব একটা আশাজনক নয়। কিন্তু এটুকু আমি জানি যে এখনও পর্যন্ত কোনও ছাত্রসংগঠন reservation-এর support-এ কোনও কথা বলেনি। কিংবা এমনভাবে যে অনেকে শুনতে পাননি। যখন দলিত ছাত্ররা সংরক্ষণ নিয়ে প্রশাসনের সাথে negotiate করছিলেন তখন কি কোনও union ওদের পাশে ছিলো? এটা নিয়ে কি কোনও সভা বা সমিতি হয়? ওপরে ছবিটা Jadavpur University-র এক ছাত্রসংগঠনের poster ছিলো। যারা এই poster বানিয়েছেন; তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, কে দলিত এবং কে দলিত নয় এবং কে ভারতীয় এবং কে ভারতীয় নয় এটা যদি আপনি ঠিক করে দেন তাহলে এক  progressive university-তে এতদিন কাটিয়েও আপনারা নিজেদেরকে এক ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা থেকে আলাদা করতে পারেননি। আপনারা এখনও সেই সর্বগ্রাসী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হয়ে রয়েছেন যে জাতীয়তাবাদ কেবলমাত্র ওদের মুখ বন্ধ করে বা তাদেরকে বহিস্কার করে, নিজেকে টিকিয়ে রাখে। যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ, যেকোন ধরনের নতুন চিন্তা এই জাতীয়তাবাদকে crisis-এ ফেলে, তাই সবসময় চেষ্টা করা হয় এই অন্যধারার চিন্তা যেন বেশি লোকজনের মধ্যে ঢুকতে না পারে! সারা পৃথিবী জুড়ে public university –র ওপর আক্রমণ হচ্ছে কারণ এইখানেই এই জাতীয় চিন্তার চর্চা হতে পারে। দয়া করে university-র ভেতরে থেকে, university ছাত্র হয়ে university space কে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন না। আপনাদের কাজবোধহয় সেইসকল ক্ষমতাকেই শক্তিশালী করছে যা university space কে বন্ধ করে দিতে চায়।

[1] I would like to thank my friend and colleague Manohar Kumar for sharing his unpublished article “How epistemic injustice fails educational opportunities” and introducing me to the work of Miranda Fricker.


লেখাটি লিখেছেন দৃশদ্বতী বর্গী।

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

4 Responses to রোহিথ ভেমুলার মৃত্যু ও ছাত্ররাজনীতির ‘নেগেটিভ হ্যাল্যুসিনেশন’

  1. সৌম্যজিৎ রজক বলেছেন:

    লেখাটি প্রয়োজনীয়৷ একথা না লিখলেও চলতো৷ যে কথা লেখার জন্য এই ‘কমেন্ট’— আপনি লিখেছেন, রোহিথকে নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কতগুলি পোস্টার পড়েছিলো আপনি জানেন না৷ কিন্তু একথা জানেন যে কোনো ছাত্রসংগঠনই এখনো ‘রিজার্ভেশন’-এর ‘সাপোর্টে’ কিছু বলেনি৷ কিছু মনে করবেন না, আপনার এই জানাটা ভুল৷ ভারতের ছাত্র ফেডারেশন নামের একটি সংগঠন ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ‘রিজার্ভেশন’-এর ‘সাপোর্টে’ কথা বলে আসছে৷ শুধু ‘কথা বলা’, ‘পোস্টার দেওয়া’, ‘সভা করা’ই নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইন মেনে যাতে ‘রিজার্ভেশন পলিশি’ বাস্তবায়িত করা হয়, তার জন্য লড়াই করার ইতিহাসও এই সংগঠনটির আছে৷ আমি যতদূর জানি হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও এই ছাত্রসংগঠনটি রোহিথ ভেমুলার সংগঠনের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছে৷ লড়ছে৷ আমি যতদূর জানি, পশ্চিমবঙ্গেও, এমনকি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও এই সংগঠনটি এই দাবিতে লড়েছে৷ বছর আটেক আগে একবার ‘রিজার্ভেশন’ বিষয়ে তর্কে উত্তাল হয়েছিলো এই রাজ্যও৷ ‘Youth for Equality’ নাম দিয়ে একটি ফোরামও তৈরি হয়েছিলো জাতিভিত্তিক রিজার্ভেশনের বিরোধিতা করে৷ সেসময় ‘পপুলার ডিসকোর্সে’র বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ‘রিজার্ভেশন’-এর সমর্থনে প্রচার আন্দোলন সংগঠিত করেছিলো ধারাবাহিকভাবে৷ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছিলো এই সংগঠনটি ‘অসাম্যের জমিতে মেধার সাম্য’ নামের৷ রাজ্যজুড়ে সেটি বিলিও করা হয়েছিলো৷ এই সময় এই বিতর্কটা খুব জোরালো ছিলো বলে এই সময়টার কথা উল্লেখ করলাম৷ এর আগে এবং পরেও এই সংগঠনটি লাগাতার ‘রিজার্ভেশন’-এর সমর্থনে প্রচার করে থাকে৷ ক্লাসক্যাম্পেনে, ক্যান্টিনের বিতর্কে, পথসভায়, মিছিলে, জনসভায়, অন্যত্রও৷ ফলে আপনি যেটা জানেন বলে জানিয়েছেন সেটি ঠিক নয় বলে জানালাম৷

    দুনম্বর কথাটায় আসি, আপনি এই প্রসঙ্গটা শুরু করেছিলেন খুবই কন্ফিডেন্টলি… “কিন্তু এটুকু আমি জানি যে…” বলে৷ কথাটা শেষ করার আগেই যেই বলে ফেললেন “কিংবা এমনভাবে…” আর ওমনি মনে হলো আপনার কন্ফিডেন্সটা কোথায় যেন নড়ে গেছে! একটু আগেই বলছিলেন, এটুকু আপনি জানেন যে কোন ছাত্র সংগঠন সংরক্ষণের সমর্থনে কিছুই বলেনি৷ এটা যখন জানেনই তখন আবার “কিংবা এমনভাবে” বলার প্রয়োজন পড়লো কেন বুঝতে পারলাম না৷ তাহলে কি ইতিমধ্যে আপনি জেন গেছেন যে আপনার ওই আগের জানাটা ভুল? আর সেটা জেনে গেছেন বলেই কি ডিফেন্সলাইন তৈরি করছেন? আশা করি, ব্যাপারটা তেমন নয়৷ আশা করি, দ্বিতীয় কথাটা খুব সরলভাবেই আপনি বলেছেন৷ তাহলে বলি, এই চাত্র সংগঠনটি যা বলেছে তা সত্যিই যদি অনেকের কাছে না পৌঁছে থাকে তাহল সংগঠনটির উচিৎ আরো বেশি করে, আরো জোরে কথাটা বলা৷ আশা করি, সংগঠনটি একাজ করবে৷ কিন্তু এখানে একটা অন্য সমস্যা থেকে যায়, জানেন তো? আমরা যা বলি তার কোনো কথাই তো সবার কাছে পৌঁছোয় না৷ প্রতিটা কথাই অনেকে শুনতে পান না৷ ধরুন ডক্টর আম্বেদকারের কথাগুলো৷ সেগুলোও তো এখনো “অনেকে শুনতে পাননি”৷ কিংবা রোহিথের স্যুইসাইড নোটের কথাগুলো৷ “অনেকে শুনতে পাননি”৷ কিন্তু তাই বলে কি বাবাসাহেব কিংবা রোহিথের বলাটাকে অস্বীকার করা যায়?

    যেটা বলছিলাম, আমি যতদূর জানি, ভারতের ছাত্র ফেডারেশন শুধু নয় আরো বেশকিছু বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও ‘রিজার্ভেশন’-এর ‘সাপোর্টে’ অবস্থান নেয়৷ আপনার লেখা তাদের সেই অবস্থানকে অস্বীকার করতে চাইছে৷ হয়তো আপনার কানে তাদের কথা গিয়ে পৌঁছোয়নি৷ প্রাথমিক দায়টা আপনার নয়, এই সংগঠনগুলোরই৷ কিন্তু লেখার দায় তো লেখকের ওপরই বর্তাবে৷ তাই না? তাই যদি আপনি এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রবন্ধ লেখার আগে সামান্য খোঁজ খবর নিতেন, এই ভুল বক্তব্যটা তাহলে এড়ানো যেতো৷ যারা ইতিমধ্যে ‘রিজারভেশনে’র ‘সাপোর্ট’-এ অবস্থান নিয়েছে তাদের অবস্থানকে নাকচ করা হতো না৷ যাইহোক, আমি যেটুকু জানাতে পারলাম, জানালাম৷

    আরেকটা কথাও এই ফাঁক জানিয়ে রাখি, আমি যতদূর জানি, তামিলনাড়ুর এক গ্রামে ৮-এর দশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইন মেনে ‘রিজার্ভেশন পলিসি’ বাস্তবায়িত করার দাবিতে লড়তে গিয়ে খুন হয়েছিলেন দুই ছাত্র৷ ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের দুই নেতা৷ লেখার আগে যদি একটু, একটুখানি খবর নিতেন, তাহলে কমরেড সোমসুন্দরম আর কমরেড জাম্বুলিঙ্গমের অবস্থানকে অস্বীকার করে বসতো না এই প্রবন্ধ৷ এটুকু কষ্ট থেকেই গেলো, দৃশদ্বতী!

    Like

  2. Drishadwati Bargi বলেছেন:

    Thanks for the response.
    Chatro Federation theke je erokom response pabo sheta bhalo korei jantam. Tai obak hochchi na. Jai hok ami koyekta kotha boli. Prothomoto ami shudhu SFI ke niye bolini. Eta Jadavpure jotogulo union achey shobai key niyei bola. Apni bodhoi Sarbojayar shathey amar je conversation hoyechilo shetar byapare janen. Tai amar confidence koto chilo ba hotath kome gyalo kyano sheta niye kotha bolchen. Prothomei boli, byaparta amar confidence niye noi. ami jetar ingit kortey chaichi sheta holo ekdhoroner ‘absence of political will’ Ambedkarite rajnitir shathey engage korar. jodi apnara reservation niye kotha boley thaken, tahole sheta khubi progressive kaaj. kintu jodi sheta onek gulo issuer modhye ekta hoye jay, jodi sheta prominence na paye tahole shei reservationer supportey kotha bolar kono maney hoi na. ami reservation aar everyday caste discrimination ke alada chokhe dekhte chai na. dutoke alada chokhe dyakha jai na. Jodi alada korey thaken sheta reservation ke welfarism er moto kore dyakha hoi. Welfarism er problem holo je, brihottoro rajnoitik o oitihashik proshno gulo hariye jai. Jodi ei reductive approach na thakto, tahole Ambedkar ke niye kono na kono event campus hoye thakto,
    Tahole atleast kono na kono bhabe lokjon caste niye shocheton hoto. JU teh reservation follow koa hochchey ki hochchey na shei niye ki apnara kono concrete activism korechilen? JU teh dalit chatroi amake boleche tara jokhon student’s union ke approach korey tara kono stand nayni.

    Aapni bolchen HCU teh SFI o ASA ekshathey lorai korechey. ei ekshathey lorai kintu aapna apni hoyni. Amar prochur HCUr students der shathey alap achey jara prakton SFI kintu akhon ASA r shathey jukto karon SFI onek din dhorey caste ke centrality ditey chayni. To be frank, Left akhon Ambedkarite politics ke seriously nichche karon tara BJP ashar porey konthasha hoyechen. Aaro ekta byapar, West Bengaler Left aar Southern states er Left politics er kintu tofath achey. Dalit politics southey joto ta shoktishali ekhane tar bindumatro nei. Tai Southey Leftke Ambedkarke nakoch kore thakleo dalit der shathey negotiate korte hochche. Tai onek bar rifts hoyeche, notun party bhengeche, gorechey. SFI jodi HCU teh puropuri bhabe anti caste consciousness ke jagiye rakhtey parto tahole ASA r proyojon hotho na. Ami jeta bolar cheshta korchi je ei solidarity ba pashey thaka onek disgreement o struggleer modhye diye esheche. And this disagreement is not about the simple presence or absence of a few proreservation pamphlets. It is also about the degree of engagement.
    Ebar aschi JU teh. Amar last paragraph ta kintu JU students der niye. Apni sheta ke address korlen na. Ulte Tamil Nadu teh SFI activist ki korechen sheta teh chole gelen. Jyano ekhane caste niye kii kotha bola hochey, ki activism kora hochchey tar theke beshi joruri SFI ki koreche ba koreni. Jyano dalit chatroder ke jyano er jonno krotoggyo hote hobey. Hotath korey ato defensive hoye gelen kyano bujhlum na. Aapni bolchen amra chatrora apnader pro-reservation activism byaparey shuntey payni. Ebong tar responsibility apnader noi boroncho apnader situationer ba institutioner. Je karoney ambedkarer kotha lokjon shuntey payni shekaroney apnader proreservationer activism byapareo lokjon jantey parenni.
    Amar analogy ta absurd lagchey. Apnara besh purono ekta political organisation, apnaderke support koren erokom onek shikhok o intellectuals ei campus o ei shohorey achen. apnara campuse ekta active presence. Ke apaderke atkechilo reservation niye kyano lokjon kotha bolche na shei niye andolon kortey? aapnara onek speakers der niye ashen, tader modhye koto jonke enechen jara actively reservation niye kotha bolechen ? Apnader party teh prochur dalit o adivashi chatro chatri ra achen. Kintu khoob ashchorjo bhabe apnara apnader political discourse take amon bhabe frame korechen je tara tander “experience” theke uthe asha proshno key kokhonoi shamne ene kotha bolen naa. Ironically, jodi keu kotha bolte chai, apnader party thekei kono ek dalit ba adivashi ke shamne rekhe nijederke defend koren. Othocho ekhane defensive na hoye ektu self reflexivity anley hoytoh solidarity amar ekta shombhabona toiri hoy.

    Like

  3. সৌম্যজিৎ রজক বলেছেন:

    আমার মন্তব্যটা আমি আপনায় বোঝাতে পারিনি, বুঝলাম৷

    Like

  4. kaushik mukherjee বলেছেন:

    “I am not Dalit, I am Indian “-এর মত আরও অনেকগুলি পোস্টার লাগিয়ে SFI যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের worldview চত্বরে অনুষ্ঠান করেছিল। যতদূর মনে পড়ছে, সেখানে “I am not Manipuri, I am Indian “, “I am not Muslim, I am Indian ” — ধরণের পোস্টারও ছিল। CPM-এর তো এটাই ‘সঠিক’ সংবিধানবাদী-গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী, বাম-রাজনীতি।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s