মানচিত্রের দুঃখ

এই শূন্যস্থান আমার। এটা শূন্যস্থান, কিন্তু স্থান তো বটে। এটা আমার, এবং আর কারো নয়। আমার, আমার। এই রঙ পেন্সিল আমার, এটা ভাঙা, আমি ব্যবহার করিনা, করবও না কোনোদিন, কিন্তু এটা আমার। চাল-ডাল-চাকরি-জমি-জায়গা কিচ্ছুটি আমার নেই, আশা নেই, স্বপ্ন নেই, অন্যের জোয়াল ঠেলে যাওয়া আছে কেবল, আছে ভূতের বেগার, লুন্ঠিত শ্রম, আর প্রকান্ড শূন্যস্থান। আমি চির ঠাঁইনাড়া, কিন্তু ওই শূন্যস্থান আমার, আমারই। সরকার, রাষ্ট্র আমার সব কেড়ে নিক, কিন্তু ওই বিস্তীর্ণ বরফপিন্ড আমার। ওর সবকটা তুষার-ঝড়, ওর ঢেউ-এর পাহাড়,হিমাঙ্কের ওপরে ও নীচে সবকটা ডিগ্রিফারেনহাইট, ওর শৈত্য, নিথর বায়ুস্তর আমারই। শুধু আমার। ওটা শূন্য। কিন্তু স্থান।

ওই স্থানটির ওপারে যারা থাকে তারাই আমার ‘ওরা’। ওরা ছাড়া আমার আর কোনো ‘ওরা’ নেই। যখনই অন্য কোনো ‘ওরা’-কে আমি আবছা আবছা দেখে ফেলি তখনই তাদেরকে ওপারের ‘ওরা’দের সঙ্গে মিলিয়ে দিই। ফলে কোনো অসুবিধে হয়না। সব ‘ওরা’ একসঙ্গে মিশে যায়। ‘ওরা’ থাকে ওধারে। না, আসলে যারা ওধারে থাকে তাদেরই বলে ‘ওরা’। আমার চারপাশে কেবল গুনগুন করে আমরা, আমরা, আমরা।

‘আমরা’ মানে? আমরা মানে আমরা, মানে অনেক আমির যোগফল। আমি, আমি, আমি, আমি…এই আমিদের ভিড়ে বেমক্কা যদি কোনো একপিসকে ‘আমি’ বলে মনে না হয়, তখনই তাকে ওদের দিকে পাঠিয়ে দিই, তখনই সে ‘ওরা’দের একজন হয়ে যায়। সোজা হিসেব, কোনো অসুবিধে নেই।

‘এই সেই জনস্থান মধ্যবর্তী প্রস্রবন গিরি’…না, ভুল হচ্ছে কোথাও। এটা তো বিভূতিভূষণ…না না বিদ্যাসাগর, সীতার বনবাস…আসলে ওটা হবে, ‘এই সেই জনহীন মধ্যবর্তী জন্নত্‌, যে এখন কাফন পরিহিত’…

#

হু কিল্‌ড হনুমানথাপ্পা? কিংবা হু কিল্‌ড রোহিত ভেমুলা? –এগুলিও হতে পারত এই লেখার শিরোনাম। ক’বছর আগেকার বিখ্যাত সিনেমার নাম নকল করে। পাছে হত্যাকারী ধরা পড়ে যায়, তাই চটজলদি হত্যাকারী নিজেই হত্যার একটা কারণ স্থির করে দিতে তৎপর হয়। রোহিতের ক্ষেত্রে রোহিতের মাথার রোগ বা মনের অসুখ গোছের এক বিদেহ ঘাতক আর ল্যান্স নাইক হনুমানথাপ্পার ক্ষেত্রে—না, এক্ষেত্রে আকাঙ্ক্ষা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে না শত্তুর। মাথা বা মনের রোগের কথা তুললে সেনাবাহিনীর নিয়োগ কর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে কথা উঠতে পারে, ফলত তা বলা যাবে না, বলা যাচ্ছে না তিনি সন্ত্রাসবাদীর বোমার আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন, জলজ্যান্ত অন্য প্রমাণ হাজির… তাই শত্রু চিহ্নিত করতে না পারলেও, বলে দাও শহীদ।আর জেনে রাখো এতে করে ঢিল ছোঁড়ার আগেই সব পাখি কাত…কারণ শহীদ বললেই রেয়াজি জনতা তার প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে বুঝে নেবে কে আসলে ঘাতক। তুষার-ধ্বসকে তো আর দামাল জঙ্গি হিসেবে দাঁড় করানো যায় না, পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্রে (কী গর্বের কথা, নয়নাভিরাম এই স্থানটির অধিকারী আমরাই, আমাদেরই দখলে আছে শ্রেষ্ঠ বধ্যভূমি) টানা প্রায় ছদিন মাটি (?) থেকে ৩৫ ফুট নীচে শুয়ে থাকা লোকটিকে তবে মারল কে? না না আমি নই। ওকে মেরেছে ‘ওরা’, নির্ঘাত ‘ওরা’। কিন্তু গায়ে তো দাগ নেই বোমা বা বুলেটের। না থাক, ও মরেছে তো…দেশদ্রোহী একটা তুষার-ধ্বস ওকে পিষে দিয়ে গেছে…হত্যাকারীকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না, এক্ষুনি ওর দেহটাকে নিয়ে তীব্র চিৎকার না শুরু করলে লোকে যদি চিনে ফেলে কে হত্যাকারী, যদি বুঝে ফেলে কে ওকে মেরে ফেলেছে নির্মম ভাবে, তাহলে মুশকিল… তার আগেই থরথর করে কেঁপে উঠতে হবে আমাকে, ভিজিয়ে ফেলতে হবে চোখ আর গলা, মাঝে মাঝে অতিরিক্ত রেগে উঠতে হবে, কয়েক হাজার ওয়াট আলোর সামনে নির্ভীক পটুত্বে একে একে ঘোষণা করতে হবে সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা, সারা দেশের সামনে বলতে হবে সকলের বাড়ির পাশেই থাকতে পারে হনুমানথাপ্পার সম্ভাব্য হত্যাকারী। আর এই সবই আমাকে করতে হবে কারণ তা না হলে আমি, হ্যাঁ আমিই যে সেই সৈনিকের মৃত্যুর জন্য দায়ি, ফাঁস হয়ে যেতে পারে সে খবর। কে মেরেছে ঐ ল্যান্স নায়ককে? হনুমানথাপ্পা নামক এক ভারতবাসীকে কে মারল তাহলে? আমিই তো। কয়েক হাজার লোক সিয়াচেনে কিংবা আরো দুর্গম কোনো প্রান্তে বসে থাকে আমারই খোয়াইশ মেটাবার জন্য, তাদের মৃত্যুর পর যাতে আমি ভালো করে কেঁদে নিতে পারি, আমার গলা বুজে আসতে পারে আবেগে, ম্যাদা মেরে যাওয়া আমার দৈনন্দিনে যাতে এক ঘন্টার জন্য ঝলশে ওঠে নিউজ আওয়ার, আমারই নিপুণ থাপ্পড়ে যাতে চলকে ওঠে টেবিলে শোভিত জলের গেলাশ, অতটুকু জলের গোল সীমানায় যাতে খেলে যায় মৃদুমন্দ রিপ্‌ল—সব শেষে যাতে নেমে আসে চমকপ্রদ গ্রিক প্রশান্তি। কয়েকশো বর্গমাইল এলাকা জুড়ে শুধু বরফ বরফ…কোনো লোক নেই, বসত নেই, আবাদ নেই, ইশকুল, বাজার কিচ্ছু নেই। কোনোদিন হবেও না। কিন্তু ঐ এলাকা আমার, কেবল আমার–এই আহ্লাদ আর তৃপ্তি বজায় রাখতে হবে আমাকে। তাই সীমান্তের দুই পারে দুই রাষ্ট্র প্রধান এই ধুধু প্রান্তরে পাঠাবেন একদল হতভাগ্য লোককে, প্রতিপদক্ষেপে যাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে হবে…কেবল বিদেশি সৈনিকের সঙ্গে নয়, লড়তে হবে প্রকৃতির খেয়ালের সঙ্গেও। কয়েক হাজার মাইল দূরের প্রিয় স্বজনের সঙ্গে মোলাকাত তো দূরের কথা, তাঁদের গলার আওয়াজটুকুও শোনার সুযোগ থাকবে না। দিন কখন কীভাবে গড়াবে দিনের পর দিন তার হিসেব থাকবে না, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কোনো বাক্যালাপ নেই…আছে শুধু অপেক্ষা–নিরন্তর, নিশ্ছিদ্র, প্রগাঢ়…আর আছে মৃতদেহ দিয়ে মানচিত্রের সীমানা নির্মাণ…

#

তাহলে আপনিই কেবল ভারতবর্ষ, আমি নই? আপনি, যিনি কয়েক ইঞ্চি দূর থেকে কপালের দিকে তাক করলেন বন্দুক আর দু হাজার পনেরো সালে একজন লেখকের হাড় ফুটো করে দিল গুলি, যিনি দুজন দলিত শিশুকে ঘিরে তুলে দিলেন আগুনের পাঁচিল আর আহ্লাদে দেখতে থাকলেন হলুদ রঙের আলোয় মিশে যাচ্ছে দলিতের অস্পৃশ্য ডিএনএ, আপনি, যিনি সোনি সুরির শরীর ভরিয়ে তুলেন কাঁকরে-বালিতে-পাথরে, যিনি ‘গোমাংস রেখেছিস কেন ফ্রিজে’ বলে আখলাককে টেনেহিঁচড়ে মেরে তার মানব শরীর থেকে খুবলে নিলেন মাংস—আপনিই তাহলে দেশপ্রেমিক, আমি নই? ঝাড়খন্ড কিংবা ছত্তিশগড়ের রোজ শুকিয়ে যেতে থাকা বাচ্চা তাহলে ভারতবর্ষ নয়, কিংবা মিডডেমিলের ভাত-আলুভাজা নিতে হবে বলে ভেজা আলপথ ধরে ছুটে আসছে খালি-পা-মেয়েটি সে নয়, মালিকের তেমন লাভ হচ্ছে না এই অজুহাতে বন্ধ চাবাগানের ঠিকা শ্রমিকের পরিবার—যারা কোনো আদালতে যায়নি, অভিযোগ জানায়নি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তারা নয়, এইমাত্র ধার শোধ করা আর সম্ভব নয় বুঝে যে কৃষক পোকামারার ওষুধ খেলেন, পোকামাকড়-সদৃশ সেই মানুষটি নন, স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা টেনে তুলতে তুলতে ভীষণ ভারি লাগে যে স্কুলশিক্ষকের, দেশভাগের দিনটির কথা মনে পড়ে যায় অনিবার্যভাবে তিনি নন? দীর্ঘ লড়াইয়ের পর জঙ্গলের অধিকার আইন পাশ হবার কবছর বাদেই আবার জঙ্গল কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বাবুদের ঘরবাড়ি, দোকান-পাট বানাবার জন্য জেনেও হাসি শুকোচ্ছে না যে আদিবাসীর সে তাহলে ভারতবর্ষনয়? অনেকবছর আগে এক বাঙালি ঔপন্যাসিকের লেখায় উপস্থিত হয়েছিলএক মেয়ে, জঙ্গলে মানুষ, এ মাটির বহু পুরাতন বাসিন্দা।জঙ্গলের দখলদারি কায়েম করার চাকরি করতে আসা এক শহুরে শিক্ষিত বাবুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে সেই আদিম ও নবীন মানব জিজ্ঞাসা করে বসেছিল ‘ভারতবর্ষ কোনদিকে?’ মুখে রা ছিল না বাবুটির।কোনদিকে ভারতবর্ষ—এ প্রশ্নের কী জবাব তিনি দেবেন? এ প্রশ্নের কী জবাব আপনি দেবেন মাননীয় সঙ্ঘসন্তান?

#

দেশপ্রেমিকের চোয়াল কঠিন ও বিকৃত হয়ে উঠছে, ঘৃণায় কুঁচকে যাচ্ছে শরীর, হাতে উঠে আসছে অস্ত্র, কিংবা হাত নিজেই হয়ে উঠছে অস্ত্রের মতো গম্ভীর ও হিংস্র, সারা শরীর থেকে ছিটকে নামছে থুতু, সে বিষাক্ত জলীয় পদার্থে ঢেকে যাচ্ছে সমস্ত ভিন্ন স্বর।আপনার দেশপ্রেমে এতো ঘৃণা?  ঘৃণাই কি তবে এই প্রেমিকের সম্বল?

#

আমাদের ‘আজাদি’র ঠিক পরেই জাতির জনককে খুব কাছ থেকে গুলি করে মেরে ফেলেন জাতির এক সন্তান।আদালতের বিচারে তাঁর মৃত্যুদন্ড হয়।অনেক মানুষ যাঁরা গান্ধীকে পিতা-সমান মনে করতেন তাঁরা কেঁপে উঠেছিলেন।বিপর্যস্ত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। সেই হত্যাকারী কি সন্ত্রাসবাদী? জনকের খুনি আজ এদেশে সম্মানিত হন খোদ প্রধানমন্ত্রির দ্বারা।শোনা যাচ্ছে তাঁর নামে মন্দির হবে।দেশের সর্বোচ্চ আদালত যাঁকে পিতার ঘাতক বলে চিহ্নিত করে তাঁর পুজো হবে দেশে।সন্ত্রাসবাদী কোনো দলে নিশ্চিতভাবে যুক্ত ছিলেন প্রমাণ না থাকলেও, সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্সের ভিত্তিতে একটু চমক তৈরি করেই হয়ত সাজা হয়ে গেছে আফজল গুরুর।পার্লামেন্ট আক্রমণ অতি গুরুতর অপরাধ, তাতে যদি পরোক্ষ যোগও থাকে সাজা হওয়াই তো উচিত।মৃত্যুদণ্ড আমি সমর্থন করিনা (হ্যাঁ, গডসেরও) কিন্তু মৃত্যুদন্ড আমার কাছে যত আপত্তিকরই হোক না কেন, দেশের আইনে তো এখনো আছে।কিন্তু মোদীজির, দেশের প্রধানমন্ত্রীর দেখানো রাস্তায় যদি হাঁটে দেশের কিছু লোক—হাতেগোনা—যারা এক সাজাপ্রাপ্ত ও মৃত‘হত্যাকারী’-র প্রতি সহানুভুতিশীল হয়, ঠিক যেমনটি হয়েছেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী, আমাদের প্রধানমন্ত্রী—শ্রীনাথুরাম গডসের প্রতি, নাথুরাম গডসে, যিনি জাতির জনককে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদন্ড ভোগ করেছেন, যাঁর অপরাধের কোনো সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স দরকার হয়নি, যিনি অনেক লোকের চোখের সামনে গান্ধীকে গুলিতে বিদ্ধ করেছিলেন, তাহলে? জাতির পিতার হত্যাকারীকে যিনি সম্মান দেন তিনি দেশপ্রেমিক, আর যিনি আফজলের মৃত্যুদন্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি দেশদ্রোহী? সব গুলিয়ে যাচ্ছে স্যর।আমি আফজলের ফাঁসি নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি, নাথুরামের মন্দির নিয়েও মুচকি হেসেছি মাত্র, কিন্তু আফজল নিয়ে কথা বললে আরএসএস থেকে অর্ণব সকলেরই রক্তে ঢেউ খেলে যাবে, হাতে হাতে ঘুরে বেড়াবে ‘দেশদ্রোহী’র স্টি কার—এ কেমন কথা? ভারতবাসীর রাইট টু ডিসেন্ট নেই? রাইট টু ডিসেন্ট যদি না থাকে তাহলে কি বলা যাবে আমি স্বাধীন? তবে তো আজাদির স্লোগান এখন তাৎপর্যপূর্ণ! আজাদির মতো এতো প্রিয় ও সুন্দর শব্দ রাতারাতি কীভাবে এতো ঘৃণ্য ও আপত্তিকর হয়ে উঠল? এতো ভয় ধরাচ্ছে কেন? এতো বিরক্ত, ক্রুদ্ধ করছে কেন? সর্বভারতীয় চ্যানেলের সর্বময় ঠেকনা (anchor) রাগে ফেটে পড়ছেন কেন? আপনি যত মনু চাপিয়ে দেবেন, যত ঘাড় ধরে শেখাবেন আপনার বিশেষ ঘরানার ‘দেশপ্রেম’ ততো জোরদার হবে আজাদির সুর। কানহাইয়া কুমারের মুখ ফাটিয়ে দিন দেশপ্রেমিক ঘুষিতে, কারণ উনি সংবিধানের উপর আস্থা রেখেছেন, কারণ উনি ‘ভুখমারি সে আজাদি’র কথা তুলেছেন। কানহাইয়ার জানা উচিত, সারা দেশেরই জানা উচিত, সংবিধানের উপর আস্থা রাখা দেশদ্রোহ, খিদের থেকে মুক্তির দাবি তোলা ‘অপরাধ’। কিন্তু এই অপরাধে জেনে হোক না জেনে হোক দেশের অধিকাংশ মানুষই অপরাধী। আসুন ভাই, গোটা দেশটাকেই একটা কারাগার বানিয়ে ফেলি আমরা, নইলে এতো লোকের জায়গা দেব কোন জেলখানায়?

#

রহি বাত আফজল কি। আফজলকে শহীদ বলছেন কেউ কেউ। আমি বলিনি। কানহাইয়াও বলেন নি। আমি মনে করি না তিনি শহীদ। তাঁর শাস্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু অস্বস্তি আছে এই মাত্র। এই প্রথম সে কথা উঠল তাও নয়। কাশ্মীরের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল পিডিপি—যারা বিজেপির রাজনৈতিক সহযোগী এবং বন্ধু—তারা তো কবে থেকেই বলছে এ কথা। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরাট লম্বা রায়ের মাঝখানে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন কোনো সন্ত্রাসবাদী দলের সঙ্গে আফজলের যোগ প্রমাণিত হয় নি। নন্দিতা হাক্‌সর লেখা বই ‘মেনি ফেসেজ্‌ অফ কাশ্মিরি ন্যাশনালিজ্‌ম’ বইতে চমকপ্রদ সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সে বইটি এখনো নিষিদ্ধ করেননি সরকার বাহাদুর। বাহাদুর সরকারের এক অফিসিয়াল, লিখেছেন হাক্‌সর, আফজলকে অপরাধ স্বীকার করানোর জন্য লোমহর্ষক সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিলেন। আফজল একজন সন্ত্রাসবাদী ছিলেন প্রথম জীবনে। পরে তিনি আত্মসপর্পণ করেন এবং কিছুদিন নিরুপদ্রবে কাটান। পার্লামেন্ট আক্রমণের ভয়াবহ ঘটনার পর ফের তাঁকে ধরা হয়। তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। ডি এস পি দাবিন্দর সিংতাঁকে বলেন এই আক্রমণে তাঁর সংস্রব ছিল, তাঁর কাছে অস্ত্র ছিল এসব অভিযোগ স্বীকার করে নিতে। আফজল অস্বীকার করলে তাঁকে  ন্যাংটো করে ঠান্ডা জলে চুবিয়ে রাখা হয়, দেওয়া হয় ইলেকট্রিক শক।জোর করে পেট ভরে জল খাইয়ে তারপর আবার ইলেকট্রিক শক, তিন ঘন্টা ধরে (একটান নয় নিশ্চয়, তাহলে তো তখনই মরে যেত)—এই কাজটি করেন ইন্সপেক্টর শান্তি সিংহ, পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন ডি এস পি সাহাব। পাছায় পেট্রল ঢেলে দিয়ে তাতে গুঁজে দেওয়া হয় লঙ্কা—সারা দিন ফেলে রাখা হয় এই ভাবে। এই সব বৃত্তান্ত পাওয়া যাবে নন্দিতা হাক্‌সরের বই-এর ১৮৪ পাতায়। কীভাবে জানলেন নন্দিতা এসব খবর? মনে মনে গড়িয়ে নিয়েছেন? আফজল তাঁর উপর অত্যাচারের কথা লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী সুশীল কুমারকে পাঠানো এক চিঠিতে। সে চিঠি পরে ছাপাও হয়। নন্দিতা হাক্‌সর পাকিস্তানি নন, মুসলমানও নন। তিনি কি দেশদ্রোহী?

পার্লামেন্টে যারা আক্রমণ করেছিল, এলোপাথাড়ি গুলিতে মেরেছিল ন’জন মানুষ, তারা সেখানেই নিহত হয়। কিন্তু তারা এসে পৌছল কীভাবে পার্লামেন্ট অব্দি? আমাদের ইন্টেলিজেন্স কী চূড়ান্ত ভাবে দায়ি রইল না তার জন্য? ইন্টেলিজেন্সের এই ব্যর্থতার জন্য শাস্তি হয়েছে কারো? খুঁজে পাওয়া গেছে কাউকে, কার/ কাদের ব্যবহার করে জঙ্গিরা এসে পৌঁছল সংসদ ভবনে? নিরাপত্তা রক্ষীদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত রক্ষা পেল সংসদ, মারা গেল জঙ্গিরা। কিন্তু এতে তো আমার নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নগুলো প্রকট হয়ে রইল, দাঁত বের করে বিশ্রিভাবে আমাকে ভ্যাংচাতে থাকল, ফোরগ্রাউণ্ড করে দিল আমার রাষ্ট্রপ্রধানদের অপদার্থতাকে। সেই বিপদ থেকে বাঁচতে, আমাকে আমার লৌহদৃঢ় শাসন –ব্যবস্থার প্রমাণ দিতে হবে বলেই কি সংসদ ভবনের বাইরে যুদ্ধে নিহত জঙ্গিদের পাশাপাশি আরও একটি অপরাধী খুঁজে আনতে হল? প্রমাণ দিতে হল—এই দ্যাখো আমি কত দক্ষ, ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ঠিক ধরে ফেলেছি এক পিস অপরাধী,দ্যাখো, তোমাদের নিরাপত্তার জন্য এই রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর ও নিবেদিত, দ্যাখো, এই তাকে চরম ভাবে দণ্ডিত করছে প্রশাসন। লড়াইতে জঙ্গি নিধনের প্রক্রিয়া তো কয়েক মুহূর্তের, সেতো সবাই ভালো করে দেখতেও পায়নি। তারপর অনেক দিন ধরে, একটু একটু করে মূল অপরাধীকে আমি মেরে ফেলছি, শাস্তি দিচ্ছি, একটু একটু করে বের করে আনছি সত্যি। আর এই গোটা প্রক্রিয়াটির সাক্ষী রাখছি তোমাকে। অপরাধীর স্বীকারোক্তি সম্প্রচার করে দিচ্ছি টিভি স্টুডিও থেকে। এবার শান্ত হও, এবার ভরসা ফেরাও, এবার বিশ্বাস করো রাষ্ট্র পরম, রাষ্ট্র তোমাকে নিরাপদে রাখতে সক্ষম। আর এই শাস্তিবিধান পর্বে গোটা দেশবাসীকেও জড়িয়ে নিয়েছি আমরা, যেন সবাই একসঙ্গে শাস্তি দিচ্ছি সন্ত্রাসীকে, সিনেমার শেষ দৃশ্যে যেমন নায়কের ঘুষিতে ছিটকে পড়তে থাকা ভিলেনের যন্ত্রণা দেখে আমি সুখী হই, ঠিক যেমন নায়ক শেষ দৃশ্যে বন্দুক ফেলে খালি হাতে এগিয়ে যান, খালি হাতে পেটাতে থাকেন দস্যুকে, ঠিক যেমন নায়কের হাতে মিশে যেতে থাকে আমার হাত, আমার রক্তে শর্করা-কণিকা নেচে উঠতে থাকে, প্রতিদিন নানা ইনজাস্টিসে অভ্যস্ত হয়ে পড়তে থাকা অসন্তোষ নায়কের মধ্যস্থতায় আমাকে একটা জাস্টিসের আস্বাদ দেয়, তেমনই। আফজলের মৃত্যদণ্ড লিখতে গিয়ে জনতার যৌথ বিবেকের দাবির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মহামান্য আদালত।সেকথা এখানে এমনিই একটু মনে পড়তে পারে।

#

কিন্তু এসবের পরেও আমি আফজলকে শহীদ বলিনি, বলবও না।আফজলকে শহীদ বললে মেনে নিতে হবে তিনি আদর্শের জন্য লড়তে গিয়ে খুন হয়েছেন প্রতিপক্ষের হাতে। আমি তা মনে করি না। আফজল সম্পর্কে যা আমি জেনেছি এতক্ষণে তাতে তিনি প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন নি বলেই মনে হয়। আরও জানলে আমার এই ধারণা বদলে যেতেও পারে। ধারণা বদলে যেতে পারে জ্ঞানের স্পর্শে, তথ্যের সান্নিধ্যে। ধারণার অনড়তায় আমার আস্থা নেই। এমন হতেই পারে আফজল সম্পর্কে এসব কথা নন্দিতা হাক্‌সরের মন গড়া, গোটা ব্যাপারটাকে একটা করুণ কাহিনিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি, কিংবা এও হতে পারে আফজল যেসব কথা বলেছেন তাঁর চিঠিপত্রে সেসব ভুয়ো, সম্পূর্ণ মিছে কথা। হয়ত তিনি নিজেকে বেকসুর প্রমাণ করার তাগিদেই এসব বলেছেন বানিয়ে বানিয়ে, নিজের প্রতি সহানুভূতি অরজন করার লক্ষ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবেই তাঁর এই রচনা। হতে পারে একজন সন্ত্রাসবাদী সুচতুর ভাবে তার ওপর অত্যাচারের মিথ্যা খতিয়ান লিখে রেখেছে, যে খতিয়ান পড়ে পরবর্তী কালে আরও অনেক সন্ত্রাসবাদী তৈরি হবে, হাক্‌সরকে লেখা দশপাতার চিঠিতে আফজল লিখেছিল যেসব চিঠি সে তার আইনজীবীকে বা অন্য কাউকে লিখেছিল ব্যক্তিগত ভাবে সেসব অনেক সময় বাইরে ক্যাম্পেনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যা অনুচিত। হয়ত তুখোড় বুদ্ধিমান এক অপরাধীর মতো আফজল এ কথাও বুঝতে পেরেছিল আগেই যে তার এসব লেখা জঙ্গিরা ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু তাতে তার কোনো ভূমিকা ছিলনা, চিঠিতে এই মনোভাব গচ্ছিত রেখে সে আরো চাতুর্যের পরিচয় দিয়েছে। হতে পারে। এসবই হতে পারে। কিন্তু…কিন্তু যদি না হয়? তাহলে? যদি সত্যি আফজলের কথা সত্যি হয়? যদি সত্যি আফজলের গ্রেফ্‌তারির পর রমজান মাসে তার মুখে পেচ্ছাপ করে দিয়ে থাকে পুলিশ এবং বলে থাকে এই নে তোর ইফতার? যদি সত্যিই আফজলকে ধোঁকা দিয়ে জোর করে আদায় করে নেওয়া হয়ে থাকে স্বীকারোক্তি, যেমন পৃথিবীর নানা দেশেই রাষ্ট্রের এক পরিচিত পদ্ধতি? যদি সত্যিই তাবাস্‌সুম—গ্রেফ্‌তারির কয়েক মাস আগে যার সঙ্গে আফজলের বিয়ে হয় সেই কাশ্মিরী মেয়ে আর তার ছেলে, ঘটনাচক্রে যার নাম গালিবের চাহিদামতো আফজলের দেহ এবং ব্যবহৃত জিনিসপত্র ফিরিয়ে না দিয়ে থাকে রাষ্ট্র, তাহলে? তাহলে কী, আমি জানিনা। তাহলে কিছুই নয়। তাহলেই আফজলকে শহীদ বলে দেওয়া যাবে না। তাহলেই বন্দুক হাতে ছুটে যাওয়া ন্যায্য হয়ে যাবে না, তাহলেই পার্লামেন্ট ভবনে নিহত ন’জন ভারতীয়ের পরিবারের শোক কম হয়ে যাবে না। তাহলে শুধু নিজেকে আমার একটু অপরাধী মনে হবে এই মাত্র।

আমি প্রাণপণে বিশ্বাস করতে চাই এমন সত্যিই ঘটেনি, এমন ঘটতে পারে না। আমার দেশ একজন আত্মসমর্পণকারী সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে এই আচরণ করতে পারে না, আমি বিশ্বাস করতে চাই আফজল মিথ্যে কথা বলেছে। বিশ্বাস করতে চাই কেবল এই কারণে নয় যে তা নাহলে বর্তমান সরকারের হাতে আমি সিডিশনের চার্জে পড়ে যেতে পারি, বিশ্বাস করতে চাই এই কারণে যে তা না হলে আমার অপরাধবোধ আমাকে তাড়া করে বেড়াবে সারা জীবন। আমার ভারতীয়ত্ব আমাকে বৃহত্তর ও অমার্জনীয় চার্জে অভিযুক্ত রাখবে আমরণ।

#

কিন্তু কানহাইয়া তো এসব কথা তোলেনি। তুলেছিল অন্য কেউ। তার নাম আমি জানিনা। এর পাশাপাশি যে বলেছিল ভারতকে দশ টুকরো করার কথা সে আমার কেউ নয়। তাকে খুঁজে বের করা হোক। তাকেও খুঁজে বের করা হোক যে বলছিল পাকিস্তান জিন্দাবাদ। ভারতকে টুকরো করার ইচ্ছাপ্রকাশ এবং পাকিস্তান জিন্দাবাদ একত্রে বলার অর্থ আমার কাছে পরিষ্কার। তাকে/ তাদেরকে চিহ্নিত করা হোক। কিন্তু খুঁজে বের করতে না পারলে, বা খুঁজে যাকে পাওয়া যাচ্ছেতাকে আড়াল করার দরকার পড়লে যে কাউকে রাস্তা থেকে তুলে এনে ‘এই সেই অপরাধী, অপরাধীকে না পাওয়া পর্যন্ত একেই অপরাধী মনে করা হোক’ যদি বলা হয় তাহলে প্রতিবাদ করব। কানহাইয়া যে একথা বলে নি তা সবাই জানে, অনেকে বলছেন ভিড়ের মধ্যে মিশে এবিভিপি সমর্থকেরাই তুলেছিল এসব স্লোগান। কানহাইয়ার মিটিং=এর ছবিতে অন্য কোনো লোকের স্লোগানের আওয়াজ গুঁজে দিয়ে সেই গোঁজ-ভিডিও দেশের নানা প্রান্তে, নানা চ্যানেলে ছড়িয়ে দেওয়া হল, দুদিনের মধ্যে লোকে জেনে গেল কানহাইয়া দেশদ্রোহী, বামপন্থীরা দেশদ্রোহী। চ্যানেলের মালিক কিংবা ঠেকনা (anchor) রেগে উঠলেন, চিৎকার করলেন, আঙ্গুল তুলে বললেন, বল তুই দেশদ্রোহী কি না, বল ভারতমাতার জয়, বল তুই আফজল গুরুর সমর্থক কিনা, বল তুই ভারতকে ভালো বাসিস কিনা? জঙ্গিদের অভাব পুরণ করতে নেমে পড়লেন সঙ্ঘিরা। কানহাইয়াকে দেশদ্রোহী প্রমাণ করতে এমনকি কোর্টের মধ্যে ঢুকে পড়লেন একদল হিন্দুত্বের উকিল, বিচারালয়ে পেটানো হল অভিযুক্তকে, সাংবাদিকদেরও। বলা হল, চলে যাও পাকিস্তান। যেতে পারি, যেকোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি। কিন্তু কেন যাব? ভারতকে মা হিসেবে দেখেন আপনি, দেখুন। ভারতের প্রতি আপনার প্রীতি প্রকাশ করার জন্য একটা উপমার সাহচর্য লাগে। লাগুক। আমার লাগে না। আপনার উপমার ভার আমি বইতে পারি না। আমার দেশ আমার শৈশব, দৌড়ঝাঁপ, পুকুরপাড়। আমার ইশকুল, শবেবরাত, সাইকেল। আজান, ওসমান চাচা, চণ্ডীতলা। আরও কত কী…আরও কত লোক, গিজগিজে ভিড়, চিৎকার, ঘাম, হাটবার। মাঠ, কলোনিমোড়, লাইব্রেরির ঘুপচি আঁধার। এতোসব মিলে আমার দেশ। একসারি সুপুরি গাছ, একটা কলতলা, একটা তোলা উনুন। এতোসব ছেড়ে আমি কোথায় যাই? কেনই বা যাব?

#

অনেক বছর আগে দামোদর সাভারকর বৃটিশ প্রভুর কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন, অনেক বছর আগে গুরু গোলওয়ালকর হিন্দু ভারতীয়দের পরামর্শ দিয়েছিলেন বৃটিশ রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করে শক্তিক্ষয় না করতে, কারণ মুসলিম আর কমিউনিস্টদের সঙ্গেই হবে আসল লড়াই, অনেকদিন আগে অটলবিহারী বাজপেয়ী, তখন নবীন কিশোর তিনি, চিরকুট লিখে জানিয়ে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী বন্ধুদের নাম, জানিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন সেবারের মতো, কার্যত বৃটিশের ইনফর্মার হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। এঁরা সবাই কিন্তু বিখ্যাত মানুষ। কেউ স্কুলপাঠ্য ইতিহাস বইতে ‘বীর’ হিসেবে সম্মানিত, কেউ সর্বকালের সেরা সরসঙ্ঘচালক, কেউ আবার পরবর্তীকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এঁরা সবাই দেশপ্রেমিক। ‘ভারতমাতার জয়’ স্লোগান চোখ বুজে তুলতে পারলে, সেই স্লোগান দিতে দিতে ভাঙচুর করতে পারলে সহজেই দেশপ্রেমিক হওয়া যায়। ওই যে ওরা আজাদির কথা বলছে, ওরা দেশদ্রোহী। আজাদির কথা বলছে মানেই ওরা ভারত থেকে আজাদির কথা বলছে, ভারতকে ভেঙে দেবার কথা বলছে—জোর গলায় এই ঘোষণা ছড়িয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে। তাই সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হল, ওরা পাকিস্তানের সমর্থক, ওরা ভারত বিরোধী। ওরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফাঁসিতে লটকানো দস্যুর হয়ে সওয়াল করে, ওরা দেশের শত্রু। আর দেশের শত্রুদের তো মারাই উচিত। হুঙ্কারের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে, পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলিনি, ভারতকে টুকরো করার কথা তুলিনি কখনো। আফজলের ফাঁসি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় যদি সিডিশনের চার্জ আসে তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও তা আসা উচিত, কারণ তাঁর সমর্থনে কাশ্মিরের সরকার চলছে পিডিপি-র নেতৃত্বে। সারা দেশ জানে (টাইমস নাউ, যি নিউজ ছাড়া) আফজলের মৃত্যুতে মোদীর রাজনৈতিক বন্ধু পিডিপি-র অবস্থান। ‘দেশদ্রোহী’দের সঙ্গে মহানন্দে সরকার চালাচ্ছে মোদীর দল—তাতে সিডিশনের বালাই নেই। দেশের আদালতে জাতির জনককে হত্যা করে সাজাপ্রাপ্ত নাথুরামের মন্দির তৈরির কথা বলছেন সঙ্ঘ পরিবার, মোদীজি তার মূর্তির সামনে প্রণত, সাক্ষী মহারাজ প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন নাথুরাম কতো বড় দেশভক্ত—তাতে সিডিশনের বালাই নেই, মোহন ভাগবত বলছেন জাতীয় পতাকার রঙ শুধু গেরুয়া করে দেওয়া হোক, সাদা-সবুজের প্রয়োজন নেই, বলছেন ভারতের আর সেকুলারিজম দরকার নেই—এই কদিন আগেই, শুধু মিডিয়া ওয়ালারা শুনতে পাচ্ছেন না। কানহাইয়া বারবার বলছে, মিটিং-এ, টিভিতে, রাস্তায়—সংবিধানে আমার পূর্ণ ভরসা আছে, বিচ্ছিনতাবাদের বিরুদ্ধে, মনুবাদের বিরুদ্ধে, সামন্তবাদের বিরুদ্ধে আমি লড়তে চাই, মোহন ভাগবত বলছেন জাতীয় পতাকার রঙটাই বদলে দাও (রঙ বদলালে যে ঢং-ও বদলাবে সে কথা সবাই বুঝছে), সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার স্পিরিটকেই চ্যালেঞ্জ করছেন তিনি—অথচ নো সিডিশন। যাদবপুরে যেদিন সঙ্ঘি জঙ্গিরা হামলা চালাতে এসেছিল, এসে ফিরে গেল বাধ্য হয়ে, প্রেমের সামনে যেদিন ঘৃণা হেরে গেল অন্তত এখনকার মতো, সেদিন এক ছেলেমানুষ সঙ্ঘির সঙ্গে কথা বলছিলাম চা-দোকানে। নানা কথার ভিড়ে যখন আফজলের কথা এল, খুনি আফজল –যাকে ফাঁসি দিয়েছে আদালত, যাকে আমি শহীদ মনে করি না, তার কথা যখন এল, সেই ছেলেটি জানাল আফজলের হয়ে যারা কথা বলে তারা দেশের শত্রু। আফজলের প্রতি কোনো সহানুভূতি না রেখেই বলি, আর গডসের সামনে যাঁরা মাথা ঝোঁকায় তারা?  আমাদের প্রধানমন্ত্রী? ছেলেটি ঈষৎ ইতস্তত করে জানায়, গান্ধির মতো নেতা, যিনি দেশভাগ রুখতে পারেননি, তাঁর মরাই উচিত।আচ্ছা বেশ, তাহলে গডসে থাকছেন, আফজল বাদ। ভারতমাতা থাকছেন, সোনি সুরির মুখে অ্যাসিড।

#

আসল দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এবার আজাদির লড়াই। ভুখমারি সে আজাদি, দাংগাইয়ো সে আজাদি। বৃটিশ শাসকের কাছে মুচলেকা দেওয়া, বিশ্বাসঘাতক দেশদ্রোহীদের চিহ্নিত করতে হবে, দেশের পতাকা বদলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে হবে, দেশের প্রতিরক্ষা খাতে ঢালাও বিদেশি বিনিয়েগের মাধ্যমে দেশ বিক্রির চেষ্টা আটকাতে হবে।বনাঞ্চলের অধিকার অরণ্যবাসী মানুষের কাছ থেকে আবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আটকাতে হবে। দেশের অধিয়াংশ মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী এই শক্তিকে আটকাতে হবে যে কোনো মূল্যে।দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ভাঙতে চায় যারা তারাই আসল দেশদ্রোহী। চূড়ান্ত অরক্ষিত অবস্থায় হনুমানথাপ্পাদেরকে যারা ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর সামনে, আর তারপর অপেক্ষা করে থেকেছে তাদের মৃতদেহের জন্য সেই নিপুণ হত্যাকারীরাই আমাদের দেশের শত্রু। দু দেশের সরকার তিন নম্বর দেশে গিয়ে স্থির করেছে যুদ্ধের কৌশল, নিজেদের ফোনালাপে স্থির করেছে যুদ্ধের দিনক্ষণ আর ভান করে গেছে যুদ্ধটা ঘটছে সীমান্তে। পরস্পরকে মেরে দু দেশের সৈনিক আস্তে আস্তে টেনে নিয়ে গেছে নিহত সহকর্মীর লাশ, আর সরকার তৈরি করেছে বীরত্বের গল্প। সেই গল্প প্রচার করে চলেছে পেটোয়া চ্যানেল। সাধারণ মানুষের আবেগে অনুভূতিতে শত্রুর ছায়া বেড়েই চলেছে, সেই শত্রুকে বহন করছি নিরন্তর আমারই অস্তিত্বে, আমারই সত্তায় গেঁথে যাচ্ছে শত্রুর চিহ্ন। হাতের কাছে পাকিস্তান না থাকলে থাকছে মুসলমান। সেই আমার অনুভূত শত্রু। বর্ডার কেবল আর বর্ডারে থাকছে না, সরে আসছে উঠোনে, অফিসে, মালদায়, রাজাবাজারে। আমার চারদিকেই জন্ম নিচ্ছে বর্ডার। প্রতি বর্ডারের ওপাশে শত্রু। থিকথিক করছে শত্রু। একটা মানচিত্রে ঢুকে পড়ছে অজস্র এমন সীমান্ত, গোটা ছবিটাকেই ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে ক্রমশ। একটা বিপন্ন মানচিত্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি স্মরণ করছি আফজল গুরু, সন্ত্রাসবাদী আফজল গুরুর একটা চিঠি , যেখানে সে লিখেছিল, আমি জানি এর পরিণাম, আমি ভালো করেই জানি এর পর কী হবে, জানি আমার পরিজনেরা কী নিদারুণ বিপন্নতায় দিন কাটাবেন, কিন্তু জীবনের গাঢ় সমাচার হল এই যে, সমস্ত অনুভূতিপ্রবণ মানুষই তো এক বিপন্নতার শিকার।

সরকারের, ফ্যাসিস্টদের, সংঘ পরিবারের মানচিত্রে কেবল সীমানাটুকুই জরুরি, ওরা কেবল বাহির নিয়েই ভাবিত, ওদের মানচিত্রে অন্দর নেই, অন্তরও নেই।

#

এতোসব কথা এলো কানহাইয়ার গ্রেফ্‌তার সূত্রে। এলোমেলোভাবেই এলো। কানহাইয়াকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে সারা পৃথিবীই জেনে গেছে। কানহাইয়াকে কোনো একদিন ছেড়ে দিতেই হবে। আইন দিয়ে আটকানো মুশকিল। কিন্তু ফ্যাশিস্টরা তো আইন দিয়েই কেবল আটকাবে না। আইন না মেনে আটকায়, চিন্তার জগতে আক্রমণ শানায়, মিথ্যে প্রচারে গুলিয়ে দিতে থাকে বুদ্ধি—সবরমতী এক্সপ্রেস কিংবা রাইখস্ট্যাগের আগুন সর্বত্রই এক আখ্যান।আর এর সঙ্গে সঙ্গে থাকে কোনো অর্থনৈতিক এজেন্ডা।

কানহাইয়াকে ধরা হয়েছে যে কথা সে বলেনি তার অপরাধে। ফলে সবাই বুঝছে নকল ভিডিয়োর সাক্ষ্যে অন্তত তাকে ধরে রাখা যাবে না বেশিদিন। কিন্তু তারপর কী? আরো তো দেশদ্রোহী চাই। তাও আছে মজুদ। উমর খালিদ। একেবারে খাপে খাপ। ওর সম্পর্কেও প্রচার করে রেখেছি জম্পেশ। প্রথমে প্রচার করেছি ও কাশ্মিরি, কিছুদিন আগেই পাকিস্তান ঘুরে এসেছে, মাঝে মাঝেই পাকিস্তানের প্রচার চালায়। নিজে বলিনি, সর্বভারতীয় মিডিয়াকে দিয়ে বলিয়েছি। মুসলমান আর পাকিস্তান-এ কেবল অন্ত্যমিল নয়, আছে সর্বাত্মক মিল—এই যাঁরা মনে করেন তাঁরা লুফে নিলেন, তাঁদের বিশ্বাস ‘সত্যে’ পরিণত হল। কদিন বাদেই যখন ফাঁস হয়ে গেল এটা মিথ্যে, যখন জানা গেল উমর নাস্তিক, নাগপুরবাসী, জীবনে পাকিস্তান যায় নি, তখন বললাম ওর বাপ মুসলমান, আর ও মাওবাদী। উমরের অপরাধ, ও আফজলের ফাঁসি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, নিজে সন্ত্রাসবাদী না হলে এমন হয়?

দেশদ্রোহীর পতাকা ওরা বইছে সেই কবে থেকেই, বইছিল গোপনে, লুকিয়ে চুরিয়ে; কিন্তু এখন ওদের দেশদ্রোহ প্রকাশ্য, নির্লজ্জ। বিজেপি-র একজন নির্বাচিত এম পি বলছেন দেশের কৃষকদের মধ্যে আত্মহত্যা একটা ফ্যাশন হয়ে উঠেছে, বলছেন এমন একটা সময়ে যখন শুধু এবছর জানুয়ারি মাসেই মহারাষ্ট্রে শতাধিক চাষী খুন করেছেন নিজেকে। আর এস এস প্রধান বলছেন মেয়েদের ঘরের কাজেই ব্যস্ত থাকা উচিত, বাইরের কাজ পুরুষের; বলছেন এমন একটা সময়ে যখন নারী নির্যাতনে আমাদের তুমুল ‘অগ্রগতি’ হচ্ছে, আদিবাসী এলাকায় কাজ করার অপরাধে সোনির সুরির মুখ অ্যাসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আহা কী আরাম, চোখের ভিতরে যখন ঢুকে আসছিল দেশপ্রেমী অ্যাসিড, চামড়ার ভিতর থেকে উঠে আসছিল ব্যথা আর ধোঁয়া, আমরা শিখে নিচ্ছিলাম নতুন সবক।

প্রায় দিন দশেক আড়ালে থাকবার পর আবার সামনে এসেছে জেএন ইউ-এর অভিযুক্ত ছাত্র উমর খালেদ। ঘটনার পর সর্বভারতীয় মিডিয়া এবং বিজেপি-র যৌথ প্রচেষ্টায় যখন সে আর তার বন্ধুরা দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়, তারপর থেকে এই প্রথম প্রকাশ্যে এল ওমর। সারা দেশের সামনে সে এখন প্রমাণ ছাড়াই দেশদ্রোহী। যি নিউজের সাংবাদিক বিশ্ব দীপক একটি বিস্ফোরক চিঠি লিখে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, জানিয়েছেন যে ছবি তাঁরা শ্যুট করেছিলেন সেদিন, সেখানে কোনো ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান ছিল না, ওটা পরে ঢোকানো হয়। একটা মিথ্যে ভিডিয়ো টেপ চালিয়ে অন্যায় ভাবে কানহাইয়া আর খালিদকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল মিডিয়া এবং বিজেপি। আদালতে পৌঁছনোর আগেই সারা দেশ এখন রক্ত দেখতে চাইছে, উমরের রক্ত, তার পরিবারের রক্ত। আর মাত্র কয়েক কদম দূরে উমরের রক্ত, আমাদের হাতগুলো উদগ্রীব, উন্মুখ, এক্ষুনি ছিঁড়ে আনতে হবে উমরের কল্লা। তাতেই যেন তুষ্ট হতে পারে আমাদের অপরাধবোধ, হনুমানথাপ্পাদের প্রতি আমাদের অপরাধ বোধ, যে সমস্ত সৈনিককে আমরা নিরন্তর মেরে ফেলছি সীমানা রক্ষার নাম করে, তাদের প্রতি আমাদের অপরাধ কিছুটা লঘু হতে পারে। উমরকে মারুন, দেশদ্রোহীকে খতম করুন, আসুন আমরা ভারতমাতার শুকনো মুখে একটু জল দিই। খুব চেনা ছকে ওমরের বোনকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে ধর্ষণের, বলা হচ্ছে অ্যাসিডে পুড়িয়ে দেওয়া হবে মুখ। উমর স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তিতি। চিন্তিত আমরা অনেকেই। কিন্তু সেই চিন্তার মাঝেও উমর তাঁর বক্তৃতায় বলেছেন হন্ডা কারখানার শ্রমিকদের লড়াই-এর কথা, বলেছেন হার না মানার কথা, বলেছে্ন আরও অনেকদিন লড়তে হবে আমাদের। বিশ্ববিদ্যালয় যদি ভিন্নমতের অধিকার রক্ষা করতে না পারে তাহলে তা জেলখানায় রূপান্তরিত হয়। ‘আমাদের মেশিনগান নেই, কিন্তু আমাদের চিন্তা আছে—তার মূল্য যতটুকুই হোক তাকে আমরা মহতের দিকে প্রয়োগ করব’—শেষ কথাটা ওমরের নয়, রবীন্দ্রনাথের। ‘প্রলয়ের সৃষ্টি’ নামক এক প্রবন্ধের শেষের দিকে লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু কথাটা উমরের বক্তৃতা প্রসঙ্গে মনে পড়ল।

লড়াইটা খুবই অসম। একদিকে গুটিকতক ছাত্র। নির্ভীক, আদর্শবাদী কয়েকজন তরণ তরুণী আর তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল সাধারণ মানুষ। আর অন্যদিকে গোটা রাষ্ট্র, মিডিয়া, লক্ষ লক্ষ ওয়াটের আলো, চিৎকার, পুলিশ, নকল দেশপ্রেমের গর্ব, রক্তের গন্ধ পাওয়া মাতাল অসহিষ্ণুতা। হ্যান্ড মাইক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকজন ছাত্র মিলে বক্তৃতা দিচ্ছে, বলছে তারা সবরকম বর্ডারের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে, বঞ্চনার বিরুদ্ধে। তাদের কথা খুব সামান্যই এসে পৌঁছচ্ছে বাইরে। এ লড়াই-এর ভবিষ্যত কী? উমর কি জানে না, যে কথা সে বলেনি, তার বন্ধুরা বলেনি সে কথা তাদের মুখে বসিয়ে দিয়ে আসলে যে কথা তারা বলতে চাইছিল তার ন্যায্যতাকে চাপা দিতে চাইছে রাষ্ট্র আর তার সহযোগী মিডিয়া? জানে। এও নিশ্চয় জানে এ লড়াইতে জেতা মুশকিল এক্ষুনি। ডু আই সাউন্ড পেসিমিস্টিক? নো, নট অ্যাট অল। আই ইনভাইট ইউ টু মাই নেক্সট সেন্টেন্সঃ হার নিশ্চিত জেনেও ওরা লড়ে যাচ্ছে—এই দৃশ্যটিতে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে আমার। যে কোনো মুহূর্তে ক্যাম্পাসে ঢুকে আসবে পুলিশ, মারতে মারতে তুলে নিয়ে যাবে থানায়, আদালতে উকিলদের ভিড়ে, বিচারকের সামনেই হয়ত মার খেতে হবে বেধড়ক, তার নিজের দেশের বহু মানুষ তার রক্তের জন্য ছটফট করছে, তার বোনের উপর যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে অ্যাসিড অ্যাটাক—জেনেও উমর বলছেন হন্ডা শ্রমিকদের লড়াইয়ের পাশে দাঁড়ানোর কথা, স্বাধীন চিন্তার প্রয়োজনীয়তার কথা। এর থেকে বড়ো আশার কথা আর কী হতে পারে?

অনেকদিন পরে হয়ত ভারতের মিডিয়া একটি স্বীকারোক্তিতে লিখবে কীভাবে তাদের সাহচর্যে, সহযোগিতায় খুন হয়ে গিয়েছিল একটি ছাত্র, বা খুন হয়ে যেতে বসেছিল–ইতিমধ্যেই কেউ কেউ বলেছেন হাতে পেলে ওমরের হাত পা কেটে ফেলে রেখে দেওয়া হবে।হয়ত তখন নিশ্চিত করে প্রমাণ হবে ভারতকে টুকরো করার স্লোগান কিংবা পাকিস্তান জিন্দাবাদ তাঁরা বলেননি, হয়ত প্রমাণ হবে পরিকল্পনা মাফিক দেশবাসীকে দেশদ্রোহীর রক্ত উপহার দিয়ে আপাতত শান্ত রাখার চক্রান্ত বোনা হয়েছিল, হয়ত অনেকে তখন বলবেন, আমাদের কী দোষ, মিডিয়াতে যা দেখেছি তার ভিত্তিতেই বলেছি ওসব কথা, সব কি আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব? দোষ আমার নয়। তারপর আমরা সবাই আবার নিযুক্ত হয়ে যাব যার যার কাজে, সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে আসব কাশ্মির, আর চিনার বৃক্ষে নতুন করে এসে পড়বে বসন্ত।

গতকাল গোয়ালিয়রে অধ্যাপক বিবেক কুমারের উপর গুলি চালিয়েছেযে দঙ্গল, কারণ তিনি নাকি দেশদ্রোহী, কিংবা আজ যে ‘জনতা’ পুড়িয়ে দিয়েছে সংবিধানের পৃষ্ঠা তাঁরা হয়ত মনে করেন তাতে সুখী হবে ‘ভারতাত্মা’, জ্বলে উঠবে দেশপ্রেম। শুধু সেই ভারতে রোহিত ভেমুলার জায়গা হলনা এই যা, সেই ভারতে কানহাইয়া বা উমর রাষ্ট্রদ্রোহী। হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল ভারতের এক প্রাচীন মহাকাব্যে ভারত সংস্কৃতির প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহীর নামও ছিল কানহাইয়া।

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

3 Responses to মানচিত্রের দুঃখ

  1. কদম বলেছেন:

    খুব ভাবালো।খুব।খুব। আজকেই পাকিস্তান হারলো। দেশপ্রেম গজগজ করছে শরীরে।এই সময় এরম লেখা।।। পুরো পপাতধরণীতল।
    আবার পড়ব অনেক বার পড়ব।জয় হিন্দ।

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s