মুজফফ্‌রনগর বাকি হ্যায়…

 

“বাড়ি বানানোর কাজে সাত্তার ছিল মোটামুটি দক্ষ। দক্ষতার তুলনায় গ্রামের মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা ছিল অনেক বেশি, কারণ সে কখনোই পাওনা মেটানোর জন্য তাগাদা দিত না। আসলে সাত্তারের নিজস্ব জমি ছিল এবং সেই জমির আয় থেকেই সে দিন কাটাতে পারত। ওর আর আমার ক্ষেত ছিল একদম পাশাপাশি। দাঙ্গা শুরু হওয়ার আগের রাতেই সাত্তার আর আমার বাবা একসাথে টিউবওয়েলের ধারে গেছিল। ঠিক দুদিন পর তারাই শত্রু হয়ে যায়।”

এমনটাই জানিয়েছেন প্রবীণ বালিয়া। মুজফ্‌ফরনগরের দাঙ্গা-পীড়িত অন্যান্য মানুষের মতোই প্রবীণের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়েছিল Muzaffarnagar Baqi Hai বানানোর সময়। ২০১৩ সালে উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্‌ফরনগর ও শামলি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যার ফলে ওই দুই জেলা পরিণত হয় এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে। সেই ধ্বংসেরই গল্প বলে এই তথ্যচিত্র। Muzaffarnagar Baqi Hai

ভারতীয় তথ্যচিত্রের ধারায় ‘Communal riots anatomy’ এক সুপ্রতিষ্ঠিত জঁ বলে চিহ্নিত হয়েছে। এই ধরণের তথ্যচিত্রগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করে দাঙ্গার এক অন্য ছবি, যা সরকারি বয়ান বা সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের থেকে পৃথক। এই জাতীয় তথ্যচিত্র ফিরে যেতে চায় গোড়ার কথায়, জানতে চায় দাঙ্গা কবলিত এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার কারণ। প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তারা পায় একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বক্তৃতা অথবা সংবাদমাধ্যমের ভুল প্রচার। দাঙ্গার অন্যরকম ছবি খুঁজতে গিয়ে তাদের ক্যামেরা গিয়ে থামে রিফিউজি ক্যাম্পের ভেতরে। সেখানকার ছবি এবং সেখানকার মানুষের বয়ান ক্যামেরায় ধরা থাকে ভবিষ্যতের জন্য।

ভারতে, সাম্প্রদায়িকতার ফলে সৃষ্ট দাঙ্গা হাঙ্গামার দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে যে এদেশের চলচ্চিত্র জগতে এই দাঙ্গাগুলির উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে বহু তথ্যছিত্র, যেমন দীপা ধনরাজের Kya Hua is Shaher ko?, আনন্দ পটবর্ধনের Ram ke Nam, রাকেশ শর্মার Final Solution ইত্যাদি। সেই পথ অনুসরণ করেই নকুল সিং সাহানে বানিয়েছিলেন Muzaffarnagar Baqi Hai। অন্যান্য বেশ কয়েকটির মতোই ভারত সরকার এই তথ্যচিত্রটিকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। স্পষ্টতই এর কারণ হল,  এই তথ্যচিত্রগুলিই নাকি সাম্প্রদায়িক সাম্য বিঘ্নিত করে থাকে।

সাহানে ও তাঁর দলের প্রচেষ্টায় এই তথ্যচিত্রটি তুলে ধরেছে মুজফ্‌ফরনগর ও শামলী জেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক দাঙ্গা-পীড়িত মানুষের গল্প, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজসেবীদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে নেতাদের মন্তব্য। ২০১৩-র দাঙ্গার পর মুজাফ্‌ফরনগর যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, সেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়েই সাহানে তুলে এনেছেন ঘর-বাড়ি পুড়ে যাওয়ার, মহিলাদের যৌন নিগ্রহের, এবং মৃত্যুর গল্প।

Muzaffarnagar Baqi Hai যে কেবলই সেখানকার সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাদের দুঃখের, দুর্দশার কথা বলে, তাই নয়। দাঙ্গার ঠিক পরেপরেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত একাধিক রাজনৈতিক সমাবেশ, পঞ্চায়েত, এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তৃতা ও ভাষণের ভিডিও ফুটেজের নিষ্ঠাবান সংগ্রহ ও উপস্থাপনা করেছে এই তথ্যচিত্রটি। সেরকমই বেশ কয়েকটা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে যে, ভারতীয় জনতা পার্টির নির্বাচনী প্রচার এবং বিজেপি নেতাদের সকল বক্তৃতাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় প্ররোচনা দিয়েছে। এই ভিডিওগুলির ওপর ভিত্তি করেই সাহানে বলেছেন যে তাঁর মতে মুজাফ্‌ফরনগরের ভয়াবহ দাঙ্গার জন্য প্রধানত ভারতীয় জনতা পার্টিই দায়ী। অপরদিকে, সাহানে এও বলেছেন যে উত্তরপ্রদেশে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টিও দাঙ্গার জন্য সমানভাবে দায়ী। কারণ তারা দাঙ্গা থামানোর বা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো প্রচেষ্টাই দেখায়নি। বরং, বহুজন সমাজ পার্টি থেকে রাহুল গান্ধি থেকে আজম খান, প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছেন বিক্ষোভপূর্ণ এবং অশান্তির পরিস্থিতির যথাসম্ভব ফায়দা লোটার।

তথ্যচিত্রটি চলার সময়ই পরিচালক ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়েন রিলিফ ক্যাম্পগুলির ভিতর, যেখানে তিনি তুলে ধরেছেন অজস্র গ্রামছাড়া, ঘরছাড়া মানুষের জীবনের কথা। যদিও সেই রিলিফ ক্যাম্পে তাঁরা কতটা ‘রিলিফ’ পাচ্ছেন সে প্রশ্ন থেকেই যায়, তবুও তাঁরা নিজের মুখেই নিজের কথা বলতে রাজি হয়েছেন। বলেছেন, আপনজন হারানোর কথা। মৃত্যুর  মুখ থেকে পালানোর কথা। প্রতিনিয়ত লড়াই করে বেঁচে থাকার কথা।

muzz

http://www.thequint.com/india/2015/08/25/muzaffarnagar-baaqi-hai-the-riots-werent-just-about-religion

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির বিরাট মাপের জয় এবং নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের দৃশ্যগুলিই এই তথ্যচিত্রের শীর্ষে স্থান পায়। আবার পরিচালকের দক্ষতায় আমরা দেখতে পাই, সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া। কিছু মানুষের উল্লাস। বাকিদের এক চোখে ভয়, অন্যটায় হতাশা।

পরিচালক নকুল সিং সাহানে মুজাফ্‌ফরনগরে গিয়ে পৌঁছেছেন দাঙ্গা শেষ হওয়ার ঠিক পরে পরেই। মুজাফ্‌ফরনগরের পরিবেশ তখনও বেশ অশান্ত। এরকম সময়ে যে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুজফ্‌ফরনগরের মতো বিক্ষুব্ধ এলাকায় গিয়ে পড়ে থেকে, তথ্য সংগ্রহ করে, সাধারণ মানুষের জন্য তথ্যচিত্র বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা, বলাই বাহুল্য, অত্যন্ত সাহসীকতার পরিচয় এবং প্রশংসনীয়।

বর্তমান কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তে এই তথ্যচিত্রটি ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। দিল্লীর কিরোরি মাল কলেজে এবং পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছবিটির স্ক্রিনিং চলাকালীন বাঁধা দেয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন এভিবিপি। কারণ তারা মনে করে, অবশ্যই আর কিছু নয়, এজাতীয় ছবির প্রদর্শনই কলেজ ক্যাম্পাসে সাম্প্রদায়িক শান্তি বিঘ্নিত করে। এখানে উল্লেখ্য, নকুল সিং সাহানে চলচ্চিত্র নিয়ে লেখাপড়া করেছেন যে FTII থেকে, সেই বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের পদে বিজেপি কর্মী গজেন্দ্র চৌহানের নিয়োগের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা এক সুদীর্ঘ প্রতিবাদে উত্তাল। আর উল্লেখ করতেই হবে রোহিথের কথা। রোহিথ ভেমুলা। কয়েক মাস আগে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিথ সাহানের ছবি দেখাতে চেয়ে বাধা পেয়েছিলেন। যেহেতু সিনেমা, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং একইভাবে সমাজের সকল ক্ষেত্রেই গৈরিকীকরণের ভীষণরকমের প্রভাব দেখা গেছে, সেহেতু বর্তমান সরকার যে তার ভাবাদর্শ বিরোধী সবরকম কার্যকলাপকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। অতএব Muzaffarnagar Baqi Hai-র মতো তথ্যচিত্রগুলি, যা স্পষ্টতই সরকারের দিকে আঙুল তুলে থাকে, তা স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের রোষের মুখে পড়বে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ মজার ব্যাপার হল এই যে, ছবিটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে ধরণের  আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া আদায় করেছে তা এবং সরকার কর্তৃক এর নিষিদ্ধকরণই এই তথ্যচিত্রটির অকাট্যতা প্রমাণ করেছে।

দিল্লীর কিরোরী মাল কলেজে তথ্যচিত্রটির স্ক্রিনিং পর্ব এভিবিপি-র কারণে ব্যাহত হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পরিচালক সাহানে ‘Cinema of Resistance’ (উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে শুরু হওয়া এক মুভমেন্ট যা বাস্তববাদী, সংবেদনশীল এবং অর্থপূর্ণ সিনেমার তৈরি এবং প্রদর্শনী সমর্থন করে) –এর সঙ্গে একজোট হয়ে দেশজুড়ে বিনামূল্যে তথ্যচিত্রটির কপি বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলেই ভারতের পঞ্চাশটিরও বেশি শহরে ও গ্রামাঞ্চলে সেন্সরশিপ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছবিটি প্রদর্শিত হয়।

ছবিটির শুরুতেই পরিচালকের ভয়েস ওভারের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, মুজফ্‌ফরনগরের ইতিপূর্বে অজ্ঞাত কিছু ঐতিহাসিক তথ্য। এই মুজাফ্‌ফরনগরই একসময় মানুষের কাছে পরিচিত ছিল ‘মহাব্বতনগর’ নামে। মহাব্বতনগর – অর্থাৎ ‘ভালোবাসার শহর’। এমনটাই মনে হতো মুজফ্‌ফরনগরের তৎকালীন ছবি দেখে, যখন হিন্দু ও ইসলাম ধর্মাবলম্বী চাষিরা এবং সাধারণ মানুষ একে অপরের পাশে থেকে, একে অপরের হাত ধরে রাজনৈতিক অরাজকতার বিরুদ্ধে অসংখ্য সংগ্রামে সফল হয়েছেন। যা প্রধানতই ভারতের কিষাণ ইউনিয়ানের সংগ্রাম বলেই জানা গেছে। অথচ কী সহজেই ২০১৩-র দাঙ্গার কারণে মুজফ্‌ফরনগরের শিরদাঁড়া ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে কিছু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এমনই তার প্রভাব যে এই সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ সমূলে উপড়ে ফেলার পক্ষে আমরা হঠাৎই কয়েক কদম পিছিয়ে পড়েছি।

তথ্যচিত্রের মাধ্যমে পরিচালক যে প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করেছেন, তা হল পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিৎ? What next? অর্থাৎ এর পর কী? শুধু প্রশ্ন তোলাতেই থেমে না থেকে, তিনি তাঁর মতাদর্শ অনুযায়ী একটা সম্ভাব্য সমাধান দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন। তথ্যচিত্রের শেষের দিকে আমরা দেখতে পাই, একদল বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষ- যাঁরা বিপ্লবী ভগত সিং-এর ছবি হাতে মুজাফ্‌ফরনগরের অলিগলি তে স্লোগান দিতে দিতে হেঁটে যাচ্ছেন। সেই মিছিল ডাক দেয় এক ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের। পরিচালকের স্বীকারোক্তি অবলম্বনে আমরা বুঝতে পারি যে, ছবিটির দু’রকমের শেষ হতে পারত। তিনি সহজেই নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণের দৃশ্যের সাথেই তথ্যচিত্রটি সমাপ্ত করতে পারতেন। কিন্তু করেননি। যদিও কোনো নির্দিষ্ট বামপন্থী সংগঠনের পক্ষে কোনো কথাই তিনি বলেননি, তথাপি তিনি কোথাও গিয়ে এটাই হয়তো স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, বামপন্থাই একমাত্র সমাধান।

২৮ বছর আগে, ১৯৮৬ সালে, Kya Hua is Shaher ko? বানানো হয়েছিলো ১৯৮৪ সালের হায়দ্রাবাদ দাঙ্গার ওপর ভিত্তি করে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বানানো হয়েছিল Ram ke Naam। তারপরই গোধরা দাঙ্গার ওপর বানানো হয় Final Solution ২০০২ সালে। এহেন সকল অথ্যচিত্রই তাদের সমসাময়িক প্রেক্ষিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি দাদরি হত্যাকান্ডে মহম্মদ আখলাখের মৃত্যুর পর ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে Muzaffarnagar Baqi Hai-এর মতো তথ্যচিত্রগুলির প্রাসঙ্গিকতা বৃদ্ধি পায়।

এই ভয়াবহ গৈরিকীকরণ ও সকল ফ্যাসিবাদী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় হল এই ধরণের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও হিংসার তথ্য, যা সাধারণত সরকারের দ্বারা দমিত হয়ে এসেছে, তা ভারতের গ্রামে, শহরে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া। আর আমরা যারা ছবিটা দেখার সুযোগ পেয়েছি, তাদের একান্ত দায়িত্ব হল ছবিটিকে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোন পথে এগোনো উচিৎ সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে যাতে তাদের খানিক সুবিধে হয়।


লেখাটি লিখেছেন দ্যুতি সাহা

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

2 Responses to মুজফফ্‌রনগর বাকি হ্যায়…

  1. কদম বলেছেন:

    খুব ভালো চিন্তা। আজকের দিনে ক্ষমতায় থাকার জন্য ক্ষমতাধরদের এক অমোঘ অস্ত্র – দাঙ্গা ।এবং এই সমস্যা এতটাই প্রাসঙ্গিক এখন যে দাদরি মত ঘটনা এখনো ঘটানো হয়।তবে আমার এখনো এই ডকু দেখা বাকি হ্যয়।

    Like

  2. Kiran বলেছেন:

    From personal experience,I can say it with assurance,the writing couldn’t have been more real. Great work.

    Like

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s